Home » প্রথম তালিকায় ছিল না! মাঝরাতেই ‘দাগি’ তালিকায় জুড়ল দুটি নাম, তালিকায় শাসকদলের একাধিক নেতা-নেত্রীরা

প্রথম তালিকায় ছিল না! মাঝরাতেই ‘দাগি’ তালিকায় জুড়ল দুটি নাম, তালিকায় শাসকদলের একাধিক নেতা-নেত্রীরা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। শনিবার সন্ধেয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রকাশিত সেই তালিকায় মধ্যরাতে যুক্ত হয় আরও দুইজনের নাম। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমানের মেয়ে রোশনারা বেগম। ২০২২ সালের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। এসএসসির ওয়েবসাইটে নাম ও রোল নম্বরসহ প্রকাশিত এই তালিকায় রোশনারা বেগমকে ‘অযোগ্য’ প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, তিনি কালীগঞ্জ হাইস্কুলে পড়াতেন। এদিন প্রকাশিত তালিকায় আরও এক বড় নাম প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী। ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর চাকরি বাতিল করেছিল।

পরে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন অঙ্কিতা, কিন্তু প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে তাঁর নিয়োগকেও সন্দেহজনক বলা হয়।

এছাড়াও তালিকায় উঠে এসেছে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি অজয় মাঝি, কাউন্সিলর কুহেলি ঘোষ এবং প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের নাম। প্রিয়াঙ্কা হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূল সভানেত্রীর মেয়ে। এদিকে, এসএসসি-র প্রকাশিত অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় নাম উঠল পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্রবধূ শম্পা ঘোষের। ১৮০৪ জন অযোগ্য প্রার্থীর মধ্যে তালিকার ১২৬৯ নম্বরে রয়েছেন তিনি। নির্মল ঘোষ বর্তমানে বিধানসভার মুখ্য সচেতক হিসেবেও দায়িত্বে আছেন।

এসএসসি–র অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ হতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর নাম সামনে আসছে। তালিকার ১৮০৪ জনের মধ্যে রয়েছেন রাজপুর–সোনারপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কুহেলি ঘোষ। দাগি তালিকার ৬৪৭ নম্বরে রয়েছে কুহেলির নাম। প্রথমে তিনি প্রাথমিক শিক্ষিকার পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন, পরে হাইস্কুলে শিক্ষিকার চাকরি পান।

দাগিদের তালিকায় নাম এসেছে হুগলির খানাকুলের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সদস্য বিভাস মালিকের। অযোগ্যদের তালিকাই সেই বিভাসই রয়েছেন ৩১৬ নম্বরে। চাকরি যাওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি কর্মরত ছিলেন তারকেশ্বরের একটি বিদ্যালয়ে। অবশ্য বিভাসের কীর্তি যে খুব সীমিত, তা নয়।

তিনি নিজে যেমন চাকরি নিয়েছেন, তেমনই পাইয়েওছেন। বিভাসের স্ত্রী সন্তোষি মালিকও ছিলেন ‘দাগি’ শিক্ষিকা। এসএসসি-র তালিকায় বিভাসকে দেখা গেল সস্ত্রীক। তালিকাতেই সিরিয়াল নম্বর অনুসারে ৯১৫-তে নাম রয়েছে খানাকুলের আরও এক দাপুটে তৃণমূল নেতা নইমুল হকের স্ত্রী নমিতা আদকের।

তালিকায় আছে হুগলির জেলা পরিষদের সদস্যা সাহিনা সুলতানার নাম। তাঁর নাম তালিকায় রয়েছে ১ হাজার ২৪১ নম্বরে। তিন বারের জেলা পরিষদের সদস্যা, পার্থ ঘনিষ্ঠ। নাম রয়েছে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উত্তর দিনাজপুরের জেলা পরিষদের সভাধিপতি থাকা কবিতা বর্মণেরও।

তবে কবিতা এই তালিকার ব্যতিক্রমী। কারণ, তিনি তৃণমূল ‘ভুলো’ মানুষ। আগে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে বিজেপিতে লাফ দেন। তালিকায় রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার তৃণমূল নেতা অজয় মাঝিও। ফলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রভাবশালীদের নাম একের পর এক প্রকাশ্যে আসছে। এসএসসির প্রকাশিত তালিকায় শাসক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতানেত্রীদের পাশাপাশি তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের নামও রয়েছে।

সূত্র বলছে, পুরসভা, পঞ্চায়েত থেকে দলীয় পদে থাকা বহু নেতা-নেত্রীর আত্মীয় ২০১৬ সালের প্যানেলে অযোগ্যভাবে চাকরি পেয়েছিলেন। ফলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ রাজ্যের শাসক দলের অস্বস্তি আরও বাড়াল।

About Post Author