Home » ‘সুপ্রিম’ নির্দেশ মেনে ‘অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ! ‘দাগি অযোগ্য’ তালিকায় জুড়ল আরও নাম!

‘সুপ্রিম’ নির্দেশ মেনে ‘অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ! ‘দাগি অযোগ্য’ তালিকায় জুড়ল আরও নাম!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- এসএসসি-র প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় বড় মোড়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে শনিবার অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। সাতদিনের মধ্যেই অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। শনিবারই যে সেই তালিকা প্রকাশ করা হবে, তা শুক্রবারই আদালতে জানিয়েছিল রাজ্য।

সেই মতো শনিবার রাত আটটা নাগাদ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই অযোগ্যদের প্রথম তালিকা প্রকাশ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। সেখানে ১ হাজার ৮০৪ জনের নাম প্রকাশ হয়। তালিকায় রয়েছে অযোগ্যদের নাম, রোল এবং সিরিয়াল নম্বরও। তালিকায় অনেক তৃণমূল নেতা ও ঘনিষ্ঠদের নাম রয়েছে।

তবে মধ্যরাতে সেই তালিকায় যুক্ত হয় আরও দুটি নাম। রোশেনারা বেগম এবং সঞ্চিতা দাস। ফলে প্রাথমিক ভাবে তালিকায় ১৮০৪ জনের নাম থাকলেও এ বার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮০৬-এ। এর আগে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে চাকরি খুইয়েছিলেন ২৫ হাজার ৭৫২ জন। আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন।

সুপ্রিম কোর্ট এসএসসি-কে স্পষ্টত জানিয়েছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নজর রাখা হচ্ছে। কোনও ভুল-ত্রুটি হলেই হস্তক্ষেপ করা হবে। কড়াভাবে এও বলা হয়েছে, অযোগ্যরা পরীক্ষায় বসলে ফল ভুগতে হবে।

তবে এই পরীক্ষা স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। দাবি ছিল, তাঁরা যোগ্য, কিন্তু এখনও অনেক অযোগ্যকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হচ্ছে।

এই সূত্র ধরেই এসএসসি-র কাছে অযোগ্যদের তালিকা চায় সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে, যোগ্য অথচ চাকরিহারা প্রার্থীদের তরফে আলাদা পরীক্ষার দাবি তোলা হয়েছিল।

তাঁদের যুক্তি, প্রায় এক দশক আগে তাঁরা পরীক্ষা দিয়ে যোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছেন। নতুন প্রজন্মের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে একই মঞ্চে প্রতিযোগিতায় নামলে তাঁদের সুযোগ কমবে। তাই তাঁদের জন্য পৃথক পরীক্ষা প্রয়োজন। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই আর্জি নাকচ করে দেন।

এদিকে, এসএসসির ওয়েবসাইটে ‘দাগি’ শিক্ষকদের নাম ও রোল নম্বরের তালিকা সামনে আসতেই প্রকাশ্যে আসে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আগামী মাসে নিয়োগ প্রক্রিয়ার যে পরীক্ষা হওয়ার কথা, তাতে আবেদন করেছিলেন ‘দাগি’দের সিংভাগই।

এবার তালিকা মিলিয়ে তাঁদের অ্যাডমিট বাতিল করছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। শনিবার প্রথমে দাগি অযোগ্য-দের প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই সেই তালিকা হঠাৎ প্রত্যাহার করা হয়। এই অঘটন ঘিরেই কমিশনের দফতরে তৈরি হয় নাটকীয় পরিবেশ।

ঠিক সেই সময়েই কমিশনে হাজির হন এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। তিনি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠকের পরেই ফের নতুন করে প্রকাশ করা হয় দাগি অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা। আগামী দিনে আরও তালিকা প্রকাশ হবে? যদিও এই বিষয়ে এসএসসির তরফে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি।

তবে ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই এই তালিকা।

এদিকে, তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই এসএসসির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন দাগি অযোগ্যদের তালিকায় থাকা শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, এসএসসি পিঠ বাঁচাতে এই তালিকা প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে উত্তেজনা রয়েছেই।

About Post Author