Home » পুলিশি তলবের খাঁড়ার মধ্যেই বোর্ডের শো-কজ! অস্বস্তিতে কর্মহারারা

পুলিশি তলবের খাঁড়ার মধ্যেই বোর্ডের শো-কজ! অস্বস্তিতে কর্মহারারা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- এক দিকে কলকাতা হাইকোর্টের মৌখিক বক্তব্য, অন্যদিকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের শো-কজ, সঙ্গে পুলিশি তলবের খাঁড়া, তিন ফলায় আপাতত বিদ্ধ বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানরত কর্মহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা চেয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। এখনও তার জবাব আসেনি। এরই মধ্যে পর্ষদের শো-কজ লেটার হাতে পেয়েছেন আন্দোলনকারীদের অনেকে।

শিক্ষকদের নিয়োগকর্তা মধ্যশিক্ষা পর্ষদই।

সেই সূত্রে তারা জানতে চেয়েছে, গত ১৫ মে কী ভাবে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িয়ে পড়লেন এঁরা? এতগুলো মানুষকে কেন আটকানো হলো? সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে দপ্তর সূত্রে খবর। শিক্ষা দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ জনের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করেছে বোর্ড। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রথম সারির নেতা চিন্ময়, মেহেবুব ও সুমন বিশ্বাসের নামেও নোটিসে রয়েছে বলে খবর।

বুধবার সেই মামলারই শুনানি ছিল হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। মামলাকারীদের বক্তব্য, ঘটনার দিন তৃণমূলের লোকজন হাজির হয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেন। অথচ পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। উল্টে ডেকে পাঠানো হয়েছে আন্দোলনরত টিচারদের।

আদালত অবশ্য জানিয়েছে, তাঁদের হাজিরা দিতেই হবে। প্রথম দু’দিন বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরা এড়ালেও এ দিন আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ স্টেশনে যান পাঁচ শিক্ষক। সঙ্গে ছিলেন আরও অনেকে। ডাক পেয়েছিলেন আন্দোলনের নেতা মেহবুব মণ্ডলও। তিনিও এ দিন থানায় যান। যদিও চাকরিহারাদের দাবি, যখন চাকরি চুরি হচ্ছিল তখন পুলিশের এই ‘তৎপরতা’ চোখে পড়েনি। তা হলে এখন কেন!

চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীদের ডাকে গত ১৫ মে ‘বিকাশ ভবন ঘেরাও’–এ ধুন্ধুমার বাধে। গেট ভেঙে কার্যত ওই সরকারি ভবনের দখল নেন চাকরিহারারা। অবরুদ্ধ বিকাশ ভবনে রাত পর্যন্ত আটকে পড়েন শ’য়ে শ’য়ে সরকারি কর্মী, অফিসার থেকে শুরু করে ভিজ়িটররা।

রাতে লাঠি, ঘুষি ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিল্ডিং অবরোধমুক্ত করে পুলিশ। তার আগেই অবশ্য সেখানে টানা ধর্না শুরু হয় চাকরিহারাদের। সে দিনের ঘটনায় বেশ ক’জন শিক্ষককে তলব করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দু’জন শিক্ষক কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

বুধবার আদালত মৌখিক ভাবে জানিয়েছে, বিকাশ ভবনের সামনে বিক্ষোভরতদের থানায় হাজিরা দিতেই হবে। তবে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। একই সঙ্গে হাইকোর্ট জানিয়েছে, বিকাশ ভবনের সামনের জমায়েতে লোকসংখ্যা কমাতে হবে। বড় জমায়েতের জন্য অন্য কোনও জায়গা খুঁজতে বলা হয়েছে এঁদের। এজলাসে উঠে আসে বিকল্প জায়গা হিসেবে সেন্ট্রাল পার্কে মেলার মাঠের প্রসঙ্গ।

About Post Author