Home » বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাছ ধরার ট্রলারের মাধ্যমে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা, চিন্তায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা

বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাছ ধরার ট্রলারের মাধ্যমে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা, চিন্তায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানায় ঢুকে পড়া বাংলার মৎস্যজীবীদের নিয়ে নতুন করে রহস্য দানা বেঁধেছে। সূত্রের খবর, এফবি ঝড় নামের ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক জলসীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে আটকে পড়েছিল। সেই সময়ে ওই ট্রলারের মালিককে ডেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। অন্য মালিকদের একই ভাবে সাবধান করা হয়েছিল প্রশাসনের তরফে। তার পরেও এফবি ঝড় এবং এফবি মঙ্গলচণ্ডী -৩৮ নামের দুটি ট্রলার কেন জেনেবুঝেও আন্তর্জাতিক জলসীমানা পার করলো, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে।

বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য তথা ট্রলার মালিক অভিজিৎ দাস বলেন, ‘আটক হওয়া ট্রলার দুটি কাকদ্বীপের বিশেষ একটি মৎস্যজীবী সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমানে এই মৎস্যজীবী সংগঠনের সভাপতি হলেন সুন্দরবন সংগঠনিক জেলার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি দেবাশিস দাস। আগেই বাংলাদেশের কোটা আন্দোলনের মুখ নিউটন দাসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছিল। কাকদ্বীপে ভোটার তালিকায় নিউটন দাসের নাম থাকা নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। যদিও পরে নির্বাচন কমিশন নিউটন দাসের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে জানাব। গোটা ঘটনার তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।’

মৎস্যজীবী সংগঠনের সভাপতি তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি দেবাশিস দাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, বিষয়টির উপরে তাঁরাও নজর রাখছেন। বাংলাদেশে আটক মোট ৩৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মৎস্যজীবী সংগঠনের কর্তাদের একাংশের অভিযোগ, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে এই রাজ্যের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মদতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ থেকে বেআইনি ভাবে লোকজন এদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তদন্ত দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তথা প্রাক্তন বিধায়ক জয় কৃষ্ণ হালদারের দাবি, কাকদ্বীপের বিশেষ একটি মৎস্যজীবী সংগঠন অনুপ্রবেশের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে আটক হওয়া দুটি ট্রলারের মালিক, মাঝি এবং মৎস্যজীবীদের বৈধ্য নথিপত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক।’

About Post Author