Home » “২০৮ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ জড়িত জিনপিঙের সাথে”, বৈঠকে বললেন মোদি

“২০৮ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ জড়িত জিনপিঙের সাথে”, বৈঠকে বললেন মোদি

সময় কলকাতা ডেস্ক:- এসসিও বৈঠকের আগেই রবিবার সকালে বসে বহু চর্চিত ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। চিনের বন্দর শহর তিয়ানজিনে বৈঠকে বসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের উপরে যখন আমেরিকা ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে, সেই সময় চিন ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে।

সেই পরিস্থিতেই এবার ভারত-চিনের রাষ্ট্রনেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। সীমান্ত, অর্থনীতি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই শক্তির মধ্যে। বৈঠকের দু’মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের একটি ভিডিও নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন মোদি, যেখানে দেখা যায় তিনি হিন্দিতে বক্তব্য পেশ করছেন এবং পরে তা স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মোদি।

সেখানেই মোদি জানান, আলোচনার শেষে দুই পক্ষই তাদের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর কাজানে দুই দেশের মধ্যে খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল যা ভারত-চিন সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সীমান্তে সেনা প্রত্যাহারের পর শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

মোদি আরও বলেন, সীমান্ত সমস্যার বিষয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা ফের শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও আবার শুরু হচ্ছে। দুই দেশের ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ ভারত-চিন সহযোগিতার সঙ্গে জড়িত। পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারত-চিন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এসসিও-তে চিনের সফল সভাপতিত্বের জন্য অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁকে চিন সফরের আমন্ত্রণ জানানো এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্যও জিনপিংকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বৈঠকে শি জিনপিং উল্লেখ করেন ভারত-চিন বিশ্বের দুটি সর্বাধিক জনবহুল দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের অংশ। বন্ধু এবং ভালো প্রতিবেশী হওয়ার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে ড্রাগন এবং হাতি-কে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান শি। সাত বছর পরে ড্রাগনের দেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মোদি, জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা চিনের এই বন্দর শহরে। ট্রাম্পের শুল্ক বোমার মাঝে এই নতুন বন্ধুত্ব পারদ চড়াচ্ছে। ২০১৮ সালে মোদির শেষ উহান সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন ছিল চরমে। ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘাতের পর তা আরও বড় আকার ধারণ করে।

তবে ডোকলাম অচলাবস্থা পেরিয়ে, এবার পরিস্থিতি আলাদা। ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য নীতির ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনার মাঝেই ভারত ও চিন তাদের সম্পর্ক শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই শীর্ষ সম্মেলনে শি এবং পুতিনের পাশে মোদির ছবি ট্রাম্পের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাবে।

About Post Author