সময় কালকাতা ডেস্ক:- প্রথমে এসেছিল একটি হোয়াটসঅ্যাপ ডিপিতে মধ্য কলকাতার এক শিল্পপতির চেয়ারে বসে থাকার ছবি। লেখা ছিল, ‘এটা আমার নতুন নম্বর। সেভ করে রাখো।’
রবিবার রাতে ওই শিল্পপতির সংস্থার হিসেবরক্ষক ছবি দেখে ভেবেছিলেন, ওটা হয়ত মালিকের নতুন নম্বর। ফলে নিজের মোবাইল সেটে নম্বরটা সেভ করে রেখেছিলেন তিনি। সোমবার সকালে দু’দুবার বার্তা পান ওই কর্মী–– ‘অফিসে পৌঁছে গিয়েছো?’ এর আধঘণ্টা পরে ওই নম্বর থেকে মালিকের গলায় কল আসে, ‘কোম্পানির ফান্ড চেক করে আমাকে জানাও। একটা স্ক্রিনশটও শেয়ার করে দিও।’
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনা ভিতরের কেউ যুক্ত না থাকলে হওয়া সম্ভব নয়। সেটা ব্যাঙ্কের তরফের কেউ হতে পারেন, অথবা, সংস্থার কেউ। ফলে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি কথা বলা প্রয়োজন।
ফোনে ইনস্ট্রাকশন এলেও এমন কোনও তথ্য ক্রশ চেক করে নেওয়া উচিত, যা দুই ব্যক্তি ছাড়া তৃতীয় পক্ষের জানা সম্ভব নয়। একবার এই ভুলের ফাঁদে পা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ১৯৩০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ নথিভুক্ত করা প্রয়োজন। মাথায় রাখতে হবে যত দ্রুত অভিযোগ দায়ের হবে, তত তাড়াতাড়ি প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা এআই–এর এহেন অপব্যবহারে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। সাইবার বিষয়ক সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কিছুদিন আগে পার্ক স্ট্রিটের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে একই রকমের প্রতারণার ঘটনা ঘটে। সেখানে ম্যানেজারের কাছে পরিচিত কাস্টমারের নামে ফোন গেলে তিনি টাকা ট্রান্সফার করার পরে বিষয়টি জানা যায়। পরে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও পুরো টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি।’
সূত্রের খবর, মধ্য কলকাতায় ওই শিল্পপতির দপ্তর। রবিবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন নম্বর পাওয়ার পরে স্বাভাবিক ভাবে সকাল থেকে ওই নম্বর থেকে আসা নির্দেশ পালন করতে শুরু করেন তাঁর সংস্থার হিসেবরক্ষক।
আর করবেন নাই বা কেন, খোদ মালিকের কলেই যে টাকা ট্রান্সফারের নির্দেশ পেয়েছেন তিনি! সোমবার বিকেলে প্রতারণার বিষয়টি জানিয়ে হেয়ারস্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বিষয়টি জানানো হয়েছে সেই ব্যাঙ্ককেও।
অনলাইন প্রতারণা রুখতে সম্প্রতি এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ব্যবহার করে পাল্টা লোক ঠকানোর ব্যবসায় নেমে পড়েছে সাইবার প্রতারকরাও।


More Stories
দুশ্চিন্তার দিন শেষ! আয়ুষ্মান কার্ড এখন হাতের মুঠোয়
আমডাঙায় ফুড প্লাজা ভাঙচুর, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে
চুরমার বারাসাতের তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিকের বাড়ি ও পার্টি অফিস, মেরে ফেলা হতে পারে আশঙ্কা স্ত্রীর