Home » কঠিন সময়ে যোদ্ধাদের কুর্নিশ, দুর্গতদের জন্য অর্থ সাহায্য করলেন মমতা

কঠিন সময়ে যোদ্ধাদের কুর্নিশ, দুর্গতদের জন্য অর্থ সাহায্য করলেন মমতা

কঠিন সময়ে যোদ্ধাদের কুর্নিশ, দুর্গতদের জন্য অর্থ সাহায্য করলেন মমতা

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে প্রবল বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল উত্তরবঙ্গ। তবে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে উত্তর। বুধবার তারই পর্যালোচনা বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলাশাসক, পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠকের পাশাপাশি বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে এখনও পর্যন্ত কী কী করেছে রাজ্য সরকার, তার খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। পাহাড়ে প্রশাসনের লড়াইয়ে কৃতজ্ঞ জানান। যদিও, এদিনও মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা যায় বঞ্চনার সুর। এর পাশাপাশি নিজেও ৫ লক্ষ টাকা বিপর্যয় মোকাবিলায় দান করলেন।।

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে প্রবল বৃষ্টির জেরে তৈরি হওয়া দুর্যোগ পরিস্থিতি সামাল দিতে টানা কয়েক দিন ধরে ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দার্জিলিঙে প্রশাসনিক বৈঠকে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু আর সাত দিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে। পাশাপাশি, সেখানে একটি স্থায়ী সেতুর কাজও চলছে, যা বছর দেড়েক আগেই শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই পায়ে হাঁটার একটি ছোট সেতু তৈরি করা হয়েছে।
দার্জিলিংয়ের বৈঠকে পাহাড়ের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, পুনর্গঠনের রূপরেখা এবং ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দার্জিলিঙের ৯টি ব্লক এবং ৪টি মহকুমা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০-রও বেশি মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মমতার কথায়, ওরা তলিয়ে যেতে পারতেন। ভগবানের কৃপায় বেঁচে গিয়েছেন। উদ্ধারকাজে যুক্ত প্রশাসনিক টিমকে কৃতজ্ঞতা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বর্তমানে ৩৭টি ত্রাণ শিবিরে এখনো রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ। তাঁদের রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যত দিন না তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তত দিন চালু থাকবে এই শিবিরগুলি। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, প্রতিটি পরিবারকে ফের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে যা যা প্রয়োজন, সব করা হবে। হারিয়ে যাওয়া সমস্ত নথিও দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।
উত্তরবঙ্গের দুর্যোগে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপদে পড়া সেই কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস রাজ্য সরকারের। বাড়ি, বাড়ি গিয়ে বা ত্রাণ শিবিরে থাকা চাষিদের কাছে গিয়ে বিমার ফর্ম ফিলাপের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়। তিনি জানিয়েছেন, ডিএম, বিডিওরা সার্ভে রিপোর্ট পাঠাবে, এগ্রিকালচার বিভাগ নিজেরাও খতিয়ে দেখবে। দ্রুত সেই টাকা পাবেন চাষিরা।
অক্টোবরের শুরুতেই প্রকৃতির তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় পাহাড়ের একাধিক জায়গা। ভুটান থেকে জল এসে ভাসিয়ে নেয় একাধিক এলাকা। নামে ভূমিধস। বাড়ি, ঘর রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশপাশি ভেসে গিয়েছে বিস্তর চাষের জমি। আলিপুরদুয়ার, নাগরাকাটা, মিরিক, দার্জিলিংয়ের বহু জমি জলের তলায় চলে যায়। সেই দুর্যোগের জেরে পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও কাঁদছে, তবে মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয় হস্তক্ষেপে কিছুটা হলেও ভরসা ফিরে পাচ্ছেন দার্জিলিংবাসী। মিরিক থেকে মালবাজার—সর্বত্রই রাজ্যের তৎপরতা নজরকাড়া। বিপর্যয়ের শুরু থেকেই বিরোধীদের তরফে অভিযোগ করা হচ্ছিল, কেন বিপর্যয়ের পরই রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সেখানে দেখা যায়নি। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী এত বড় বিপর্যয়ের পরও কার্নিভালে ব্যস্ত ছিলেন, সেক্ষেত্রে NDRF, সেনাই অধিকাংশ উদ্ধারকার্য চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, রাজ্য সরকারের তরফে বিপর্যস্ত এলাকায় ঠিক কী কী করা হয়েছে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১১ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে রাজ্যের তরফে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

About Post Author