সময় কলকাতা ডেস্ক:- রাতের আঁধারে নির্লজ্জের মতো ভারতে হামলা পাকিস্তানের। দেশের একাধিক এলাকা লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়ল পাক সেনা। তবে তাদের এই নাশকতার উদ্দেশ্য আবারও ব্যর্থ করেছে ভারত। তাদের এই নাশকতার উদ্দেশ্য রুখে দিল ভারতের এয়ার ডিফেন্স।
যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়ে ভারত-পাকিস্তান। পহেলগাঁও হামলা থেকে শুরু। বেছে বেছে হিন্দু পুরুষদের নিধন করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। মুছে দিয়েছিল স্ত্রীদের সিঁদুর। সেই সিঁদুরের বদলা নিয়েছে ভারত। ১৫ দিনের মধ্যেই অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছে ভারত। পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে ঢুকে ৯ টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। কিন্তু পাকিস্তানের বেয়াদবি থামেনি তাতেও। ৯ মে-র রাত ৮ টার পর থেকেই ভারতের উপরে লাগাতার হামলা চালায় পাকিস্তান। জম্মু, রাজস্থান ও পাঞ্জাবের একাধিক এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা ৪৫ মিনিট থেকে পাকিস্তানের তরফে চালানো হয় একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জম্মুতে সাইরেন বাজিয়ে ব্ল্যাকআউট করে দেওয়া হয়। জম্মু অঞ্চলে পাকিস্তান সেনা হঠাৎ করে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালায়।
জানা যায়, পাকিস্তান সেনা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে জম্মুর একাধিক এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। জম্মুর সিভিল এয়ারপোর্ট, সাম্বা, আরএস পুরা, আর্নিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলে টার্গেট করে মোট আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। কাশ্মীর, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের মতো তিন রাজ্যকে নিশানায় এনে হামলার চেষ্টা করে পাকিস্তান। এর পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ভারতও। ভারতের শক্তিশালী এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং অন্যান্য মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে অন্তত ৮ টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গুলি করে নামানো হয় ২ টি পাকিস্তানি ড্রোন। জম্মু সিভিল এয়ারপোর্টেও একটি ড্রোন আছড়ে পড়ে। পাঞ্জাবের পাঠানকোট ও রাজস্থানের জয়সলমীরেও ড্রোন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। চণ্ডীগড়েও বাজে সতর্কতামূলক সাইরেন।
এই আগ্রাসনের পর ভারত কোনও সময় নষ্ট না করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় পাকিস্তানের ভিতরে। লাহোর, শিয়ালকোট-সহ পাকিস্তানের সাত শহরে পাল্টা আঘাত হানে। এমনকী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ইসলামাবাদের বাড়ির পাশেও বিস্ফোরণ হয়েছে। শরিফের বাড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরেই বড়সড় মাপের বিস্ফোরণ হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, জম্মু, পাঠানকোট ও উধমপুরের সেনাঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে পাকিস্তান থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো হয়। তবে এগুলি এসওপি অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
ভারতের আকাশসীমায় পাকিস্তানের যে তিনটি যুদ্ধবিমান ঢুকেছিল তার এক পাইলটকে নিজেদের কব্জায় নিয়েছে ভারতীয় সেনা। জয়সালমীরে নামানো হয় পাকিস্তানের এফ -১৬ বিমানকে। ওই বিমানের পাইলটকে জীবন্ত অবস্থায় ধরে ভারত। যুদ্ধ আবহে পাক পাইলটের ধরা পড়ায় ভারত অবশ্যই বড় মাইলেজ পেল। এদিকে, ধ্বংস করা হয়েছে পাকিস্তানের দু’টি জেএফ ১৭ যুদ্ধবিমানও।
ধ্বংস করে দেওয়া হয় পাকিস্তানের ফ্লাইং র্যাডার সিস্টেম। বৃহস্পতিবার পাকিস্তান হামলা চালাতেই, প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের ফ্লাইং র্যাডার ধ্বংস করেছে ভারত। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ঢুকে এই র্যাডার ধ্বংস করে ভারত। এরফলে পাকিস্তান এখন দিশেহারা। আকাশপথে ভারত হামলা চালালেও, তা বুঝতে পারবে না পাকিস্তান। তাদের কাছে প্রতিরোধের ক্ষমতাই নেই।
রাতভর দেশের সুরক্ষা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিন বাহিনীর প্রধান ও চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পরিস্থিতির বিস্তারিত জানাতে দেখা করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিএসএফ, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ-সহ সমস্ত আধাসামরিক বাহিনীর ডিজিদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মার্কিন বিদেশ সচিব রুবিও’র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ভারতের ‘টার্গেটেড ও মেজার্ড’ প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও বৈঠক করেন এবং জানান, ভারত যুদ্ধ বাড়াতে চায় না, কিন্তু নিজের ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেবে। যুদ্ধ বিশ্লেষকদের দাবি, পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখন হামাসের মতো আচরণ করছে। এমনকী পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং হামাসের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি করা হয়েছে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার