Home » প্রেমের আড়ালে নৃশংস খুন; আদালতের নির্দেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রেমের আড়ালে নৃশংস খুন; আদালতের নির্দেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সময় কলকাতা ডেস্ক:- প্রেমের সম্পর্কের শেষ পরিণতি হয়ে দাঁড়াল মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। দক্ষিণ বিধাননগরের ছাইনবী এলাকায় লিভ-ইন পার্টনারকে অর্থাৎ প্রেমিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেল প্রেমিক। সাথে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ, আরও ছয় মাসের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত।

মৃতার নাম প্রমিলা সরদার। প্রমিলাকে খুন করেছিলেন তার লিভিং পার্টনার অরূপ সিং। বিবাহ বিচ্ছেদের পর প্রমিলার নতুন সম্পর্ক গড়ে অরুপের সাথে। এরপরই ছাইনবী এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে তারা। সাথে থাকতো প্রমীলার সন্তানও। জানা গেছে, প্রমীলা ও অরূপের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকলেও অফিশিয়ালি তার কোন প্রমাণ ছিল না।

এবার আসা যাক প্রমিলাকে হত্যার ঘটনায়।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল, রাতের বেলা। এদিন রাতে আনুমানিক সাড়ে আটটা নাগাদ ওই বাড়ির অন্য এক ভাড়াটে প্রতিবেশী অরূপের বাড়ির জানালায় দিয়ে দেখতে পায় গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় প্রমিলা মাটিতে পড়ে রয়েছে এবং পাশে তার অরূপ বসে রয়েছে। খুনের সময় অন্য ঘরে ছেলেকে দরজা বন্ধ করে আটকে রেখেছিল অরূপ বলে জানা গেছে

এই ঘটনা দেখতে পেয়ে অন্যান্য প্রতিবেশীসহ দক্ষিণ বিধাননগর থানাকে খবর দেন প্রত্যক্ষদর্শী। এরপর প্রমিলার দেহ বিধাননগর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে মৃত প্রমিলার দাদা লিভিং পার্টনারের গোটা পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় অরূপ সিং এবং তার মা সরলা সিংকে।

বৈবাহিক কোনও প্রমাণ না মেলায় এবং খুনের সময় ঘটনাস্থলে সরলা না থাকায় আদালত তাকে জামিন দেয়। তবে সাংসারিক জীবনে অশান্তির জেরেই যে প্রমিলাকে খুন করেছিল অরূপ তা পুলিশি জেরায় স্বীকার করেন সে।

সমস্ত তথ্য প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত অরূপ সিংকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এবং শুক্রবার তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন বারাসাত পঞ্চম এডিজে-এর বিচারক দিপালী শ্রীবাস্তব। শেষে সাত বছর পর মিলল ন্যায়বিচার। আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট প্রমিলার পরিবার।

About Post Author