Home » ‘ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ সই, ভারত-ব্রিটেন বাণিজ্যে নয়া অধ্যায়ের সূচনা

‘ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ সই, ভারত-ব্রিটেন বাণিজ্যে নয়া অধ্যায়ের সূচনা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা হতে পারে, সেই আভাস আগে থেকেই পাওয়া গিয়েছিল। হলও তা-ই। ব্রিটেনের সাথে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত। বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার।

বৃহস্পতিবার লন্ডনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং ব্রিটেনের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব জনাথন রেনল্ডস একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এটি ব্রেক্সিটের পর স্বাক্ষরিত সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি এবং ভারতের সঙ্গে ব্রিটেনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব।

প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, এই চুক্তি দু’দেশের সমৃদ্ধির রূপরেখা। বহু বছরের পরিশ্রমের পর আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে পৌঁছল দুই দেশ। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে বছরে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় টেক্সটাইল, জুতো, রত্ন ও গয়না, সামুদ্রিক খাবার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের জন্য ব্রিটেনের বাজারে ঢোকা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ আসবে।

এতে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন ভারতের কৃষক, মৎস্যজীবী, যুব সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প ক্ষেত্র। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের জনগণ ব্রিটেনের তৈরি উন্নত মানের মেডিক্যাল ডিভাইস ও অ্যারোস্পেস পণ্য সহজলভ্য ও প্রতিযোগিতামূলক দামে পাবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মজুরি বাড়বে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। এটি ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি।

ব্রিটেনের সঙ্গে এই চুক্তি ভারতের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি গত এক দশকে ভারতের কোনও উন্নত দেশের সঙ্গে করা প্রথম বড় বাণিজ্য চুক্তি। পাশাপাশি ব্রিটেনের জন্যও এই চুক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়ন যাওয়ার পর সবচেয়ে অর্থবহ বাণিজ্যিক পদক্ষেপ। চুক্তির আওতায় ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পণ্য ব্রিটেনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এতে করে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য মূল্য ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়াও চুক্তিতে একটি সামাজিক নিরাপত্তা চুক্তিও রয়েছে, যার ফলে ভারতীয় কোম্পানিগুলি ব্রিটেনে কর্মী পাঠাতে পারবে দ্বিগুণ সামাজিক নিরাপত্তা খরচ ছাড়াই, যা ব্যবসার জন্য খরচ কমাবে। বর্তমানে ব্রিটেন ভারতের ষষ্ঠ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী। দেশটিতে প্রায় ১ হাজার ভারতীয় কোম্পানি ১ লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিয়োগ দিয়েছে এবং প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের ব্রিটেনে রফতানি হয়েছে ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১২.৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, আমদানি বেড়েছে ২.৩ শতাংশ হারে, যা ৮.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এই ঐতিহাসিক চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

About Post Author