সময় কলকাতা ডেস্ক:- মঙ্গলবার রাতে পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে আইপিএলের ফাইনালে ট্রফি জেতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসানে আবেগের বিস্ফোরণ। প্রিয় তারকাদের কাছ থেকে দেখার হাতছানি। বিনামূল্যে বিজয়োল্লাসে শামিল হওয়ার সুযোগ। তবে চোখের পলকে আইপিএল জয়ের সেই উৎসব বদলে যায় বিষাদে। বেঙ্গালুরুতে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু ১০ জনেরও বেশি মানুষের। আরও অন্তত ৩৫ জনের বেশি মানুষ আহত। হাসপাতালে যমে-মানুষে টানাটানি অবস্থা রয়েছে আরও অনেকের। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে ইতি উতি পড়ে থাকতে দেখা যায় মৃত, আহতদের চপ্পল! ঠিক কীভাবে ঘটল বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের সামনের দুর্ঘটনা?
গোটা ঘটনায় প্রশ্নের মুখে কর্ণাটক সরকার। নেপথ্যে প্রশাসনের গাফিলতি যে রয়েছে সেটা অবশ্য অস্বীকার করছে না পুলিশ। তবে ঘুরিয়ে রাজ্য প্রশাসন দোষী করছে আবেগে ভেসে যাওয়া সমর্থকদেরই। বুধবার কোহলিয়ানার সেলিব্রেশন চাক্ষুষ করতে সকাল থেকেই স্টেডিয়ামের বাইরে পালে-পালে জনতা জড়ো হচ্ছিলেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তায় বাড়তে থাকে যানজট। যদিও স্টেডিয়ামের ভিতরে প্রবেশের আলাদা পাস দিয়েছিল কর্নাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন।
কিন্তু, অনুষ্ঠান দেখতে কয়েক লক্ষ মানুষ চলে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা ছিল অনেক কম। ফলে ভিড় সামলাতে নাজেহাল অবস্থা হয় তাঁদের। স্টেডিয়ামের গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য মানুষ দ্রুত ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ছবিটা মুহূর্তে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে। প্রাণে বাঁচতে সমর্থকরা একে-অপরকে টপকে পালাতে যান। সমস্যা আরও বাড়ে। আর তখনই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। সরকারের তরফে ইতিমধ্যে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। যেখানে দেশজুড়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর লক্ষ লক্ষ সমর্থক রয়েছে সেখানে বিজয় উৎসবে উপচে পড়া ভিড় হবে, জানার পরও কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়নি? উঠছে সেই প্রশ্নও।
ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করে সোশ্যাল মাধ্যমে বিরাট কোহলি লিখেছেন, অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ঘটনা! সরকারের দাবি, বিনামূল্যে স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়াটাই কাল হয়েছে। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩৩ হাজার। কিন্তু সেখানে দু’তিন লক্ষের বেশি মানুষ প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তার ফলে স্টেডিয়ামের ছোট দরজা ভেঙে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার দাবি, এত মানুষ চলে আসবেন, ভাবতে পারেনি প্রশাসন। এই দুর্ঘটনার মাঝেই আবার আজব দাবিও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। বলেছেন, এই ধরনের বড় জমায়েতে দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়াটা নতুন নয়। কুম্ভ মেলাতেও ৫০-৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকার যাই বলুক, প্রত্যক্ষদর্শীরা পুরোপুরি অব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন।
তাঁদের অভিযোগ, ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ পুলিশ, মেলেনি অ্যাম্বুল্যান্স, ছিল না ন্যূনতম ব্যবস্থাপনা। পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। আবার আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার মতো অ্যাম্বুল্যান্সও ছিল না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল কিছু ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশকর্মীরা আহতদের কোলে করে নিয়েই ছুটছেন। আবার কাউকে কাউকে ওই ভিড়ের মধ্যেই সিপিআর দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত গাফিলতির জায়গাটা স্পষ্ট।
বিরোধীরা তোপ দাগতে ছাড়ছে না। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলেছেন, ‘এই ট্র্যাজেডি অপরাধমূলক গাফিলতি। কংগ্রেস সরকার দু’হাতে রক্ত মেখেছে। এটা কোনও দুর্ঘটনাই নয়, সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’। অন্য বিরোধীরাও তোপ দাগছে কর্ণাটক সরকারকে।
এসবের মাঝেই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যবেক্ষণে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে তারা রিপোর্ট দেবে। বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে কর্ণাটক সরকার।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে