Home » বিহারে খসড়া ভোটার তালিকায় ঠিকানা-বিভ্রাট! লক্ষাধিক ভোটারের বাড়ির নম্বর এমনই! চাঞ্চল্যকর দাবি এক রিপোর্টে

বিহারে খসড়া ভোটার তালিকায় ঠিকানা-বিভ্রাট! লক্ষাধিক ভোটারের বাড়ির নম্বর এমনই! চাঞ্চল্যকর দাবি এক রিপোর্টে

সময় কলকাতা ডেস্ক:- কারও ০, কারও ০০, কারও আবার ০০০! বিহারের খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় তিন লক্ষ ভোটারের বাড়ির ঠিকানা এমনই। বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর উঠেছে নতুন বিতর্ক। প্রকাশিত তালিকা ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, একই বাড়ির সদস্য ২৩০ জন। প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারের ঠিকানায় বাড়ি নম্বর লেখা হয়েছে ‘০’, ‘০০’ বা ‘০০০’।

শুধু তাই নয়, জামুই জেলার চৌডিহা পঞ্চায়েতের আমিন গ্রামে ২৩০ জন বাসিন্দার ঠিকানা নথিভুক্ত হয়েছে একই, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর বাড়ি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ইন্টেনসিভ রিভিশনের জন্য কোনও বুথ লেভেল অফিসার তাঁদের গ্রামে আসেননি।

নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ ও ফর্ম ফিলআপের কথা থাকলেও, কর্মকর্তারা নাকি অফিসে বসেই ফর্ম ভরেছেন। এমনকী, অনেক ক্ষেত্রে গ্রামবাসীদের সই ছাড়াই তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে মৃত ব্যক্তির নামও থেকে গিয়েছে খসড়া তালিকায়। চলতি বছরেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে সে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গত ১ আগস্ট একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে তারা। ওই খসড়া তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নামও বাদ যাচ্ছে।

এই নিয়ে মামলাও চলছে সুপ্রিম কোর্টে। এসবের মাঝেই ঠিকানা বিভ্রাট। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিহারের ২৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৫টির ৮৭ হাজারের বেশি বুথে ২ লক্ষ ৯২ হাজারেরও অধিক ভোটারের ঠিকানা ‘০’ নম্বরে নথিভুক্ত। মগধ ও পাটনা অঞ্চলে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি। বাকি কিছু কেন্দ্রের তথ্য এখনও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি।

কারণ, প্রথমে তালিকা ছিল ‘মেশিন রিডেবল’ ফরম্যাটে, যা দিয়ে দ্রুত তথ্য যাচাই করা যাচ্ছিল।

কিন্তু কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটারের অস্তিত্বের অভিযোগ তোলার পর নির্বাচন কমিশন ফরম্যাট বদলে ‘নন-মেশিন রিডেবল’ করে দেয়। বিহারের ডেপুটি সিইও স্বীকার করেছেন, অনেক ভোটার আবেদন করার সময় বাড়ির নম্বর দেননি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট তাও গ্রহণ করেছে, ফলে ‘০’ নম্বর দেখাচ্ছে।

তবে তাঁর আশ্বাস, এই ত্রুটি সংশোধন করা হবে। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, এত কম সময়ে তালিকা তৈরি করতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করায় একাধিক অনিয়ম ঘটেছে।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে ‘ঠিকানা-বিভ্রাট’, যা প্রশ্ন তুলছে, এসআইআরের তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি নিয়ে। অনেকেই বলছেন, তথ্য সংগ্রহের সময় কি আদৌ নিয়ম মানা হয়েছিল? গত বৃহস্পতিবারই সাংবাদিক বৈঠক করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি দাবি করেছিলেন, একটি ছোট্ট এক কামরার বাড়িতে ৮০ জন ভোটার! একই বাড়ির সদস্য ৪৩ জন। তাঁদের পদবি আবার আলাদা আলাদা। কর্নাটকের মহাদেবপুরে বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় বেশকিছু ত্রুটি তুলে ধরেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের সূত্র দাবি করছে, এই ধরনের কোনও ত্রুটি যাতে ভোটার তালিকায় না থাকে সেটা নিশ্চিত করার জন্যই এই নিবিড় সংশোধন। কিন্তু বাস্তব বলছে, নিবিড় সংশোধনের পর যে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেটাও ত্রুটিপূর্ণ।

About Post Author