Home » ইউক্রেনে শান্তি ফেরাতে ভারতের উপর অধিক শুল্ক, আজব দাবি আমেরিকার

ইউক্রেনে শান্তি ফেরাতে ভারতের উপর অধিক শুল্ক, আজব দাবি আমেরিকার

ইউক্রেনে শান্তি ফেরাতে ভারতের উপর বিরাট অঙ্কের শুল্ক চাপানো দরকার! মার্কিন আদালতে এমনই আজব সওয়াল ট্রাম্প প্রশাসনের। অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে এশিয়ার দুই বৃহত্তম শক্তিকে দমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। ভারত ও চিনের পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল ট্রাম্প প্রশাসনের
আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ভারত চিনের পাশে পুতিন

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ও ইউক্রেনে শান্তি ফেরাতে ভারতের ওপর মোটা শুল্ক চাপানো দরকার! আদালতে এবার এমনই আজব সওয়াল ট্রাম্প সরকারের। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে আমেরিকার সলিসিটর জেনারেল জন সয়্যার বলেছেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে অন্যতম হাতিয়ার। সম্প্রতি একাধিক দেশের ওপর শুল্ক চাপিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতিকে তীব্র কটাক্ষ করেছিল সেদেশের নিম্ন আদালত। আদালত এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে ঘোষণা করেছিল। তার প্রতিবাদেই সুপ্রিম কোর্টে যায় ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের তরফে পেশ করা পিটিশনে লেখা হয়, ‘রাশিয়া থেকে শক্তিসম্পদ কেনার কারণে ভারতের উপর শুল্ক চাপানো হয়েছে।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমস্যা মোকাবিলা করতেই এই শুল্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে আমেরিকা আর্থিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে আমেরিকা। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকার সময়েই রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল আমেরিকা। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরেও সেই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকে। এর পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার জন্য ভারতের অধিকাংশ পণ্যে আরও ২৫ শতাংশ অর্থাৎ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। তার পরেও অবশ্য রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে এবার মার্কিন নিম্ন আদালতে নিজেদের সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি করতে হয় ট্রাম্প প্রশাসনকে। এদিকে,চিন সফরে এসসিও সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে এশিয়ার দুই বৃহত্তম শক্তিকে দমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। ভারত এবং চিনকে রাশিয়ার ‘সঙ্গী’ আখ্যা দিয়ে পুতিন বলেন,দুই দেশের নেতৃত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে” আমেরিকা। এখানেই না থেমে ওয়াশিংটনকে পুতিন মনে করিয়ে দেন, উপনিবেশের যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গিয়েছে। আমেরিকাকে সেটা বুঝতে হবে। সম্প্রতি চিনের তিয়ানজিনে এসসিও সামিটের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পার্শ্ববৈঠক করেন। তাঁরা কাছাকাছি এসে ট্রাম্পকে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন। এই ছবি চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকার কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। ফলে এখন ঘরে ও অন্দরে সর্বত্রই সমালোচিত হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

About Post Author