ভোটের বাকি মাত্র কয়েক মাস৷ ২০২৬ সালের সেই বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিচ্ছে। কালীপুজো মিটলেই SIR-বিরোধী আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াতে চলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। নভেম্বরের গোড়ায় সভা করতে পারেন মমতা-অভিষেক।
বিহারের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন আগেই হয়েছে। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন আগামী বছরেই। গত ৮ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ দল আসে এখানে। SIR নিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই বাংলায় আসে তারা। পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ায় বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি রাজারহাট-গোপালাপুরে সব আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। সূত্রের দাবি, আগামী ২ নভেম্বর থেকেই রাজ্যেশুরু হতে পারে SIR, বৈঠকে এমনই বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের কথায়, ভোটার তালিকা নির্ভুল করতেই SIR। যদিও, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো আগেই প্রশ্ন তুলেছেন, এখনও তো ভোট ঘোষণা হয়নি, তাহলে কীসের ভিত্তিতে এভাবে জেলায় জেলায় বৈঠক করছে কমিশন? খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন নিজেই। দাবি করেন, এসআইআরের নাম করে এনআরসি চালু করার চেষ্টা হচ্ছে !
এবার সূত্র বলছে, নভেম্বরের গোড়া থেকে ভোটের জন্য তেড়েফুঁড়ে নামতে চলেছে তৃণমূল। সেই সভার মুখ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে এসআইআর-এর বিরোধিতা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে আগেই জানা গিয়েছে, বাংলায় ২ নভেম্বর, সোমবার থেকে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন শুরু হয়ে যেতে পারে। হয় সেদিন বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা হবে। বা তার আগে বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা হয়ে যাবে, সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হবে সেদিন থেকে। শেষ পর্যন্ত কৌশলের কোনও বদল না ঘটলে ওই দিনই প্রতিবাদ সভা ডাকতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত নয়। ভোটার তালিকায় সংশোধন নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলেরই আপত্তি থাকার কথা নয়। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু শুধু তৃণমূল নয়, এই নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিরোধী দল আশঙ্কা প্রকাশ করতে শুরু করেছে। তাদের মতে, এই সংশোধনের উদ্দেশ্য ও বিধেয় সন্দেহজনক। কেন্দ্রে শাসক দল বিজেপি যেখানে যেখানে বেকায়দায় রয়েছে, সেখানে এমনভাবে ভোটার তালিকায় সংশোধন করা হচ্ছে, যা তাদের আসলে সাহায্য করছে। এই সংশোধনের উদ্দেশ্য ভোটার তালিকায় প্রকৃত ও নতুন ভোটার সংযোজন নয়, বরং বাদ দেওয়া। কংগ্রেস, বাম, তৃণমূল সকলেরই মতে এতে বিপদে পড়বে গরিব, দলিত ও প্রান্তিক মানুষ।
তবে এখানে তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হল, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই বিজেপি নেতাদের লাফালাফিও নজরে পড়ার মতো। কারও কারও অতি উৎসাহী ভাব এমনই যে ভোটার তালিকায় সংশোধন হলেই বিজেপি ভোটে জিতে যাবে। সেই তালিকায় জ্বলজ্বল করছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম। তিনিই সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত।
সূত্রের মতে, ভোটার লিস্টে এই সংশোধনের প্রক্রিয়াকে বাংলায় গরিব ও প্রান্তিক মানুষের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের চক্রান্ত হিসাবে তুলে ধরতে পারে তৃণমূল। সম্ভবত রাজ্যে শাসক দলের বক্তব্য হবে যে, গত চার বছর ধরে বাংলায় একশো দিনের কাজ ও আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার। এবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তৃণমূলের পাল্টা প্রশ্ন, সমীক্ষা বা সংশোধনের আগেই এই সংখ্যাটা বিজেপি বলছে কী করে? তাহলে কি বিজেপিই ঠিক করে দিচ্ছে যে বাংলায় কত ভোটারের নাম বাদ দিতে হবে ? আসলে নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এর নিরপেক্ষতা সন্দেহের উর্ধ্বে থাকা উচিত। কিন্তু কমিশনের কিছু পদক্ষেপকে সামনে রেখে বিরোধীরা এই ধারণাই গড়ে তুলতে চাইছে যে জাতীয় নির্বাচন সদন বিজেপির কথায় চলছে। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বেছে নেওয়ার জন্য যে সিলেকশন কমিটি হবে তাতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা ও দেশের প্রধান বিচারপতি। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের সেই নির্দেশ উল্টে দিতে ২০২৩ সালে আইন পাশ করায় মোদি সরকার। তাতে বলা হয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বেছে নেওয়ার কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার আরও একজন মন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা। সন্দেহের পরত জমতে শুরু করে এখান থেকেই। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর এক মন্ত্রী থাকবেন। তিন জনের মধ্যে দুজনের কথাতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বাছাই হবে। অর্থাৎ সরকার তথা কেন্দ্রে শাসক দলই ঠিক করে ফেলছেন সিইসি কে হবেন? গত ফেব্রুয়ারি মাসে জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ করার সময়েই বিতর্ক হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বেই এখন শুরু হয়েছে এসআইআর। প্রথমে বিহার তার পর পশ্চিমবঙ্গ। স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তুঙ্গে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী