সময় কলকাতা ডেস্ক:- জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নবান্নর জেদ টিকল না। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কাজে থাকা চার আধিকারিককে আধিকারিককে সাসপেন্ড করে দিল রাজ্য সরকার। এফআইআর নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে চলবে বিভাগীয় তদন্ত। এই অফিসারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবারই সেই সময় শেষ হয়েছে।
তার মধ্যেই অবশ্য নবান্নের তরফে ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে কমিশন যে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল, আপাতত তা কার্যকর হচ্ছে না।
তবে ওই চারজনের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করবে নবান্ন।
জানা গিয়েছে, বাকি ২ ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে চলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। সেই কাজ চলাকালীন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে দুই জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত চার অফিসারের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনের তরফে গত ৮ আগস্ট মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে একটি চিঠি পাঠিয়ে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানানো হয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের চার আধিকারিক— যাঁদের মধ্যে দু’জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার-কে শুধু সাসপেন্ড নয়, এফআইআরে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।
সেই সাথে বিভাগীয় তদন্তও শুরু করতে হবে। এই সব পদক্ষেপ করার জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয় কমিশন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি সরকারি আধিকারিকদের শাস্তি হতে দেবেন না মানে না। তাঁর বক্তব্য ছিল, নির্বাচনের এখনও ঢের দেরি। এদিকে কমিশন এখন থেকেই অকারণে আধিকারিকদের সাসপেন্ড করতে বলছে।
এর পরই শুরু হয়ে যায় টানাপোড়েন। নবান্ন কমিশনের সুপারিশ না মানায় রাজ্যের সচিবালয়কে ফের চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন। নবান্ন তখনও কমিশনের সুপারিশ মানতে চাইনি।
মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী রিপোর্ট পাঠান। প্রথমদিকে কমিশনকে জানানো হয়, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাকিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় বলেই জানানো হয়েছিল। কমিশনের সুপারিশকে এভাবে বুড়ো আঙুল দেখানো যে নির্বাচন সদন সহজভাবে নেবে না, সেই দেওয়াল লিখন স্পষ্টই ছিল। হয়ও তাই। গত ১৩ আগস্ট কমিশনের ডাকে মুখ্যসচিব দিল্লিতে যান। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি মুখে কিছু না বললেও, কমিশনের চাপে অবশেষে রাজ্য সরকারকে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হয়।
নবান্ন নির্দেশ জারি করে পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস রুলস, ১৯৭১-এর ৭(১)(বি)(এ) ধারায় চার অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলবে। তবে এফআইআর দায়ের আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, সাসপেনশনের মেয়াদে এই অফিসাররা নিয়ম মেনে ভাতা পাবেন। তবে তাঁদের কন্ট্রোলিং অথরিটির কাছে রিপোর্ট করতে হবে এবং অনুমতি ছাড়া সদর দফতর ছেড়ে যেতে পারবেন না। এদিকে চার অফিসারকে নবান্ন সাসপেন্ড করার পর বিজেপি তৃণমূল সরকারকে খোঁচা দিতে ছাড়েনি। পাল্টা দিয়েছে শাসক শিবিরও।
রাজনৈতিক তর্জার মাঝেই প্রশ্ন রয়ে গেল, নবান্ন যে অর্ধেক শর্ত পূরণ করেছে তাতেই কি সন্তুষ্ট হবে নয়াদিল্লির নির্বাচন কমিশন, নাকি ষোলো আনা নির্দেশ পালনে এর পরেও মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের উপর চাপ বাড়াবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দফতর।
কারণ, নয়া দিল্লিতে মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের এক্তিয়ারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। জ্ঞানেশ কুমার মনোজ পন্থকে এও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, কমিশন সুপারিশ করলে রাজ্য সরকার তা মানতে বাধ্য। মনোজ তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, এতে রাজ্য সরকারি অফিসারদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু তাতেও বরফ গলেনি।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?