Home » অগ্নিগর্ভ নেপাল ভারতীয়দের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা কেন্দ্রে

অগ্নিগর্ভ নেপাল ভারতীয়দের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা কেন্দ্রে

আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ নেপাল। পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কপি শর্মা অলি। আরও অনেক মন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে নেপালে থাকা ভারতীয়দের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল বিদেশমন্ত্রক। স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মাবলি নেমে চলার নির্দেশ বিদেশমন্ত্রক।

শ্রীলঙ্কা, তারপর বাংলাদেশ। এখন নেপাল। ভারতকে ঘিরে থাকা একের পর এক প্রতিবেশী রাষ্ট্রে উত্তাল পরিবর্তনের ডাক। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তাল নেপাল। সেখানকার সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে তরুণ প্রজন্ম। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নেপালে থাকা ভারতীয়দের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল বিদেশমন্ত্রক। নেপালে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মাবলি মেনে চলতে বলা হয়েছে ভারতীয়দের। সোমবার জারি করা বিবৃতিতে ভারতীয়দের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, কাঠমাণ্ডু এবং নেপালের একাধিক শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে, সেদিকেও ভারত নজর রাখছে। নেপালে যেসমস্ত ভারতীয়রা রয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। নেপালি প্রশাসনের নির্দেশ মতো চলতে অনুরোধ করা হচ্ছে ভারতীয়দের। তরুণদের মৃত্যুর খবরে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ভারত। নেপালের কেপি শর্মা ওলি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ ছিলই। সম্প্রতি সেদেশে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-সহ ২৬ ধরনের সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হওয়ায় আগুনে ঘি পড়েছে। প্রতিবাদ আন্দোলনে নেমেছে সেখানকার তরুণ প্রজন্ম। রাস্তায় নেমে কেপি শর্মা ওলি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি করে প্রশাসন। তা সত্ত্বেও পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে তরুণ তুর্কিরা। নামানো হয় সেনা। পুলিশের গুলিতে ২০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫০-র বেশি। গুরুতর এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার রাতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকে সরকার। সেখানই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সোশাল মিডিয়ার উপর থেকে সমস্ত রকম নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। তবে সোশাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এবার নতুন মোড় নেয়। ছাত্র মৃত্যু, সরকারের লাগামছাড়া দুর্নীতি ও বেকারত্বকে হাতিয়ার করে আন্দোলনের ঝাঁজ ক্রমশ বাড়ছে। শ্রীলঙ্কা, তারপর বাংলাদেশ। এখন নেপাল। ভারতকে ঘিরে থাকা একের পর এক প্রতিবেশী রাষ্ট্রে উত্তাল পরিবর্তনের ডাক। আর এই বদলে ভাগ্যচক্রের চাকা কোনদিকে ঘুরতে চলেছে, এই প্রশ্নটাই এখন বিরাট হয়ে দেখা দিয়েছে নয়াদিল্লির সামনে। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশেও যেমন এই বিদ্রোহের সামনের সারিতে ছিলেন জেন জি অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। তেমনই নেপালেও এই মুহূর্তে সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে নব্য প্রজন্ম। সব জায়গাতেই লড়াইয়ের সুর বাঁধা হয়েছে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে হটিয়ে নতুন স্বচ্ছ প্রশাসনকে গদিতে বসানোই লক্ষ্য। কিন্তু, সত্যিই কি এর পিছনে রয়েছে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবাবেগ। নাকি এই পুতুলনাচে পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে ভারতশত্রু অন্য কোনও দেশ? কে হতে পারে তারা, পাকিস্তান, চিন নাকি আমেরিকা, এটাই আপাতত লাখ টাকার প্রশ্ন

About Post Author