Home » বালুচিস্তানে ৯ বাসযাত্রীকে অপরহণ করে খুন! একেবারে বেছে বেছে খতম করল বিদ্রোহীরা

বালুচিস্তানে ৯ বাসযাত্রীকে অপরহণ করে খুন! একেবারে বেছে বেছে খতম করল বিদ্রোহীরা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বেছে বেছে নয় পাকিস্তানিকে অপহরণ করে খুন করল সশস্ত্র একদল দুষ্কৃতী। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে বালুচিস্তান প্রদেশের ঘটনা। বালুচিস্তানে প্রায় ১৭টি জায়গায় একযোগে বিশাল হামলা চালানোর পরপরই শুক্রবার পাক পাঞ্জাবের ৯ বাসযাত্রীকে বেছে বেছে গুলি করে মারে বিদ্রোহীরা।

জানা গিয়েছে, একটি যাত্রীবাহী বাসের রাস্তা আটকায় বালুচ বিদ্রোহীরা। তারপর সকলকে বাস থেকে নামিয়ে তার মধ্য থেকে পাক পাঞ্জাবের ৯ যাত্রীকে আলাদা করে খতম করে। পাকিস্তানের সেনা ও সরকার-প্রশাসনিক শীর্ষস্থানে রয়েছেন মূলত পাক পাঞ্জাবের মানুষ। সে কারণে পাকিস্তান বিরোধী বালুচদের আক্রোশ রয়েছে এই প্রদেশের উপর।

পুলিশ-প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোয়েট্টা থেকে লাহোর যাচ্ছিল বাসটি। বালুচিস্তানের জোহব এলাকায় জাতীয় সড়কের উপর ঘটনাটি ঘটে। সশস্ত্র বিদ্রোহীরা বাসযাত্রীদের পরিচয়পত্র দেখে পাক পাঞ্জাবি যাত্রীদের নামিয়ে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় বাস করতেন এই যাত্রীরা।

এই অঞ্চলের অন্যতম সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তবর্তী খনিজ সমৃদ্ধ এই প্রদেশে কার্জকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

বালুচ জঙ্গিদের পাকিস্তান প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তারা পাঞ্জাব প্রদেশের সুবিধার্থে বালুচিস্তানের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। যার ফলে এই হিংসা ও অস্থিরতা। বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মির সরফরাজ বুগতি এই সন্ত্রাসবাদী কাজের তীব্র নিন্দা করে ভারতকে ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, ওরা বেছে বেছে পাকিস্তানি পরিচয়ের লোকদের টেনে নামিয়ে খুন করেছে। জঙ্গিরা ফের একবার ওদের কাপুরোষিত কাজের নমুনা দেখাল। বুগতি এ ধরনের সন্ত্রাসবাদে দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে বর্ণনা করেন।

বলেন, তাঁরাও কঠিন ও জঙ্গিদের নিকেশ করে ছাড়বে। এদিকে, অপারেশন বাম বা সূর্যোদয় অভিযান নাম দিয়ে বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট ও সহযোগী বিদ্রোহী সংগঠনগুলি দুদিন আগে প্রায় প্রত্যেকটি জেলার পাকিস্তানের সরকারি ও সেনা ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে। মঙ্গলবার রাতভর চলা ওই অভিযান কয়েক বছরের মধ্যে প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএলএফ দাবি করেছে, এই অভিযান দশকের পর দশক পুরনো পাকিস্তান সরকার বিরোধী লড়াইয়ের এক নতুন অধ্যায়। তারাই এই অভিযানের দায় স্বীকার করেছে। বালুচিস্তান প্রদেশের ১৭টি জায়গায় হামলায় পাকিস্তানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা ছাড়াও বেশকিছু প্রশাসনিক ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিদ্রোহীরা।

এছাড়াও কয়েকটি মিলিটারি চেক পয়েন্ট উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সরকারের তরফে এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এক বিবৃতিতে বিএলএফের তরফে জানানো হয়েছে, বালুচের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন যুদ্ধের নতুন সূর্যোদয় ঘটাল এই অভিযান। মাকরান উপকূল থেকে কোহ-ই-সুলেমান পার্বত্য এলাকা পর্যন্ত একযোগে অভিযান চালায় তাঁরা।

এখানেই শেষ নয়, স্বাধীনতা অর্জন না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন এক নয়া মাত্রা পেতে চলেছে। যে কোনও প্রতিকূল অবস্থাতেও যে বালুচ সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানি সরকারকে।

সরকারি কর্মী, সেনা ও ভবনের মারাত্মক ক্ষতি করে দেওয়ার দাবি করলেও পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে। বেশ কিছু দিন ধরেই বালুচিস্তানের পরিস্থিতি অশান্ত।

বিচ্ছিন্নতাকামীরা একদিকে স্বাধীনতার ঘোষণা করে দিয়েছেন, অন্যদিকে, সশস্ত্র সংগঠনগুলি পর পর চরমপন্থা অবলম্বন করছে। সেনার কনভয় লক্ষ্য করে হামলার পাশাপাশি, আস্ত ট্রেন হাইজ্যাকের ঘটনাও ঘটে গত কয়েক মাসে। এসবের মাঝেই এবার পাকিস্তানের বালুচিস্তানে ৯ বাসযাত্রীকে একেবারে বেছে বেছে খতম করল বিদ্রোহীরা।

About Post Author