সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বর : অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন, তৃণমূল সংহতি দিবসের দিন শিলান্যাস হয়ে গেল বাবরি মসজিদের। মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গায় হুমায়ুন কবীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন বাবরি মসজিদের। হাইকোর্টের সবুজ সংকেত আগেই পেয়েছিলেন, হাজার বিতর্কের মাঝে সাধের বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করে ফেললেন সদ্য বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর। বললেন, প্রস্তাবিত দিনেই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তিনি করে দেখিয়েছেন। এবার নির্মাণের পালা। ২৫ বিঘা জমি তাঁর হাতে থাকলেও। তিন কাঠা জমির মধ্যে শিলান্যাসের দিন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে।হুমায়ুন কবীর এও বললেন,একটি ইট এখান থেকে খুলে নিয়ে যেতে পারবে না। বাজেট ৩০০ কোটি টাকা। ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকরা তাঁকে অর্থ অনুদান দিচ্ছেন। হুমায়ুন কবীর শিলান্যাস করলেন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন। এও বললেন, “বাবরি মসজিদ হবেই, হবেই, হবেই। বাংলার ৩৭ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা যে কোনো মূল্যে এটি তৈরি করবে। ” এরকম তথাকথিত সংখ্যালঘু ধর্মভিত্তিক ঘোষণার মধ্যেও অদৃশ্য হয়েও প্রবল ভাবে হাজির তৃণমূল এবং অবশ্যই বিজেপি। হুমায়ুন ও বাবরি ভিত্তিপ্রস্তর কীভাবে রাজ্য রাজনীতিতে এবং আসন্ন ভোটে প্রভাব তুলতে পারে তা বোঝার চেষ্টা করা যাক।
শনিবার রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যেই বাবরি মসজিদের শিলান্যাস ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল হুমায়ুন কবীরের হাতে। হয়তো মুর্শিদাবাদ থেকেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল বঙ্গে সরাসরি ধর্মীয় মেরুকরণের প্রচেষ্টার। এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই যে হুমায়ুন কবীরের কথা মত যেকেউ মন্দির – মসজিদ – গির্জা বানাতেই পারেন। ফারাক একটাই। ধর্মের সাথে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সুকৌশলে মেশানোর প্রধান চেষ্টা রয়েছে হুমায়ূনের উদ্যোগে। ধর্ম ও রাজনীতিকে সরাসরি মেশানোর মধ্যে দোষের কিছু দেখছেন না হুমায়ুন। তিনি ধর্মকেই ভিত্তিপ্রস্তর করে এগোতে চাইছেন ১৩৫টি বিধানসভা কেন্দ্রে। হুমায়ুন ও বাবরি ভিত্তিপ্রস্তর হওয়ার ১৬ দিন পরে, ২২ তারিখে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘোষণা করবেন। ঘোষণা করবেন রাজনৈতিক নয়া দল ও পথের। তবে তা যে ধর্মীয় মোড়কে হবে তার আভাস সুস্পষ্ট।
সবমিলিয়ে,রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,৩৭ শতাংশের মুসলিমের কথা বলে সরাসরি রাজনৈতিকভাবে ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাকাপাকি উদ্যোগ নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল সরকার ও শাসক দল এবং পুলিশ -প্রশাসন এখন হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা যাতে না ছড়ায় সেজন্যই সচেষ্ট।
গত কয়েকদিনের চিত্রনাট্য পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে হুমায়ুনের বর্তমান রাজনৈতিক ইচ্ছার। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্যে দিয়ে একটি কথা সুস্পষ্ট যে, তৃণমূলকেই হীনবল ও ক্ষীণশক্তি করার মূল লক্ষ্য তাঁর। নইলে তিনি তৃণমূল সুপ্রিমোকে আরএসএস মার্কা বলে, আশ্চর্যজনকভাবে বিজেপিকে ওয়েলকাম বলতেন না। ২০২৬ সালের ভোটে হুমায়ুন তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট বাক্সে কতটা ছোবল বসাতে পারেন এখন এটাই দেখার। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী দিনে বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাতে পারে হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদের উদ্যোগ।।
হুমায়ুন ও বাবরি ভিত্তিপ্রস্তর #হুমায়ুন ওবাবরিভিত্তিপ্রস্তর
আরও পড়ুন মুখ্যমন্ত্রী, হুমায়ুন কবীর ও মীরজাফর


More Stories
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
অভিষেকের দুয়ারে ইডি