Home » ঘটনা ঘটিয়ে দুই প্রভাবশালীকে ফোন মনোজিতের! তাঁরা কারা?

ঘটনা ঘটিয়ে দুই প্রভাবশালীকে ফোন মনোজিতের! তাঁরা কারা?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- কসবা ল’কলেজে গণধর্ষণের ঘটনার পরে দক্ষিণ কলকাতার দুই প্রভাবশালীকে ফোন করে কি ‘প্রোটেকশন’ চেয়েছিল মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র? সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না লালবাজার।

কারণ, মনোজিৎ ওরফে ম্যাঙ্গোর ফোনের কল লিস্ট সূত্রে তেমনই তথ্য উঠে আসছে। দু’পক্ষের মধ্যে ঠিক কী কথা হয়েছিল, সে বিষয়ে জানতে দফায় দফায় অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

নির্যাতিতা পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন তা বুঝতে পেরে মনোজিৎ আইনি পরামর্শ নিতে এক আইনজীবীকেও ফোন করেছিল। এমনকী, ঘটনার পরে অভিযুক্তের সঙ্গে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালের যোগাযোগের তথ্যও গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর।

গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ জুন রাতে। এর পর, মনোজিৎরা বালিগঞ্জে চলে যায়। ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে এমনই তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। কার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল অভিযুক্তরা, সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই সঙ্গীকে নিয়ে মনোজিৎ কলেজ থেকে বেরিয়ে রাতের খাবার খেয়ে বালিগঞ্জে গিয়েছিল। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, মনোজিৎ যাঁদের ফোন করেছিল, তাঁদের সঙ্গেই কি দেখা করতে গিয়েছিল?

নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ইউনিয়ন রুম ছাড়াও গার্ডরুমে নিয়মিত মদের আসর বসালেও মনোজিৎ ঘটনার রাতে গার্ড রুমকেই ব্যবহার করেছিল। এর পিছনে বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত যা তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে উঠে এসেছে, ঘটনার রাতে নিরাপত্তারক্ষী পিনাকীর কাছে মনোজিৎ জানতে চায়, ‘গার্ডরুম খালি আছে? ভিতরে জল পাওয়া যাবে?’

পিনাকী পাল্টা প্রশ্ন করলে মনোজিৎ তার হাতে টাকা গুঁজে দিয়ে বলে, ‘ভিতরে কী করব, তা জানার দরকার নেই।’ অভিযোগ, বেশি প্রশ্ন করায় গার্ডকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেয় সে। জেরায় পুলিশকে পিনাকী জানিয়েছে, এরপর সে বাইরে চা খেতে চলে যায়।

ফিরে এসে দেখতে পায়, ধৃত জেব আহমেদ ও প্রমিত দু’জনে বাইরে গার্ড দিচ্ছে। পিনাকীকে জানানো হয়, কয়েকটি কাগজে সই বাকি আছে। দাদা ভিতরে কাজ করছে। কাজ শেষ হলেই তাকে ডেকে নেওয়া হবে। এর পর, রাতে পিনাকীকে ডেকে ঘরের চাবি ফেরত দেওয়া হয়।

গণধর্ষণের ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। এ দিন আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য সওয়ালে বলেন, ‘এই ঘটনা গার্ডরুমে হওয়ায় যদি নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়, তা হলে কলেজের প্রিন্সিপাল অথবা ভাইস প্রিন্সিপাল, কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কেন গ্রেপ্তার করা হবে না?

যে সব ধারা দেওয়া হয়েছে, তা রক্ষীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যদি কলেজে প্রিন্সিপাল কাজ করেন রাত পর্যন্ত, তা হলে কি তাঁকেও বেরিয়ে যেতে বলতে পারেন একজন নিরাপত্তারক্ষী?’

দিব্যেন্দু বলেন, ‘নিরাপত্তারক্ষীর কাজ হলো, বহিরাগতদের ঢুকতে না দেওয়া। তাকে কলেজের অন্যদের মতো সাক্ষী হিসেবে রাখতে পারতো পুলিশ। সামান্য ১২ হাজার বেতন পায় সে। আগে কোনও অপরাধ করেনি। নিরাপত্তারক্ষীকে সব সময় নির্দেশ মেনে চলতে হয়। সে পরিস্থিতির শিকার।’

পাল্টা সওয়ালে সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল বলেন, ‘নির্যাতিতাকে সুরক্ষা না দিয়ে অভিযুক্তের কুকর্ম সে সুরক্ষিত করেছে। রক্ষী যদি আটকাতো, তা হলে এই ঘটনা ঘটতো না। ওর কাজ ছিল হুইসল ব্লোয়ারের। কিন্তু, তা সে করেনি। সব দেখে বুঝে কাউকে কিছু জানায়নি।’

About Post Author