শেষ পপি নতিস্বীকার। ‘জেন জি’-র কাছে মাথানত করল নেপাল সরকার। সমাজমাধ্যমের উপর থেকে তুলে নেওয়া হল নিষেধাজ্ঞা। যদিও, আন্দোলন চলবে, জানিয়ে দিয়েছে তরুণ তুর্কিরা।
‘জেন জি’-র কাছে নতিস্বীকার ওলি সরকারের
সমাজমাধ্যমের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার তরুণ প্রজন্মের বিদ্রোহের কাছে নতিস্বীকার করল নেপাল সরকার। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হল সমাজমাধ্যমের উপর থেকে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ জনের বেশি মৃত্যুর পর অবশেষে মাথানত করল নেপালের কেপি শর্মা ওলি সরকার। সোমবার রাতে সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়, সোশাল মিডিয়ার উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার অনেক রাতে নেপালের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং জানান, সরকারের তরফে রাতে জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিন দিন আগে ফেসবুক, এক্স-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাতেই নতিস্বীকার করে নিল ওলি সরকার। তবে সোশাল মিডিয়া উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জারি রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নেপালের তরুণ প্রজন্ম। নেপালের কেপি শর্মা ওলি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ ছিলই। তবে সম্প্রতি সেদেশে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-সহ ২৬ ধরনের সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হওয়ায় আগুনে যেন ঘি পড়ে। নেপাল সরকার জানিয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়াগুলি পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সরকারের খাতায় নাম নথিভুক্ত করাতে হবে। ৩ সেপ্টেম্বর সেই সময়সীমা শেষ হয়। অধিকাংশ সোশ্যাল মিডিয়াই নেপালের সরকারি নির্দেশ মানেনি। ৪ সেপ্টেম্বর ফেসবুক, এক্স, হোয়াট্সঅ্যাপ-সহ ২৬টি অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে সব সোশাল মিডিয়াই যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তা নয়। টিকটক, ভাইবার, উইটক, নিমবুজ, টেলিগ্রাম ও গ্লোবাল ডায়রিকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। দেশের যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভের আঁচ পেয়ে আগেই নেপালের নানা অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছিল সে দেশের সরকার। তবে টিকটক নিয়ে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সেটির মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে তোলেন প্রতিবাদীরা। প্রতিবাদ আন্দোলনে নামে সেখানকার তরুণ প্রজন্ম। প্রথমে অনলাইনে প্রতিবাদ শুরু হলেও দ্রুত তা রূপ নেয় গণ-আন্দোলনে। রাস্তায় নেমে কেপি শর্মা ওলি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখায় তাঁরা। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলে— দুর্নীতি বন্ধ করো, সামাজিক মাধ্যম নয়, আমাদের কণ্ঠস্বর বন্ধ করা চলবে না।
এমনকী একদল উত্তেজিত জনতা সংসদ ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি করে প্রশাসন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে তরুণ তুর্কিরা। নামানো হয় সেনা। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে চলে জলকামান। পুলিশের গুলিতে ২০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীরর মৃত্যু হয়। আহত ২৫০ জনের বেশি। যদিও আন্দোলনকে জেন জি বিপ্ল বলা হলেও, এতে শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, মিলেনিয়াল থেকে প্রবীণরাও যোগ দেন। তাঁর কথায়, এটা শুধু সোশ্যাল মিডিয়া খোলার লড়াই নয়, এটা দীর্ঘদিনের দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলন। এদিকে, বিরোধী দলগুলির দাবি, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে অন্য উদ্দেশ্য। বিরোধীরা যেন কোনওভাবেই এই সব মঞ্চকে ব্যবহার করে প্রতিবাদ না জানাতে পারে তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রী ওলি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, জেন জি ঝামেলাবাজদের কাছে সরকার মাথা নোয়াবে না। এমনকী তিনি ঘোষণা করেছিলেন— প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়লেও তিনি সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ রাখবেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়। তীব্র চাপে পড়ে জরুরি বৈঠক ডাকে মন্ত্রিসভা। সেই বৈঠকেই সরকার সিদ্ধান্ত নেয়। সোশাল মিডিয়ার উপর থেকে সমস্ত রকম নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। সোশাল মিডিয়া থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর দেশের যুব সমাজের কাছে মন্ত্রী আবেদন জানান, তাঁরা যেন এই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে দাবি করা হয়েছে, এক্স সমাজমাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য উঠে এসেছিল, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বকে অসম্মান করে। জানা গিয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে হিংসা ও হত্যার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। এদিকে, সোমবার রাত থেকে নেপালে ফের চালু হয়ে গিয়েছে ফেসবুক, এক্স, হোয়াটসঅ্যাপ। তবে সোশাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এবার নতুন মোড় নেয়। ছাত্র মৃত্যু, সরকারের লাগামছাড়া দুর্নীতি ও বেকারত্বকে হাতিয়ার করে আন্দোলনের ঝাঁজ ক্রমশ বাড়ছে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপ্রধানের বাসভবনে ঢুকে পড়েছিল বিক্ষোভকারীরা, গত বছর জুলাই বিপ্লবে বাংলাদেশেও একই ঘটনা ঘটে। পতন হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এবার কি নেপালের কেপি শর্মা ওলি সরকারের পালা? তরুণ তুর্কিদের বিপ্লবে উত্তাল নেপাল। চর্চা শুরু হয়েছে বিশ্ব রাজনীতিতেও।


More Stories
লেনিনের মৃত্যু : বিতর্ক এবং বাস্তব
ভিড় সীমান্তে, ভিড় হোল্ডিং সেন্টারে
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা