Home » বউ-শাশুড়িকে শারীরিক অত্যাচার, জোরকরে শাশুড়ির জমিতে প্রমোটিং হাইকোর্টের আইনজীবীর

বউ-শাশুড়িকে শারীরিক অত্যাচার, জোরকরে শাশুড়ির জমিতে প্রমোটিং হাইকোর্টের আইনজীবীর

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে হাইকোর্টে মামলা করেছি‍লেন মেয়ে। সেই মামলার শুনানিতে বুধবার এক রকম কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোনোর পরিস্থিতি তৈরি হল হাইকোর্টে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানির মধ্যে সেই ‘নিখোঁজ’ বৃদ্ধা হাজির হয়ে জানান, তাঁর জামাই এই আদালতের আইনজীবী। তিনি শাশুড়ির জমি জোর করে প্রোমোটিংয়ে দিয়েছেন। পরে তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। চমকের শেষ নয় এখানেই। এর পরে সেই বৃদ্ধার মেয়ে এসে জানান, তাঁকে জোর করে মামলার নথিতে সই করিয়েছেন ‘আইনজীবী’ স্বামী।

স্বামীর অত্যাচারে দুই সন্তান নিয়ে তিনি বাড়ি ছাড়া। হাইকোর্ট ওই আইনজীবীকে তলব করে। কিন্তু তিনি হাজির না হওয়ায় ডেপুটি শেরিফকে ডেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের মৌখিক নির্দেশ দিতেই এজলাসে হাজির হন সেই ‘আইনজীবী’ তপন রায় পাল।

ক্ষুব্ধ আদালত অভিযুক্ত আইনজীবী তপন রায় পালের লাইসেন্স বাতিল করার জন্যে বার কাউন্সিলের কাছে সুপারিশ করার হুঁশিয়ারি দেয়।

আদালতের একের পর এক প্রশ্নের মুখে তিনি দাবি করেন, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। সরকারি কৌঁসুলি রানা মুখোপাধ্যায় জানান, এমন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, শাশুড়ির সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টায় বাধা পেয়ে পুলিশকে পর্যন্ত মামলায় অভিযুক্ত করেছেন তপন।

এদিন  তথাকথিত নিখোঁজ বৃদ্ধা আদালতে হাজির হয়ে জানান, তাঁর জামাই হাইকোর্টের আইনজীবী। সিঁথি থানা এলাকায় তাঁর বাড়ি। জামাই তাঁর জমি বাড়ি জোর করে প্রোমোটিংয়ের জন্যে দিয়ে দিয়েছেন। তার পরে মারধর করে তাঁকে বাড়ি ছাড়া করেছেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এজলাসে হাজির হন ওই ‘আইনজীবী’র স্ত্রী। তিনি আদালতে অভিযোগ করেন, স্বামী তাঁকে মারধর, অত্যাচার করেন।

পরিস্থিতি এমন যে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে অন্যত্র থাকেন। স্বামীর মারধর-অত্যাচারের কিছু ছবিও দেখান আদালতে। জানান, তাঁকে জোর করে এই মামলার নথিতে সই করানো হয়েছে।

এর পরেই হাইকোর্ট কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে নির্দেশ দেয়, স্ত্রী ও শাশুড়ি—দুই কমিশনারেটের যে যে এলাকায় থাকেন, সেখানে যাতে কোনও ভাবেই এই ব্যক্তি গিয়ে তাঁদের উপরে হামলা চালাতে বা হুঁশিয়ারি না দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আগামী বুধবার শুনানিতে হলফনামা দিয়ে অভিযুক্ত আইনজীবীকে জানাতে হবে, আগামী দিনে সন্তান-স্ত্রী, শাশুড়ি-শ্যালককে কোনও ভাবে হুমকি দেবেন না, কোনও রকম নিগ্রহ করবেন না। তার পরে বার কাউন্সিলে তপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে কিনা, সেটা বিবেচনা করা হবে।

About Post Author