Home » সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা মোদির, পাশে পেলেন একাধিক দেশকে

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা মোদির, পাশে পেলেন একাধিক দেশকে

 

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আল কায়েদার মতো জঙ্গি সংগঠনের নামও উল্লেখ করেছেন নমো। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে কোনও দ্বিচারিতা থাকতে পারে না।

চিনের তিয়ানজিন-এ সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের ২৫-তম সম্মেলনে মোদির ভাষণের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেখানে কাশ্মীরে জঙ্গিপনা নিয়ে শরিফের সামনেই পাকিস্তানকে তুলোধনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তান-তুরস্কের সামনেই মোদি স্পষ্টভাষায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, কিছু কিছু দেশ যে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে খোলাখুলি সমর্থন দিয়ে চলেছে, তা কি আর চলতে দেওয়া যেতে পারে?
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর সামনেই সাফ বলেন, কোনও একটি দেশের উপর সন্ত্রাসবাদ বিপজ্জনক তা নয়, জঙ্গিরা সমগ্র বিশ্বের মানবিকতার পক্ষে বিপদের চিহ্নস্বরূপ। জম্মু-কাশ্মীরের পহলগাঁওয়ের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মোদি বলেন, ভারত চার দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের আঘাত সামলে চলেছে। আর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত সমানতালে লড়ে চলেছে।
আল কায়েদার মতো জঙ্গি সংগঠনের নামও করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাফ জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে কোনও দ্বিচারিতা থাকতে পারে না।
সোমবার চিনের তিয়ানজিন শহরে এসসিও সম্মেলন উপলক্ষে ভারত, পাকিস্তান-সহ মোট ২০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত হয়েছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে সম্মেলনের আগে মোদি একান্তে কথা বলেন। তার পরেই মঞ্চ থেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরব হন। সন্ত্রাসবাদকে মানবতার চ্যালে়ঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন মোদি। পহেলাগাঁও হামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানিয়ে দেন, এর জন্য শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বের ক্ষতি হচ্ছে। এসসিও গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জ়িরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার আহ্বান জানান মোদি। কোনও ভাবেই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে আপস না-করার অনুরোধ করেন। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে মোদি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্বের জায়গা নিয়েছে ভারত।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। প্রথম থেকেই এই ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে এসেছে ভারত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। গত ৬ মে ভারত সেনা অভিযান চালায় পাকিস্তানে। ধ্বংহস করে দেওয়া হয় একাধিক জঙ্গিঘাঁটি। এর পর টানা চার দিন দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ চলেছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তার পর থেকে তলানিতে। এসবের মাঝেই এবার পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়েই পহেলগাঁও নিয়ে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী যখন এই কথাগুলি বলছিলেন, তখন উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও। তিনি চুপ করেছিলেন গোটা সময়।
শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন শীর্ষ সম্মেলনে পহেলগাঁও-তে সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা জানাল সদস্য রাষ্ট্রগুলো। এই কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এসেছে ঠিক তখন, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠিন বার্তা প্রদান দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সুর চড়ান প্রধানমন্ত্রী৷

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের ২৫-তম সম্মেলনে প্রথমে ভারত, তার পরই এসসিও গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির কাছ থেকে সম্মিলিত ধাক্কা খেল পাকিস্তান। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বসিয়ে রেখে কাশ্মীরের পহেলগাঁও-তে জঙ্গিহানার তীব্র নিন্দা করল এসসিও। এমনকী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভাষণে যে কথা বলেছেন, তার কয়েক মুহূর্ত পরেই ভারতের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে এসসিও। এসসিওর গোষ্ঠীভুক্ত সদস্য দেশগুলি পহেলগাঁও-য়ের ঘটনায় মৃত ও ভুক্তভোগী পরিবারদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে। তারা এও বলেছে, এই জঙ্গি নাশকতার চক্রান্তকারী, সংগঠক এবং মদতদাতাদের বিচারের কাঠগড়ায় আনা জরুরি। এসসিও দেশগুলি সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে তাদের দায়বদ্ধতার উপর জোরাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসসিও মোদির দাবিকে মান্যতা দিয়ে বলে, জঙ্গিদের কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সোমবার এসসিও-র ২৫-তম সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতেই নাম না করে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কারও দুমুখো নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।
এবার মোদির সুরে মত দিয়েছে গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিও। কূটনৈতিক দিক থেকে এটাকে ভারতের বিরাট জয় বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষত এসসিও-র কথায় পাকিস্তানের মুখ পুড়ল। কারণ, পাকিস্তানই সেই রাষ্ট্র যারা কয়েক যুগ ধরে তাদের মাটিতে জঙ্গি সংগঠনগুলি আশ্রয় ও মদত দিয়ে চলেছে। এসসিও-র সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যেও একটি হল পাকিস্তান এবং পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সম্মেলন মঞ্চে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। সেই সম্মেলনে মোদি বলেন, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানা কেবলমাত্র ভারতের জন্য নয়, সব দেশ ও মানুষের জন্যই একটা খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ। যারাই মানবিকতায় বিশ্বাসী তাদের পক্ষেই সন্ত্রাসবাদীরা বিপজ্জনক। এই পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন স্বভাবতই উঠে আসছে যে, এই সন্ত্রাসবাদকে কি মেনে নেওয়া যায় ? কিছু নির্দিষ্ট দেশ দিনের পর দিন ধরে যে সন্ত্রাসবাদকে খোলাখুলি সমর্থন করে চলেছে, তা কি নেমে নেওয়া যায় ? সকলের উচিত যে কোনও রকমের, যে কোনও রঙের সন্ত্রাসবাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করা। মানবিক ধর্মের প্রতি এটাই কর্তব্য হওয়া উচিত, বলেন মোদি। আর তারপরই সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা জানাল সদস্য রাষ্ট্রগুলো।

About Post Author