লাদাখে চলা অশান্তির আবহেই শুক্রবার গ্রেফতার হন আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক। প্ররোচনামূলক মন্তব্য করে প্রতিবাদীদের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মাত্র একদিন আগেই ওয়াংচুক বলেছিলেন, এই আন্দোলনের জন্য গ্রেফতার হলেও তিনি খুশি হবেন! তা কার্যত সত্যিই হয়ে গেল। জানা গিয়েছে, লাদাখের বিদ্রোহী নেতা সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্র। এই আইনে সরকার স্রেফ সন্দেহের বশে সন্দেহভাজনকে দিনের পর দিন আটকে রাখতে পারে। মেলে না জামিনও। সোনমের সঙ্গেও তেমনটা হতে পারে বলে তাঁর অনুগামীদের আশঙ্কা। কোনওভাবেই যাতে তাঁকে কেন্দ্র করে লাদাখে নতুন করে অশান্তি ছড়াতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে লেহ থেকে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার দূরে যোধপুরে। লাদাখে গণবিক্ষোভের ২ দিন পর শুক্রবার আন্দোলনের প্রধান মুখ পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উসকানি এবং হিংসায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা ছিল সোনমের। সেই সাংবাদিক সম্মেলনের ঠিক পাঁচ মিনিট আগে তিনি গ্রেফতার হন। সোনম ওয়াংচুকের শিক্ষামূলক সংস্থার বিদেশি তহবিল গ্রহণ করার অনুমোদন বাতিলের খবর আগেই মিলেছিল। এবার তাঁকে গ্রেফতার করা হল। সূত্রের খবর, গ্রেফতারির পরই সোনমকে লাদাখ থেকে সরিয়ে রাতারাতি নিয়ে যাওয়া হয় লেহ থেকে ১৪০০ কিমি দূরে রাজস্থানের যোধপুরে। এদিকে, তাঁর গ্রেফতারির পর লেহ-তে যাতে অশান্তি না ছড়ায় সেটা নিশ্চিত করতে শহরের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কড়া পুলিশি প্রহরায় রাখা হয়েছে গোটা শহরকে। জমায়েতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বহু নেতা সোনমকে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও তিনি তা শোনেননি। আরব বসন্তের কায়দায় বিক্ষোভে উসকানি দিয়ে গিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নেপালের জেন জি আন্দোলনের উল্লেখ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছিল, সোনমের উসকানিমূলক বক্তৃতার জেরেই একদল জনতা অনশনস্থল ত্যাগ করে হিংসাত্মক আন্দোলনে যোগ দেন। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের পাশাপাশি লেহ-এর সরকারি দপ্তরেও হামলা চালানো হয়েছে।
এটা স্পষ্ট যে, সোনমের উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণেই জনতা প্রভাবিত হয়েছেন। সোনম ওয়াংচুককে সিনেপ্রেমীরা চেনে বাস্তবের ফুনশুক ওয়াংডু হিসেবে। মনে করা হয়, বলিউডের থ্রি ইডিয়টস ছবিতে আমির খানের চরিত্র আসলে তাঁরই গল্প। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে অভিনব উদ্যোগের জন্য ২০১৮ সালে সোনম পেয়েছিলেন র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার। কিন্তু সেই বহুপ্রশংসিত ব্যক্তিত্বই এখন নাকি লাদাখের রক্তক্ষয়ী অশান্তির কেন্দ্রবিন্দুতে।
তাঁর বিরুদ্ধে বিরাট অভিযোগও তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের অভিযোগ, সোনমের সংস্থা ‘স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ’ বিদেশি অর্থ ব্যবহার করেছে। যদিও ওয়াংচুক দাবি করেছেন, তাঁদের সংস্থা কোনও বিদেশি অনুদান নেয়নি, বরং জাতিসংঘ, সুইজারল্যান্ড ও ইতালির সংস্থার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করে কর শোধ করেছে। ২০১৯ সালে জম্মু–কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন অনেকেই তা স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে লাদাখবাসীর রাজ্যত্বের দাবি জোরালো হয়েছে। ওয়াংচুক শুধু রাজ্যত্বই নয়, লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এনে স্বশাসনের দাবিও তুলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় কোনও সমাধানসূত্র না বেরনোয়, শেষে সপ্তাহ দু’য়েক আগে অনশনে বসেন বাস্তবের র্যাঞ্চো। অবশেষে তিনি গ্রেফতার।


More Stories
পুলিশের জালে উদয়ন গুহ
হুইলচেয়ারের জীবন ও সাধন রায়
সাষ্টাঙ্গে নত হয়ে ক্ষমাস্বীকার, মুখ্যমন্ত্রীর নামে কুরুচিকর পোস্ট করার জন্য শাস্তিবিধান!