সময় কলকাতা ডেস্ক:- মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আচমকা পদত্যাগ করেন দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। উপ-রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ধনকড়ের আচমকা ইস্তফা নিয়ে যেন রহস্যের চাদর মুড়ে ফেলে রাজধানী দিল্লিকে। বা বলা ভাল জাতীয় রাজনীতিকে।
কারণ অনেকেই অনেক কিছু মেলাতে পারছেন না। স্বাধীন ভারতে যা বেনজির ঘটনা। কেননা এ যাবৎ কোনও উপ-রাষ্ট্রপতিই মধ্যমেয়াদে হঠাৎ করে ইস্তফা দেননি। আর এরকম নাটকীয় ঘটনাও ঘটেনি।
তবে উপ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনকড়ের আচমকা ইস্তফার পর এখন মূল প্রশ্ন দুটি। এক – পদত্যাগের আসল কারণ কী? আর দুই – পরবর্তী উপ রাষ্ট্রপতি কে হবেন?
সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল, সব জায়গায় এই আলোচনা চলছে। এসবের মাঝেই জগদীপ ধনকড়ের উত্তরসূরি খোঁজার তোড়জোড় শুরু। ১৭তম উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শূন্যপদে নির্বাচন চলে চলেছে ৯ সেপ্টেম্বর, জানাল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ আগস্ট। সেই মনোনয়নের স্ক্রুটিনি হবে ২২ আগস্ট। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৫ আগস্ট। নির্বাচন আগামী মাসের ৯ সেপ্টেম্বর। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন সাংসদরা।
প্রসঙ্গত, সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন ধনকড়। কারণ হিসেবে তিনি স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কথা উল্লেখ করলেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর জল্পনা।
যেহেতু রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন, তাই বর্তমানে ওই দায়িত্ব সাময়িকভাবে পালন করছেন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং। ২০২২ সালের আগস্টে দেশের উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন জগদীপ ধনকড়। ২০২৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত মেয়াদ ছিল। কিন্তু শেষ হওয়ার আগেই ইস্তফা দিয়ে দেশের ইতিহাসে তৃতীয় উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে নজির গড়েন তিনি।
ভারতের সংবিধানের ৬৮(২) ধারা অনুযায়ী, যদি উপ-রাষ্ট্রপতির পদ মৃত্যুর কারণে, পদত্যাগজনিত বা অন্য কোনও কারণে শূন্য হয়ে যায়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করে পদে কাউকে বসাতে হয়।
সেই অনুযায়ী, শুক্রবার নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর হবে ভোট। নির্বাচনে অংশ নেবে সংসদের দুই কক্ষ, লোকসভা ও রাজ্যসভার মোট ৭৮৮ জন সদস্য। একক স্থানান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে গোপন ব্যালটে হবে এই নির্বাচন।
কে হতে পারেন পরবর্তী উপ-রাষ্ট্রপতি?
পদ শূন্য হওয়ার সাথে সাথেই রাজনৈতিক পরামর্শ এবং জোট-রাজনীতির জটিল সমীকরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে শাসক ও বিরোধী শিবির। কে হবেন পরবর্তী উপ-রাষ্ট্রপতি, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে আলোচনা। তবে প্রার্থীর নাম ঘোষণার আগে সংবিধান মেনে পালন করতে হবে একাধিক নিয়মকানুন।
নতুন উপ রাষ্ট্রপতি নিয়ে অন্য অঙ্ক বিজেপির
নতুন উপ রাষ্ট্রপতি নিয়ে ইতিমধ্যে অঙ্ক কষতে শুরু করেছে বিজেপি। প্রথম দিকে জল্পনা ছিল, এনডিএ-র কোনও বর্ষীয়ান শরিক নেতা এই পদের দায়িত্ব পেতে পারেন।
কিন্তু ইঙ্গিত মিলছে — কোনও শরিক নেতা নয়, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কেউই নতুন উপ রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন।
সূত্রের খবর, উপ রাষ্ট্রপতির মতো গুরুদায়িত্বে এমন কাউকে বসানো হবে, যিনি সরাসরি বিজেপির মূল ভাবধারার সাথে যুক্ত। অর্থাৎ, বিজেপির আস্থাভাজন এবং ঘনিষ্ঠ নেতা। আসলে, জোট রাজনীতিতে শরিকদের খুশি করার জন্য ওই পদটি কোনও শরিক দলকে উপহার দিতে পারে বিজেপি। রাজধানীর অলিন্দে দু’দিন ধরেই এ নিয়ে জল্পনা চলছে।
বিজেপির অন্দরমহলের খবর, রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শরিকদের হাতে ছাড়তে রাজি নয় দল। কারণ সংসদীয় রাজনীতিতে এই পদ অত্যন্ত ক্ষমতাশালী।
তৎপরতা শুরু হলেও বিরোধী জোট কী করবে ?
এবার ২০২২ সালের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না ইন্ডিয়া জোট। আর এই ক্ষেত্রে কোনও রকম তাড়াহুড়োও করতে চাইছেন না ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। ফলে, বিহার বিধানসভা ভোটের আগে ফের একবার এনডিএ বনাম ইন্ডিয়া জোট শক্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে চলেছে। ২০২২ সালে সকলের মতামতের তোয়াক্কা করে কংগ্রেস প্রবীণ নেত্রী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মার্গারেট আলভাকে প্রার্থী করে দেয়। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি সেই ভোটদানে বিরত থাকে। এই দুই দল আলভা কিংবা জগদীপ ধনকড় কাউকেই ভোট দেয়নি। মোট ৫৫ জন সদস্য উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন। যাতে জগদীপ ধনকড় ৩৪৬ ভোটে জিতেছিলেন।


More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
তৃণমূল ও সিপিএম প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রীর শপথবাক্য ও মন্ত্রগুপ্তি
চোরের মায়ের বড় গলা – শর্বরীকে কটাক্ষ সৃজনের