Home » কুকুরপ্রেমীদের বড় জয়! পুরনো রায় সংশোধন সুপ্রিম কোর্টের!

কুকুরপ্রেমীদের বড় জয়! পুরনো রায় সংশোধন সুপ্রিম কোর্টের!

সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পথকুকুর নিয়ে আগের নির্দেশে খানিকটা রদবদল করে রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, সব পথকুকুরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে শেল্টার হোমে পাঠানো হবে না। পথকুকুরদের নির্বীজকরণের পর ছেড়ে দিতে। শুধুমাত্র বেপরোয়া, একরোখা ও হিংস্র কুকুরকে খোঁয়াড়ে বন্দি করে রাখতে।

শীর্ষ আদালত জানাল, টিকা দেওয়ার পরে পথকুকুরদের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে এবং একই এলাকায় ফেরত পাঠানো যেতে পারে। বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এনভি আঞ্জারিয়ার তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, আক্রমণাত্মক আচরণ রয়েছে বা জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত কুকুরদের টিকা দেওয়া হবে।

দিল্লিতে পথকুকুরদের কামড়ে জলাতঙ্ক এবং তার জেরে আমজনতার মৃত্যু- দুটোই উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সেই সংক্রান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই আগস্টের শুরুতে শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টে।

শীর্ষ আদালত জানায়, দিল্লি-এনসিআর এলাকার সমস্ত পথকুকুরকে অবিলম্বে ধরতে হবে। তাদের নির্বীজকরণ করিয়ে পাঠাতে হবে নিরাপদ আশ্রয়ে। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়, যতটা প্রয়োজন বলপ্রয়োগ করে পথকুকুরদের ধরতে হবে।

কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হবে বলেও নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই সময় শীর্ষ আদালতের মত ছিল, সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিল্লির পথকুকুরদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের প্রতিবাদে সেলিব্রিটি থেকে আমজনতার বিরাট অংশ সরব হন। তারপরেই বিষয়টি প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ আদালত জানায় বিষয়টি খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ। শুক্রবার আগের নির্দেশে কিছুটা সংশোধন করে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়াকে নিয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যেসব বেওয়ারিশ কুকুরকে তুলে আনা হবে, তাদেরকে জীবাণুমুক্ত করে, কৃমিনাশক এবং টিকাদানের পরে, পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে দিতে হবে।

তবে জলাতঙ্কে আক্রান্ত বা আক্রমণাত্মক আচরণ রয়েছে এমন কুকুরদের ছাড়া হবে না। যত্রতত্র কুকুরদের খাওয়ানোর উপরে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে শীর্ষ আদালত। পথকুকুরদের খাওয়ানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে যে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা পুর কর্তৃপক্ষকে কুকুর তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারবেন না। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে, রাস্তার কুকুরদের ছেড়ে দেওয়ার নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে।

এগুলিকে ওষুধপত্র দিয়ে রোগমুক্ত করতে হবে। প্রতিষেধক ইঞ্জেকশন দিতে হবে এবং তারপর প্রতিটিকে তাদের পাড়ায় ছেড়ে দিয়ে আসতে হবে। আদালত এই মামলার পরিধি দিল্লি-এনসিআর ছাড়িয়ে সমগ্র ভারত জুড়ে প্রসারিত করেছে। সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। আদালত আরও বলেছে, এই বিষয়ে একটি জাতীয় নীতি প্রণয়নের জন্য বিভিন্ন হাইকোর্টে বিচারাধীন একই ধরণের আবেদনগুলি সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তর করা হবে। সুপ্রি এই রায়ে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছে। অনেকেরই ধারণা ছিল, পূর্বের নির্দেশে পথকুকুর সম্পূর্ণ বিনাশ করে ফেলা হবে। শীর্ষ আদালত নয়া রায়ে বলেছে, যে কুকুর ব়্যাবিস রোগাক্রান্ত কিংবা অত্যন্ত হিংসাত্মক আচরণের তাদের প্রতিষেধক নিয়ে পৃথক আস্তানায় রেখে দিতে হবে।

About Post Author