Home » হুমায়ুন বিজেপির লোক : মিমের তত্ত্বের প্রভাব কতটা পড়বে?

হুমায়ুন বিজেপির লোক : মিমের তত্ত্বের প্রভাব কতটা পড়বে?

Oplus_131072

সময় কলকাতা, ৯ ডিসেম্বর : হুমায়ুন কবীরের প্রসঙ্গে তৃণমূলের সুরেই গলা মেলাল মিম(AIMIM)। যা যা অভিযোগ দলীয় বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এনে তাঁকে সাসপেন্ড করেছিল তৃণমূল, ঠিক তাই তাই বলল মিম। মিমের মুখপাত্র আসিম ওয়াকার জানিয়ে দিয়েছেন, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার প্রশ্ন ওঠে না। তিনি বলেছেন, আসাদুদ্দিন ওয়েইসি শান্তি চান, ধ্বংসের রাজনীতির শরিক তিনি নন। সবচেয়ে বড় কথা, হুমায়ুন কবীরকে শুভেন্দু অধিকারী কোর কমিটির মেম্বার আখ্যা দিয়েছেন ওয়াকার। হুমায়ুন বিজেপির লোক বলা ছাড়া আর কী কী বলেছেন মিমের মুখপাত্র আসিম ওয়াকার? তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে  হুমায়ুন সহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থানে কোনও প্রভাব পড়বে কি? পড়লে কোন দিকে তার অভিমুখ হবে?

Oplus_131072

বঙ্গ রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘসময় জড়িয়ে থাকা আসিম ওয়াকার বলেছেন, তাঁর কাছে যা তথ্য রয়েছে তা থেকে পরিষ্কার হুমায়ুন কবীর বঙ্গ বিজেপি সবচেয়ে বড় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কোর কমিটির সদস্য। আবার শুভেন্দু অধিকারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের কোর কমিটির সদস্য। আসিম ওয়াকার জানিয়েছেন, সারা ভারতের মুসলিম জানেন কার অঙ্গুলি হেলনে চলছেন হুমায়ুন। এই পথ যে ধ্বংসের তা জানিয়ে মিম প্রবক্তা বলেছেন, গঠনের পথে, একতা ও শান্তির পথে হাঁটবে মিম।  ধ্বংসের রাজনীতির পথে হাঁটবে না তা পরিষ্কার করে দিয়ে তিনি বলেন দলের সর্বোচ্চ নেতা কোনোদিন কোনো অশান্তি ও একতায় বিভেদ সৃষ্টি কারী শক্তির সঙ্গদান করেন নি।

মিম প্রবক্তা আসিম ওয়াকারের কথায় একবারও বাবরি মসজিদের নাম উঠে আসে নি তবুও তিনি যা বলেছেন তা সুস্পষ্ট। তিনি বলেছেন হুমায়ুন কবীর ধ্বংসের রাজনীতির খেলায় মেতেছেন।আর  হুমায়ূনের কার্যকলাপের জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীকে। তিনি বলেছেন, দেশের একতা ও শান্তি নষ্ট করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন হুমায়ুন কবীর ও তাঁর পেছনে থাকা শক্তি। ২০২১ সালের বঙ্গের বিধানসভা ভোটে মিমের দায়িত্বে থাকা আসিম ওয়াকারের বক্তব্যের গভীরতা কতটা সুদূরপ্রসারী বোঝার চেয়ে বোঝা জরুরি যে, তাঁর বক্তব্য ২০২৬ সালের ভোটের আগে কি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হুমায়ুন বিজেপির লোক , তত্ত্বগতভাবে আসিম ওয়াকারের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।সন্দেহের অবকাশ নেই,  মিম যদি সরাসরি হুমায়ুন বিরোধিতার অবস্থান বজায় রাখে এবং এক্ষেত্রে বিজেপি- হুমায়ূনের সখ্যতার তত্ত্ব তুলে ধরতে থাকেন তা ২০২৬ সালের নির্বাচন কেন্দ্রিক নতুন সমীকরণের সম্ভাবনার জন্ম দেয়।ভোটের কয়েকমাস আগে বাবরি মসজিদ গড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ রচনার স্বপ্নে বুঁদ হুমায়ুন কবীর ধাক্কা খেতে পারেন। এক্ষেত্রে, বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি কী অবস্থান নেয় তাও দেখার। আগে দেখে নেওয়া যাক হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক ভাগ্য মিমের অবস্থানে কতটা প্রভাবিত হয়।

হুমায়ুন ২২ তারিখে দল ঘোষণার আগেই বলেছেন,২০২৬ সালের ভোটে রাজ্যে ১৩৫ টি তাঁর আসন্ন ঘোষিত দল লড়বে তবে ৯০টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত  আসনে তাঁর পাখির চোখ। বেলডাঙা ও রেজিনগরে লড়ে তিনি জিতবেন আগাম ঘোষণা তাঁর। এত বুক বাজিয়ে জয়ের কথা বলছেন কি করে তিনি?

