Home » অন্য রাজ্যে থাকা বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কী ব্যবস্থা? বিশেষ পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের

অন্য রাজ্যে থাকা বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কী ব্যবস্থা? বিশেষ পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের

বাংলায় এসআইআর-এর আগে নজরে পরিযায়ী শ্রমিকরা। এসআইআরে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক-সহ কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। ভিনরাজ্যের ভোটার তালিকায় যাতে কারও নাম না থেকে যায়, কেউ যাতে দুই জায়গায় ভোট দিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, পরিযায়ী শ্রমিক ও বাংলা থেকে কর্মসূত্রে অন‌্য রাজ্যে থিতু হওয়া বাসিন্দাদের জন‌্য আবেদনপত্র বা এনুমারেশন ফর্মে একটি আলাদা অংশ থাকবে। সেই পরিযায়ী বা প্রবাসী যে শুধুমাত্র বাংলার ভোটার এবং অন্য রাজ্যের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই, তা লিখিতভাবে ঘোষণা করে স্বাক্ষর করতে হবে ওই অংশে। কোনও ব‌্যক্তি যাতে দুই জায়গায় ভোট না দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এমন ভাবনা কমিশনের। জানা গিয়েছে, বাড়ি-বাড়ি ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও ফর্ম পূরণের সুযোগ থাকবে। পরিযায়ী শ্রমিক ও ভিন রাজ্যে থিতু হওয়া বাংলার ভোটারদের কাছ থেকে আলাদা কোনও অতিরিক্ত নথি না চাওয়ার পথে হাঁটতে চাইছে কমিশন।

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা বাবা-মায়ের নাম থাকলে শুধু সেই এপিক নম্বর ও পার্ট নম্বর দিলেই হবে। তবে বাবা-মায়ের নাম থাকলেও নিজের নাম না থাকলে ১২টি নির্ধারিত নথির যে কোনও একটি জমা দিতে হবে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সারা দেশে এক জনের একটিই ভোট নিশ্চিত করতে চায় কমিশন। সেই পরিকল্পনা চলছে। তবে যেসব পরিযায়ী শ্রমিক বা তাঁদের বাবা-মায়ের নাম ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম, সে বিষয়টি এখনও অন্ধকারে। কিছুদিন আগেই পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে কার নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে, কার নেই — তা খতিয়ে দেখতে এবার সরাসরি জেলার জেলাশাসকদের চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। এবার আবেদনপত্রে বিশেষ ভাবনা। পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যে এসআইআর-এর আবেদনপত্র ছাপানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কমিশন তা নিয়ে প্রতি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশও দিয়েছিল। রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যার দ্বিগুণ ফর্ম ছাপাতে হবে।

সূত্রের খবর, বাংলায় ৭.৬৫ কোটি ভোটার রয়েছেন। ফলে ১৫ কোটি ফর্ম ছাপাতে হবে। এক জন ভোটারের জন্য ছাপানো হবে দু’টি করে আবেদনপত্র। একটি থাকবে ভোটারের কাছে। অন্যটি বুথ লেভেল আধিকারিকেরা নিয়ে আসবেন। অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যেতে পারে। কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, গতবারের এসআইআর ধরে প্রতিটি রাজ্যের ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি-সহ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর ইতিমধ্যে সেই কাজ শেষ করে ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শেষ বার হয়েছিল ২০০২ সালে। পশ্চিমবঙ্গে এমনিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার কথা প্রশাসনের। তবে পরিযায়ীদের জন্য অনলাইনেও ফর্ম পূরণের বন্দোবস্ত থাকবে। মূল ফর্মের মধ্যে একটি কিউআর কোড থাকতে পারে। তার মাধ্যমে ফর্মটি অনলাইনে পূরণ করা যেতে পারে। পরিযায়ীদের কাছ থেকে বাংলায় আলাদা কোনও নথি চাওয়া হবে না বলেই জানা গিয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ২২ লক্ষ বা তার বেশি হতে পারে। অনেকের মতে, সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি হবে। শুধু কোভিড অতিমারির সময়েই ৪০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে রাজ্যে ফিরিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তাঁদের বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুত হয়েই তাই মাঠে নামতে চাইছে কমিশন।

About Post Author