সময় কলকাতা ডেস্ক:- ফের চোখ রাঙাচ্ছে মারণ ভাইরাস, কোভিড-১৯। ২০১৯ সালের সেই ভয়াবহতা, মৃত্যু, লকডাউনের ঘা এখনও দগদগে। সেই স্মৃতিকে ফের উসকে দিল ২০২৫। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) কোভিডের নতুন ৪ ভ্যারিয়ান্ট ছড়িয়ে পড়ার খবর নিশ্চিত করেছে। চারটি ওমিক্রন সাবভেরিয়েন্ট – এলএফ.৭, এক্সএফজি, জেএন.১, এবং এনবি.১.৮.১ – পাওয়া গিয়েছে ভারতে। এবারও আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি কেরলে।
জানা গিয়েছে, ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০০০ পেরিয়েছে। দেশের মধ্যে কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কেরালায়। সেখানে ৪৩০ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, বাংলা এবং কর্ণাটকে মোট ৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যদিও তাদের অনেকের অন্যান্য গুরুতর রোগও ছিল।
তবে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হল, আন্দামান ও নিকোবর, অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মতো অনেক রাজ্যে বর্তমানে কোনও সক্রিয় কোভিড-১৯ কেস নেই। পাশাপাশি রাজধানীতে প্রায় তিন বছরে প্রথমবারের মতো একদিনে সর্বাধিক কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে দিল্লিতে ১০৪ জন সক্রিয় রোগী আছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব রোগী স্থিতিশীল এবং তারা বাড়িতে থেকেই সুস্থ হচ্ছেন।
কোভিডের নতুন ভ্যারিয়ান্ট জেএন.১ কোভিড-১৯, ‘এটি একটি মাইল্ড ভ্যারিয়েন্ট, তা ছড়িয়ে পড়তে পারে খুব দ্রুত, কিন্তু এটি গুরুতর অসুস্থতার কারণ নয়’ বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই ভ্যারিয়ান্টটি নতুন নয়। এটি গতবছরও ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আমরা যে উচ্চ-গ্রেডের ফ্লু সংক্রমণ দেখেছি তা আসলে কোভিডই ছিল, কিন্তু আমরা তখন এটি নিশ্চিত করতে পারিনি। সৌভাগ্যক্রমে বেশিরভাগেরই ওপিডি-তে সুরাহা হয়েছিল।
সরকারি তথ্য বলছে, আঁতুড়ঘর সেই কেরল। সে রাজ্যে এই মুহূর্তে সংক্রমিতের সংখ্যা ৪৩০। ১৯ মে-র পর, কয়েকদিনে সংক্রমণ বেড়েছে ৩৩৫। মহারাষ্ট্রে সংক্রমিতের সংখ্যা ২০০ পার। ১৯ মে-র পর সে রাজ্যে এক ধাক্কায় ১৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। দিল্লিতে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ১০৪। ১৯ মে-এর পর নতুন করে ৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন দিল্লিতে। গুজরাটে ১৯ মে-র পর নতুন করে ৭৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সে রাজ্যে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ৮৩। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের মধ্যে কেরলে সম্প্রতি করোনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের।
করোনার নতুন ঢেউয়ের মধ্যেই ভারতে খোঁজ মিলেছে এনবি.১.৮.১ এবং এলএফ.৭, ধরনের ভ্যারিয়েন্টের। ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এলএফ.৭ এবং এনবি.১.৮.১ সাবভেরিয়েন্টগুলিকে ভ্যারিয়েন্ট আন্ডার মনিটরিং হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, ভ্যারিয়েন্ট অফ কনসার্ন বা ভ্যারিয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট হিসাবে নয়। কিন্তু চিন এবং এশিয়ার নানা জায়গায় এই ভ্যারিয়েন্টের হদিশ মিলেছে ইতিমধ্যে।


More Stories
ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রভাব কোথায়? বিরোধিতা কেন?
১৫ আগস্ট ইনডিপেনডেন্স ডে নয়, অর্থ গুলিয়ে ফেলে নতুন সংজ্ঞা শান্তনু ঠাকুরের
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!