Home » ক্রেডিট কার্ডের জালিয়াতি, সাইবার অপরাধী চক্রর পর্দাফাঁস আমাডাঙ্গা পুলিশের

ক্রেডিট কার্ডের জালিয়াতি, সাইবার অপরাধী চক্রর পর্দাফাঁস আমাডাঙ্গা পুলিশের

Oplus_131072

দীপ সেন ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা , ২২ নভেম্বর  : কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ আর তারই ফাঁকে পুলিশকে ধাপ্পা দেওয়ার চেষ্টা। অভিযোগের তদন্তে নামা আমডাঙা থানার পুলিশের তৎপরতায়  মূল পান্ডার  হদিস তো মিললই,  খোঁজ মিলল এক আন্তরাজ্য সাইবার চক্রের। এও জানা গেল, অভিযোগকারী নিজেও জড়িয়ে রয়েছে অপরাধের সঙ্গে। তদন্তে জানা যায়, সাইবার অপরাধের শিকড় অনেক গভীরে।  ঘটনাটি রোমহর্ষক আর পুলিশের রহস্যের পর্দাফাঁস করার বিষয়টিও ফিল্মি গল্পকে হার মানাবে।

একথা প্রচলিত যে, বাঘের চেয়েও পুলিশের দাপট বেশি। বাঘের বাঘে ছুলে ষোলো ঘা আর পুলিশে ছুলে আঠেরো ঘা – এই প্রবাদের মর্ম জানা ছিল না জনৈক আখতার অমর শাহজীর। সে পুলিশকে বোকা বানাতে চেয়ে এক ছক কষেছিল সে। আমডাঙ্গা  থানায় আখতার ওমর শাহজী মাস দুয়েক আগে (১২ আগস্ট)একটি ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের করে। আর এখান থেকেই শুরু হয় ঘটনার ঘনঘটা।

শাহজীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমডাঙ্গা থানার পুলিশ তদন্ত নেমে জানতে পারে গ্রামের সাধারণ মানুষের নামে একটি অসাধু চক্র এটিএম কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড তৈরী করে দামী জিনিসপত্র কিনে নিচ্ছে। যাঁদের নামে ক্রেডিট কার্ড তৈরী করা হচ্ছে অসাধু চক্র তাঁদের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ক্রেডিট কার্ডের প্রাপকদের এক একটি ক্রেডিট কার্ডে কমবেশি ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকার  অর্থ মূল্যের জিনিস কিনে নেয়। মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার আশিক মন্ডল এর নেতৃত্বে আমডাঙ্গা থানার একটি তদন্তকারী দল বেঙ্গালুরু থেকে ঘটনার অন্যতম প্রধান পান্ডা শেখ আসান আলী কে গ্রেফতার করে আনে। ট্রানসিট রিমান্ড থেকে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আরও জানতে পারে যে, এই ঘটনার মূল অভিযোগকারীও এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এবং সুবিধাপ্রাপ্ত।  সেও প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বা সমমূল্যের আর্থিক সুবিধা নেয় এই অসাধু ক্রেডিট কার্ড চক্রের আর্থিক জালিয়াতির কারবারে। নিজেকে সন্দেহের উর্ধ্বে রাখার জন্য  সে নিজেই অভিযোগ করেছিল। আমডাঙ্গা থানার তৎপর পুলিশ বাহিনীকে ঘোল খাওয়ানোর চেষ্টায় সুবিধা হয় নি, উল্টে সে নিজেই পুলিশের জলে আটকে পড়ে।

দুজনকে  জিজ্ঞাসাবাদ তথা জেরা করে উঠে আসে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য, সন্ধান মেলে লুট করা খাজানার।  তল্লাশি চালিয়ে ৮৪ টি ক্রেডিট কার্ড, একটি ল্যাপটপ চারটি, সিম কার্ড, ক্রেডিট কার্ড সোয়াইপ মেশিন, চারটি মোবাইল। আমডাঙ্গা থানার আইসি রাজকুমার সরকারের নেতৃত্বে তদন্তকারী আধিকারিকরা দ্রুত তদন্তের জাল গুটিয়ে আনে।  একের পর এক দোষী গ্রেফতার হয় এবং ক্রেডিট কার্ডের জালিয়াতির অর্থ উদ্ধার করে। পুলিশ এখনও একজনের সন্ধানে রয়েছে এবং দরকারে আরও একবার ভিনরাজ্যে হানা দিতে পারে। তবে আমডাঙ্গা থানার পুলিশ  এই সাইবার চক্রটির কর্মকাণ্ড নখদর্পনে এনে  মূল সমেত উপড়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে বলেই জানিয়েছেন বারাসাত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস।।

About Post Author