চার দলে ঘুরে আসা হুমায়ুন জিতবেন কিনা বলা খুবই মুশকিল। সরাসরি বিজেপির টিকিটে লড়ে আগেও তাঁর সুবিধা হয় নি। ২০১৯ সালে বিজেপির হয়ে মুর্শিদাবাদের লড়ে তৃতীয় হন তিনি।মুর্শিদাবাদে সরাসরি বিজেপির সহায়তা পেয়ে জিততে হলে যে ব্যক্তিগত জনসমর্থন একজন নেতার দরকার তা যে তাঁর নেই তা প্রকট হয়েছিল ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। নিজের স্বকথিত গড় নির্দল হয়ে কার্যত লড়ে হেরে গিয়েছিলেন তিনি সেবার। তিনি তাই এবার ধর্মের তাস খেলছেন অন্তত তৃণমূল তাই মনে করে। তৃণমূলের মত মিম ও জানিয়েছে, বিজেপির ইন্ধন পেয়ে হুমায়ুন কবীরের ভোটে লড়তে চাওয়ার মধ্যে রয়েছে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও ধ্বংসের রাজনীতি।

একদিকে  নিজের ঘরে বসে কপোলকল্পিত বিধানসভা আসন বিতরণ করে হুমায়ুন বলছেন, সিপিএমের সঙ্গে কথা হয়ে গিয়েছে। অধীর চৌধুরীকে কটি আসন ছাড়বেন তিনি তাও বলছেন হুমায়ুন। অধীরকে সম্প্রতি খুনি বলায় অধীর চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে বামের হয়ে সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলে বলেছেন, হুমায়ুন সিপিএমকে আহ্বান করার কে?  হুমায়ুন মিমের লোক আর মিম বিজেপি ফান্ডেড ভোট কাটুয়া। এমতাবস্থায় মিম মুখপাত্র আসিম ওয়াকার   সরাসরি হুমায়ুন কবীরের ক্ষেত্রে বলছেন, সারা ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ ধ্বংসের পথে হাঁটবে না। তাঁর ইঙ্গিত, ধর্মীয় ভাবাবেগ দিয়ে ভোট টানা যাবে না। অর্থাৎ হুমায়ুন কবীরের ভাগ্যাকাশে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ মিমের দাবি সত্যি বা মিথ্যে যাই হোক, বিজেপির পক্ষে  সরাসরি হুমায়ূনের হয়ে তদবির করার কোনও রাস্তা নেই। ইতিমধ্যেই বিজেপি, হুমায়ুন কবীর, মিম ও তৃণমূলকে একসুতোয় দেখানোর সমর- নীতি নিয়েছে।  সেক্ষেত্রে হুমায়ুনকে সংখ্যালঘু ভোটের উপরেই নির্ভর করতে হবে এবং এক্ষেত্রে মিম তাঁর অন্তরায়। প্রাসঙ্গিকভাবে, হুমায়ুন নামক ব্যক্তিকে আক্রমণ করে বিজেপিকে সামনে আনলেও মিমের মুখপাত্র এও বলেছেন, সবাই জানে হুমায়ুন কার ইশারায় নাচছেন। এখন এও প্রশ্ন, দড়ি কি খালি বিজেপির হাতে নাকি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আরও কোনো কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির যোগসূত্র রয়েছে?  তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে আর কেউ কি অদৃশ্যে  আছেন?

এখন লাখ টাকার প্রশ্ন, মিম হুমায়ুন ইস্যুতে সরাসরি হুমায়ুন বিজেপির লোক  তত্ত্ব খাড়া করে কেন সংখ্যালঘু ভোট হুমায়ূনের দিকে যাওয়ার রাস্তা আটকাতে চাইছে? এতে কি লাভ হবে মিমের?  প্রশ্ন এখন উঠতেই পারে, মিমের দলীয় বক্তব্যের অন্তরে ও গভীরে আরও সুগভীর কোনও রাজনৈতিক উপাদান লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে? সময়ই তা বলবে।

About Post Author