Home » ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা ‘জটিল’, স্বীকার করল চিন, আলোচনায় আগ্রহী বেজিং

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা ‘জটিল’, স্বীকার করল চিন, আলোচনায় আগ্রহী বেজিং

সময় কলকাতা ডেস্ক:- গত ২৬ জুন চিনের কিংডাওতে সাংহাই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা কমাতে সদর্থক পদক্ষেপ ও সীমান্তের বর্তমান সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় আলোচনার পক্ষে বার্তা দেন তিনি। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিবাদ মেটাতে দুই দেশের স্বার্থ বজায় রেখে রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাজনাথ সিংয়ের সেই বার্তার পরেই সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং-কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

নিং বলেন, ইতিবাচক বিষয় হল দুই দেশ ইতিমধ্যে সীমান্ত সমস্যা মেটাতে ও শান্তি বজায় রাখতে বিভিন্ন স্তরের একাধিক বৈঠক করেছে। তবে এই সমস্যা অত্যন্ত জটিল যা মেটাতে সময় লাগবে। তবে সীমান্তে শান্তির লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণে আলোচনায় আগ্রহী চিন। আশা করা যায়, ভারত চিনের সঙ্গে এই লক্ষ্যে কাজ করবে। জটিল সমস্যাগুলি মেটাতে আলোচনা প্রক্রিয়া, জারি থাকবে। যাতে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের আলোচনার একটি ফোরাম রয়েছে এবং সেখানে ‘রাজনৈতিক মানদণ্ড ও দিশা নির্দেশক নীতি’ নিয়ে একমত হওয়া গিয়েছে।

তাঁর কথায়, চিন আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী। শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সীমান্ত রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করতে চিন প্রস্তুত।

গালওয়ান সংঘাতের পর সীমান্ত সমস্যা মেটাতে দফায় দফায় আধিকারিক পর্যায়ের বৈঠক করেছে দুই দেশ। গত ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে ২৩তম এসআর স্তরের বৈঠক হয়, যা ২০২০-র লাদাখ সংঘর্ষের পর প্রথম এই স্তরের আলোচনা ছিল। সেই বৈঠকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে হওয়া বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দেশই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেয়।

এর ফলে ওই এলাকায় টহল এবং গবাদি পশু চারণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে কুইংদাওয়ের বৈঠকে রাজনাথ সিংহ আরও এক ধাপ এগিয়ে পহেলগামের জঙ্গি হামলা এবং পাকিস্তানে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গও তোলেন। চিনের তরফে অবশ্য সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মাও নিং শুধু বলেন, আশা করা যায়, ভারতও চিনের সঙ্গে একই পথে চলবে এবং যোগাযোগ অব্যাহত রেখে সীমান্তে শান্তি রক্ষায় কাজ করবে।

About Post Author