Home » ভোটার তালিকা নিয়ে ফের বোমা রাহুলের, খারিজ কমিশনের

ভোটার তালিকা নিয়ে ফের বোমা রাহুলের, খারিজ কমিশনের

মহারাষ্ট্রের ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ, সাংবাদিক সম্মেলন করে তুলোধোনা করলেন রাহুল গান্ধী

 

একদিকে যখন বিহারের পর গোটা দেশ জুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন, দিল্লিতে সেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে, ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গেও পুজোর পর এসআইআর চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে, ঠিক সেই সময়ই ভোটার তালিকায় কারচুপি নিয়ে ফের বোমা ফাটালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। কিছুদিন আগেই দাবি করেছিলেন এবার হাইড্রোজেন বোমা ফাটাবেন তিনি, হলও খানিকটা তাই। তবে হাইড্রোজেন বোমা ফাটল না। সামনে এল আরও বিস্ফোরক তথ্য। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস সাংসদ দাবি করলেন, সফটওয়্যার ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভোটচোরদের রক্ষা করছেন বলেও দাবি করেন রাহুল গান্ধি।

 

গত ১ সেপ্টেম্বর পাটনায় ভোট অধিকার যাত্রার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েই রাহুল হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এবার হাইড্রোজেন বোমা ফাটানো হবে। নতুন যে তথ্য সামনে তিনি আনবেন সেটা দেখার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আর মুখ দেখানোর জায়গাও থাকবে না। বৃহস্পতিবার খানিকটা হলও তাই। ভোটার তালিকায় অনিয়মের সন্দেহ নিয়ে কেঁচো খুঁড়তে নেমেছিলেন রাহুল গান্ধি। কিন্তু তা করতে গিয়ে তিনি গোখরোর সন্ধান পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, এটা হাইড্রোজেন বোমা না হলেও এটা হল, সফ্টওয়্যার দিয়ে ভোটার চুরির কাহিনি।
উদাহরণ দিয়ে তিনি একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকার নমুনা দেখান। দেখা যাচ্ছে, সেখানে বুথ ওয়াড়ি ভোটার তালিকায় প্রথমে যে ভোটারের নাম, সেই নাম ব্যবহার করে তালিকা থেকে কোথাও ১২ জন কোথাও ১৪ জনের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তা হচ্ছে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে। আর যে মোবাইল ব্যবহার করে তা করা হচ্ছে, সেটা ওই রাজ্যেরই কারও নয়।
রাহুল গান্ধি কর্নাটকের আলন্দ কেন্দ্রের একটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওই এলাকায় ৬ হাজার ১৮ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বাইরে থেকে সফ্টওয়্যার এবং ফোন নম্বর ব্যবহার করে তা করা হচ্ছে। এক বুথ-লেভেল অফিসারের কাকার নাম মুছে যাওয়া দেখে বিষয়টি সামনে আসে। রাহুলের অভিযোগ, ভুয়ো লগ-ইন ব্যবহার করে এই কারচুপি হয়েছে। কাজটা করা হচ্ছে সংগঠিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু সংস্থা এবং কল সেন্টারের মাধ্যমে।
কিছুদিন আগে কর্ণাটকের মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় লক্ষাধিক ভুয়ো ভোটার রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন রাহুল। এবার তাঁর অভিযোগ, শুধু ভুয়ো ভোটার নয়, বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। অথচ কর্ণাটক সিআইডি এ নিয়ে তথ্য চাইতে গেলে নির্বাচন কমিশন সেই তথ্যও দিতে চাইছে না।
রাহুলের দাবি, সারা দেশে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য বিরোধী ভোটব্যাঙ্ককে দুর্বল করা। বেছে বেছে কংগ্রেস সমর্থক, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও ওবিসি ভোটারদের নাম পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দায়ী করেছেন। এবং বলেছেন, ভোট চুরিতে সরাসরি মদত করছেন জ্ঞানেশ কুমার। নির্বাচন কমিশন সেইসব মানুষদের আড়াল করছে যারা ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।
রাহুলের হুঁশিয়ারি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার তথ্য, ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও ওটিপির ডেটা এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে প্রমাণিত হবে, কমিশন অপরাধীদেরই আড়াল করছে।
রাহুল গান্ধি জানিয়ে দেন, এটাই শেষ নয়, সামনে আরও বড় পর্দাফাঁস হতে চলেছে। সেটা হবে হাইড্রোজেন বোমা। এই প্রমাণ যুব সমাজকে বুঝিয়ে দেবে, কীভাবে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে।
বিরোধী দলনেতার ইঙ্গিত, হাইড্রোজেন বোমা আরও ভয়ংকর হবে। সেটার জন্য প্রস্তুত হবে তাঁর দল। রাহুল গান্ধির সাফ কথা, সাদা-কালো প্রমাণ হাতে রয়েছে। এবার কমিশনের দায়িত্ব ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি চ্যালেঞ্জের সুরে বলেছেন কমিশন যদি স্বচ্ছ্ব হয়, তাহলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কর্নাটক সিআইডিকে তদন্তে সবরকম সাহায্য করবে তারা।
কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া করে নির্বাচন কমিশন। সাফ জানায়, ভোটচুরির এই অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’।
হেডারঃ অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’
রাহুল গান্ধির অভিযোগ নস্যাৎ করল কমিশন

