সময় কলকাতা ডেস্ক:- শনিবার নবান্ন অভিযানের মিছিলে যোগ দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির বেশ কয়েক জন নেতানেত্রী। তবে কারও হাতেই ছিল না দলীয় পতাকা। পার্ক স্ট্রিটে সেই মিছিল পৌঁছতেই আটকায় পুলিশ। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করতেই আন্দোলনকারীদের আটকায় পুলিশ। ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ আটকালে পার্ক স্ট্রিটে অবস্থানে বসে পড়েন শুভেন্দু।
প্রথমে মিছিল ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাতেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় আন্দোলনকারীদের। এরপর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। প্রতিবাদে পার্কস্ট্রিটেই রাস্তায় বসে পড়েন শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পালরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, যতক্ষণ না নির্যাতিতার বাবা-মা বলছেন ততক্ষণ এভাবেই বসে থাকবেন। আন্দোলন প্রত্যাহারও হবে তাঁদেরই সিদ্ধান্তে।
এদিকে, ব্যারিকেডের সামনে থেকে সরে রাস্তার এক পাশে গিয়ে ফাঁক দিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন নির্যাতিতার বাবা। তিনি বলেন, “হাইকোর্ট অনুমতি দিয়েছে, তাহলে পুলিশ আটকাচ্ছে কেন?
কিন্তু পুলিশের কাছ থেকে কোনও উত্তর না মেলায় সেখানে বসে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি ও নির্যাতিতার মা। আটকানোর জেরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
কিছুক্ষণ পর নির্যাতিতার বাবা-মা সরাসরি পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে পড়েন। রেসকোর্সের কাছে পুলিশ ব্যারিকেডে সেখানেই আটকে যান তাঁরা।
নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, তাঁর হাতের শাঁখা পলা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মাথায় মেরে কপালের একপাশ ফুলিয়ে দিয়েছে। ক্ষোভ উগড়ে দেন পুলিশের বিরুদ্ধে।
অবস্থানে বসে পড়েন নির্যাতিতার বাবা-মা ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা। তবে কিছু ক্ষণ পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন নির্যাতিতার মা। তাঁকে হাসপাতালে যাওয়া হয়। সেই খবর পাওয়ার পরেই পার্ক স্ট্রিটের অবস্থান তুলে নেন শুভেন্দুরা। আর তারপরেই রাজ্য প্রশাসনকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, শাঁখা পলা ভেঙেছে, জাতীয় পতাকা ছিঁড়েছে। তিনি জানান, জাতীয় পতাকার অবমাননার জন্য পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাবেন। দরকারে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়ে বলবেন পুলিশ কীভাবে দেশের পতাকা পা দিয়ে মাড়িয়েছে, ছিঁড়ে দিয়েছে।
শুক্রবারই শুভেন্দু অধিকারী সতর্ক করেছিলেন, অভয়ার মা-বাবার এই অভিযানে পুলিশের হাতে একজনও আক্রান্ত হলে আগামী ৭২ ঘণ্টা গোটা বাংলা স্তব্ধ করে দেওয়া হবে।
শনিবারের ঘটনার পর শুভেন্দু ফের সরব হয়ে জানান, এটা শুধু পুলিশের বর্বরতা নয়, নির্যাতিতার মা-বাবার প্রতি অপমান। নবান্ন অভিযানে এমন ঘটনায় আন্দোলনের আবহ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিচারহীনতার ক্ষোভ ও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তাপমাত্রা চড়েছে।


More Stories
কীভাবে ও কেন খু*ন শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে?
সরকার গঠন : রাজ্যপালের কাছে জমা পড়ল গেজেট নোটিফিকেশন
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?