সময় কলকাতা ডেস্ক:- কিছুতেই যেন সামলে উঠতে পারছে না বাংলাদেশ৷ গত বছর আগস্ট মাসে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী গণ আন্দোলনের মুখেই পতন হয়েছিল শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর আন্দোলনকারীরাই মিলে তৈরি করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে বসানো হয় নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুসকে। এবার খোদ উপদেষ্টার আসনেরই টলোমলো অবস্থা৷ শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের দেওয়া চাপের মুখে নাকি পদত্যাগ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন সে দেশের নোবেলজয়ী উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস৷
তাহলে কি ইউনুসের পদত্যাগ এখন সময়ের অপেক্ষা? বিশ্ব রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে। প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে মহম্মদ ইউনুস শেষ পর্যন্ত সরে যাবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বৃহস্পতিবার তিনি দিনভর উপদেষ্টা, পদস্থ আমলা, কূটনীতিক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসারদের সঙ্গে আলোচনায় পদত্যাগ করে সরে যাওয়ার কথা বলেছেন। রাজনৈতিক দলগুলি ইউনুসের এই ভাবনাকে নাটক বলে সন্দেহ করলেও তিনি যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা মনে করছেন মহম্মদ ইউনুস দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ। তিনি নিজেও মনে করছেন দেশে অরাজক পরিস্থিতি চলছে।
একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের বলেছেন, তিনি সরে গেলে বাকিরা মিলে যেন একটি নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে দেশের অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। সেই সঙ্গে ইউনুস উপদেষ্টাদের বলেছেন, দেশের শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নেই। ভোট হলে অতীতের মতোই ব্যালট ছিনতাই, আগের রাতে ভোট ইত্যাদি হবে।
এবার প্রশ্ন হল, ইউনুসের বক্তব্য যদি নাটক না হয়ে সত্যিই তিনি সরে যান সে ক্ষেত্রে কী হবে। অনেকেই মনে করছেন, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রাষ্ট্রপতির হাতে দুটি বিকল্প রয়েছে।
এক, তিনি ফের সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিয়ে আর একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে পারেন। সেই সরকারের কাজ হবে কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংগঠিত করা।
দুই, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪১-ক অনুচ্ছেদ বলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাপ্রধানকে দিয়ে মার্শাল বা সেনা আইন চালু করতে বলতে পারেন। জরুরি অবস্থা জারির জন্য অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর আগাম সম্মতি নিতে হয়। তবে দেশে যেহেুতু এখন প্রধানমন্ত্রী নেই, তাই রাষ্ট্রপতি একক উদ্যোগে এগোতে পারেন।
কয়েকজন উপদেষ্টাকে দিয়ে আপাতত দেশ চালাতে পারেন তিনি। তাতে মৌলিক অধিকার বাতিল হয়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন নির্বাচন করানো হবে। বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক নেতাও মনে করেন, চলতি পরিস্থিতিতে সেটাই সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আওয়ামী লিগ কী চাইছে?
ওই দলের নেতারা কয়েক মাস ধরেই দাবি করে আসছেন, দেশে একটি জাতীয় সরকার হোক। যেমনটা করা হয়েছিল ২০০৭-২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। সেনা সমর্থিত সেই সরকার আওয়ামী লিগ-সহ সব দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করুক। শেখ হাসিনা-সহ দলের নেতাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি সহ দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হোক। নতুন সরকার একটি কমিশন গঠন করে দিক। সেই কমিশনে যদি কোনও নেতা অভিযুক্ত হন তাহলে তাঁকে শাস্তির আওতায় নেওয়া হোক। দল নিষিদ্ধ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাতিল করা হোক।
অনেকেই চাইছেন, যা করার ১০ জুনের আগে করতে হবে। কারণ, ১০ জুনের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি হওয়ার কথা। ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান উপদেষ্টামণ্ডলী বহাল থাকলে তারা জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করে সংবিধান স্থগিত করে দিতে পারেন। তখন রাষ্ট্রপতিকেই সরিয়ে দিতে পারে সরকার। রাষ্ট্রপতি সরে গেলে সেনাপ্রধানকেও অপসারণ সহজ হয়ে যাবে। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনুস সত্যিই সরে যাবেন কিনা। সেনা প্রধানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সেনা প্রধান অন্তর্বর্তী সরকারের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সেনা প্রধানের প্রকাশ্য অনাস্থার পর প্রধান উপদেষ্টা পদে ইউনুসের থাকা নিয়ে সম্মান-অসম্মানের প্রশ্ন জড়িয়ে গিয়েছে। অনেকে তাই মনে করছেন, সরে যাওয়ার কথা বলে ইউনুস আসলে সময় পার করছেন। তিনি সুযোগ খুঁজছেন সেনাপ্রধানকে সরানোর। এখন দেখার কে থাকেন, কে বিদায় নেন।


More Stories
জার্সিতে যৌন অপরাধে প্রাক্তন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
বিপত্তারিণী রক্ষাকবচ, অবশেষে হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য খুলে গেল, রান্নার গ্যাস আসছে
ইরানের নয়া শীর্ষ নেতা মোজতাবা খামেনি কেন বিতর্কিত?