ফের ভোটচুরি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন রাহুল গান্ধি। এবার তাঁর অভিযোগ, সফটওয়্যার ব্যবহার করে পরিকল্পনামাফিক নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার অবৈধ ভাবে ভোটারদের নাম ঢোকানো হচ্ছে। তা হচ্ছে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দায়ী করেছেন। এবং বলেছেন, ভোট চুরিতে সরাসরি মদত করছেন জ্ঞানেশ কুমার। নির্বাচন কমিশন সেইসব মানুষদের আড়াল করছে যারা ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।
যদিও রাহুলের এই অভিযোগের পাল্টা উত্তর চলে আসে কিছুক্ষণের মধ্যেই। কংগ্রেস নেতার যাবতীয় দাবি ওড়ায় নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়ে দেয়, সাংবাদিক সম্মেলনে তোলা রাহুল গান্ধির সমস্ত অভিযোগ ‘ভুল এবং ভিত্তিহীন’। এইসঙ্গে কমিশনের তরফে বলা হয়, কেউ অনলাইনে কোনও ভোটারের নাম মুছে ফেলতে পারে না। কমিশন স্পষ্ট করেছে, নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা না বলে ভোটার বাতিল হয় না। তবে নির্বাচন কমিশন স্বীকার করেছে, কর্ণাটকের অলন্দ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারদের নাম মুছে ফেলার কিছু ব্যর্থ প্রচেষ্টা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্বাচন কমিশন নিজেই একটি এফআইআর দায়ের করেছে। তথ্য অনুযায়ী, ওই আসনে ২০১৮ সালে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির শুভধ গুট্টেদার। আর ২০২৩ সালে জেতেন কংগ্রেসের বি আর পাতিল। যদিও রাহুল অভিযোগ করেছেন, এই বিষয়ে সিআইডি তদন্তে সহযোগিতা করছে না কমিশন।
তবে, শুধু নির্বাচন কমিশনই যে আসরে নামে বিজেপিও। কমিশনের সুরেই বিজেপিও বিঁধেছে লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে। বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর দাবি করেন, রাহুল যে সব দাবি করলেন, সবটাই ভিত্তিহীন। কোনও প্রমাণ ছাড়া নাটক করছেন। রাহুল বারবার শুধু অভিযোগ করছেন, কোনও প্রমাণ দিচ্ছেন না। নিজের অভিযোগ কমিশনে হলফনামা আকারেও দিচ্ছেন না। প্রমাণ যদি থেকে থাকে তাহলে আদালতেই বা যাচ্ছেন না কেন?
যদিও, রাহুল গান্ধি সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, যে কাজ কমিশনের করার কথা, তা করতে হচ্ছে তাঁকে। তার কাজ সত্যিটা তুলে ধরা। সেটাই করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার প্রমাণ সহ সব অভিযোগ তুলে ধরেন। সাফ বলেন, গণতন্ত্রের হত্যাকারী’দের সুরক্ষা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগও সামনে আনেন রাহুল। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে ভোট মুছে দেওয়া হচ্ছিল। যদিও কমিশনের দাবি, জনগণের কেউই অনলাইনে ভোট মুছতে পারেন না। রাহুল গান্ধি যে ধারণা দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভুল। কোনও ভোট মুছে ফেলার আগে ওই ব্যক্তিকে অবশ্যই শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়।

About Post Author