সময় কলকাতা ডেস্ক:- বুধবার পুরীর পাশাপাশি দেশ জুড়ে পালিত হল জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার অনুষ্ঠান। দিঘার নতুন মন্দিরে এ বারই প্রথম স্নানযাত্রা হল। মঙ্গলবার থেকেই ব্যস্ত মন্দিরের লোকজন। নতুন মন্দিরের রথযাত্রা দেখতে ভিড় করেছেন পর্যটকরাও। যদিও গত সপ্তাহান্তে পর্যটকদের প্রবল ভিড় ছিল দিঘায়। প্রশাসনের দাবি, গত দশ বছরে এ বার দিঘায় রেকর্ড ভিড় হয়েছিল।
পাহাণ্ডিবিজয় হলো স্নানযাত্রার আগে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে পাল্কিতে বা ভক্তদের কাঁধে চাপিয়ে কীর্তন, নানা বাদ্যযন্ত্র সহযোগে শোভাযাত্রা করে স্নান মণ্ডপে নিয়ে আসা। পাহাণ্ডিবিজয় এই মন্দিরে এ বার একদম নতুন। ফলে মন্দির চত্বরে এদিন চরম ব্যস্ততা দেখা গিয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, স্নানযাত্রাতেও বহু মানুষ অংশ নিয়েছেন। এর জন্য বিশেষ জায়গা তৈরি করা হয়েছে। ওই মণ্ডপে বসেই ভক্তরা স্নানযাত্রা দেখেন বুধবার।
স্নানের বেদির পাশেই মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। আজ, বুধবার সকাল ৯টায় স্নানযাত্রা অনুষ্ঠান শুরু হয়। আজ সারাদিন ধরেই চলবে বিশেষ পুজো–পাঠ। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মায়াপুর থেকে ২৫ জন ব্রহ্মচারী দিঘায় এসেছেন। ১০৮টি কলসিতে বিভিন্ন তীর্থস্থানের নদীর জল, পঞ্চামৃত মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে জগন্নাথের স্নানের জল। ইস্কন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই জলে মেশানো হবে ফলের রসও। মাটি ও পেতলের ১০৮টি কলসি জোগাড় করা হয়েছে। ১১টা নাগাদ স্নান করানো হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে। এরপর দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে সাজসজ্জা।
এরপর জগন্নাথ ও বলরামের হস্তিবেশ আর সুভদ্রার পদ্মবেশ হবে। ১২ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত জগন্নাথ থাকবেন নিভৃতবাসে। ২৬ জুন নেত্র উৎসবের পর দর্শন দেবেন তিনি আর ২৭ জুন রথে চেপে তিন জন যাবেন মাসির বাড়ি। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পুজোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইস্কনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস বলেন, ‘দিঘাতে নদী বা বিশেষ কুণ্ড নেই। স্থানীয় ভাবে প্রাপ্ত জলের সঙ্গে নানা উপাচার মিশিয়ে স্নানের জল তৈরি করা হয়। মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিন যে ভাবে ভক্তদের ভিড় বাড়ছে তাতে রথযাত্রার দিন প্রচুর ভিড় হবে বলে মনে হচ্ছে।’


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?