Home » শান্তিনিকেতনের পর জঙ্গলমহল ৬ আগস্ট, ঝাড়গ্রামে ভাষা-মিছিল মমতার

শান্তিনিকেতনের পর জঙ্গলমহল ৬ আগস্ট, ঝাড়গ্রামে ভাষা-মিছিল মমতার

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে যে বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছিলেন, ২৮ জুলাই সেই ঘোষণাকেই রূপ দেন বাস্তবে। ‘ভাষা আন্দোলন’-এর ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেছে নিয়েছিলেন কবিগুরুর শান্তিনিকেতনের মাটি। বোলপুর শহরের বুক চিরে বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষার শপথ নিয়ে কবিগুরুর ছবি হাতে মিছিলে হাঁটেন তৃণমূল নেত্রী। বাংলা ভাষার অপমান যাঁরা করছেন, তাঁদের রাজনৈতিক বিসর্জনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

কবিগুরুর কর্মভূমি শান্তিনিকেতনের পর এবার জঙ্গলমহলের প্রাণকেন্দ্র ঝাড়গ্রামে বাংলা ভাষার উপর বিজেপির ঘৃণ্য আক্রমণের প্রতিবাদে মিছিল করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৬ আগস্ট ঝাড়গ্রাম শহরের রাজবাড়ির মোড় থেকে সার্কাস ময়দান পর্যন্ত বিশিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে পা মেলাবেন তিনি।

এই মিছিল শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—এটি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মাতৃভাষার সম্মান এবং আদিবাসী গর্বের প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছে। মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, লেখক, শিল্পী, সমাজকর্মী, শিক্ষক-অধ্যাপক এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষজন।

জঙ্গলমহলের আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিরাও মিছিলে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গিয়েছে। জঙ্গলমহলে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পরবর্তী ভাষা আন্দোলনের পাশাপাশি বিশ্ব আদিবাসী দিবস-সহ একগুচ্ছ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার কলকাতায় বিধানসভা ভবনে বৈঠক করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেই বৈঠক থেকেই মিছিলের রূপরেখা ও কর্মসূচির খুঁটিনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বুঝিয়ে দেন ফিরহাদ।

ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

গত কয়েকমাস ধরেই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বিভিন্ন রাজ্যে অত্যাচারিত হওয়ার অভিযোগ উঠছে। বাংলা ভাষায় কথা বলায় তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে অত্যাচার করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ। কখনও মারধর, কখনও তাঁদের উপর হামলা, লুটপাট, উপার্জন কেড়ে নেওয়া, কখনও আবার পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ শোনা গিয়েছে। তারই প্রতিবাদে পথে নেমে আন্দোলনে শামিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইতিমধ্যে কলকাতা ও শান্তিনিকেতনে দু’টি মিছিল করেছেন তিনি। বীরভূমের সভা থেকে মমতা বারাবার মনে করালেন বাঙালি অস্মিতার কথা। সেই প্রতিবাদ মিছিলের পর সভা থেকে ইংলিশ মিডিয়ামের উদ্দেশ্যেও বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, যাঁরা ইংলিশ মিডিয়ামেও পড়েন তাঁরা নিজের অস্তিত্বটাকে মনে রাখবেন, নিজের ঠিকানাটা মনে রাখবেন। সব ভুলে যেতে পারেন কিন্তু নিজের অস্মিতাকে ভুলবেন না।

এবার জঙ্গলমহলে পথে নেমে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর। কেন ঝাড়গ্রামকেই বেঝে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ? আসলে ঝাড়গ্রাম শুধু একটি জেলা নয়—এটি জঙ্গলমহলের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে বহু ভাষা, জাতি, সম্প্রদায়ের মানুষ সহাবস্থান করে আসছেন। এখানকার আদিবাসী সমাজের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলার আত্মিক বন্ধন রয়েছে।

তাই এই অঞ্চল থেকে ভাষার প্রশ্নে প্রতিবাদ শুরুর তাৎপর্য গভীর। ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদযাত্রা একদিকে যেমন ভাষার মর্যাদার প্রশ্নে তৃণমূলের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, তেমনই বিজেপিকে কড়া বার্তাও দেবে।

কারণ সম্প্রতি এই অঞ্চলকে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করছে এবং আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। বাংলার ভাষা, পরিচয়, সংস্কৃতি— এই সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে গর্ব ও অস্তিত্বের অংশ। সেই পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রতিবাদ যে তীব্র হবে, সেই বার্তাও স্পষ্ট করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

About Post Author