পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা, ২৮ ডিসেম্বর : এরকমটা কোনো বছরই হয়নি। বছর শেষে প্রতিবছর বিখ্যাত মানুষদের ফিরে দেখে বিশ্ব।যে খ্যাতনামা মানুষেরা সারাবছরে প্রয়াত হন বর্ষ শেষে তাদের স্মরণ করা হয়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে ২০২৫ সালে খ্যাতনামাদের মৃত্যুর অধ্যায় বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন ও রক্তাক্ত। ২০২৫ সাল যেন বিশ্বজুড়ে সেলিব্রিটিদের রহস্যময় মৃত্যুর বছর।
খ্যাতনামা মানুষদের বা সেলিব্রেটিদের প্রয়াণের সঙ্গে কখনও এত রক্তপাত ও হিংসা জড়িয়ে থাকে না। এত অস্বাভাবিক মৃত্যু মহাপ্রয়াণের অধ্যায়ে লেখা হয় না। ক্রমবর্ধমান হিংসা, জটিলতা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ ক্রমেই মানুষকে যে ঠেলে দিচ্ছে ক্রমশ অস্থিরতার দিকে তার প্রকাশ বিখ্যাত মানুষদের হিংসা বা অস্বাভাবিক কারণে মৃত্যুর ঘটনাবলীর মধ্যে লুকিয়ে আছে। এবছরে যে বিখ্যাত মানুষদের মৃত্যু আছে তাঁদের বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে রহস্য এবং অস্বাভাবিকতা। ২০২৫ সালে খুন, আত্মহনন অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে যে বিখ্যাত মানুষদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তালিকায় রয়েছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা, গায়ক, লেখক, রাজনীতিবিদরা। এই তালিকায় রয়েছেন ভারতের ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের একাধিক খ্যাতনামা নারী- পুরুষ। তালিকায় রয়েছেন জুবিন গর্গ থেকে রব রেইনার সহ বহু সেলিব্রিটি।
সেলিব্রিটিদের রহস্যময় মৃত্যুর বছর ২০২৫। প্রথমে ভারত থেকেই শুরু করা যাক। ভারতের বিখ্যাত গায়ক যার উত্থান অসম থেকে সেই জুবিন গর্গের দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি সকলেরই প্রায় জানা। এই মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু উন্মোচিত না হওয়ার রহস্য যা মৃত্যুকে অস্বাভাবিক ও সন্দেহের আওতায় নিয়ে এসেছে আর জুবিন গর্গ-এর মৃত্যু একটি রহস্যে পরিণত হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় তিনি জলের নিচে তাঁর প্রবল শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং জ্ঞান হারান, এরপর হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর মৃত্যুর কারণ খুঁজতে গিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ‘জলে ডুবে মৃত্যু’ (Drowning) তুলে ধরা হলেও আসামের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) মৃত্যুর ভিন্ন ভাবে তদন্ত করছে। তদন্তকারী দল জুবিন গর্গের মৃত্যুকে “খুন” হিসেবেই তদন্ত করছে, কারণ সন্দেহ করা হচ্ছে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাঁকে জলে নামানো হয়েছিল, এবং এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে, যদিও সিঙ্গাপুর পুলিশ এখনও কোনও দূরভিসন্ধি বা ‘ফাউল প্লে’ দেখছে না।অন্যদিকে,আসাম পুলিশের SIT-এর তদন্তে জানা যায়, জুবিন গার্গ সম্ভবত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং তাকে ইচ্ছেকৃতভাবে জলে নামানো হয়েছিল, যা ‘ফাউল প্লে’-এর ইঙ্গিত দেয়।এই ঘটনায় জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ফেস্টিভ্যাল আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত এবং ব্যান্ডের সদস্য শেখর জ্যোতি ও অমৃতপ্রভা মোহান্ত-এর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সিঙ্গাপুর পুলিশের তরফেও তদন্ত চলছে, যা সিঙ্গাপুর কর্নারস অ্যাক্ট অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।দ্বৈত ময়নাতদন্তর একটিতে আসামে যেমন খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তেমনই সিঙ্গাপুরের তদন্ত এখনও চলছে এবং একটি কর্নার’স ইনকোয়ারি (coroner’s inquiry) ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, “ঘটনার পিছনের সত্যতা বের করতে হলে সিঙ্গাপুরে উপস্থিত থাকা বাকি ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে”। তদন্তের এখনও নিষ্পত্তি হয়নি এখন দেখার এই মৃত্যু কান্ডে তদন্ত ও ঘটনা প্রবাহ কোন দিকে যায়।
সেলিব্রিটিদের রহস্যময় মৃত্যুর বছর ফিরে দেখতে এবার যাওয়া যাক বিদেশে। জুবিন গর্গের মৃত্যুর পেছনে সন্দেহভাজনদের বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য জানা না গেলেও ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একাধিক বিখ্যাত ব্যক্তির মৃত্যুর পেছনে আততায়ীদের অভিপ্রায় সুস্পষ্ট। বছর শুরু হতেই চলচ্চিত্র নির্মাতা জেফ বেনার মৃত্যু ঘিরে রহস্য দেখা দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে লস এঞ্জেলসে নিজের বাড়িতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে, লস এঙ্গেলস কাউন্টির মেডিকেল টিম জানায়, ৪৭ বছর বয়সী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক জেফ বেনা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। তবুও এই মৃত্যুতে বেশ কিছু প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি।
পরবর্তী যে মৃত্যুর ঘটনাটি বিশ্বকে নাড়া দেয় তা অভিনেত্রী মিশেল ট্র্যাচেনবার্গের। ২৬শে ফেব্রুয়ারী তার নিউ ইয়র্ক অ্যাপার্টমেন্টে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ৩৯ বছর বয়সী অভিনেত্রীর মৃত্যুর কারণ অজানা থেকে যায় কারণ অভিনেত্রীর পরিবার ময়নাতদন্ত করতে অস্বীকার করে অথচ নিউইয়র্ক সিটি মেডিকেল এক্সামিনেশন অফিস তার মৃত্যুর কারণ অনির্ধারিত বলে জানিয়েছিল। অচেতন ও প্রতিক্রিয়ায়হীন দেহে মৃত্যুর কোনও স্বাভাবিক কারণ খুঁজেও পাওয়া যায়নি।ফলে আইস প্রিন্সেস মুভির নায়িকার মৃত্যু রহস্য হয়েই থেকে গিয়েছে।
প্রায় একই সময় আরেকটি মৃত্যু রহস্য বিশ্বব্যাপী তোলপাড় ফেলে দেয় । দুবারের অস্কার বিজয়ী জিন হ্যাকমানের সস্ত্রীক মৃতদেহ মৃত পোষ্য কুকুর সহ আবিষ্কৃত হয়। একসাথে পাওয়া তিনটি মৃত্যুর পেছনে কারণ কি ছিল তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা কল্পনা। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে, কেয়ারটেকাররা নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে-তে তাদের বাড়িতে জিন হ্যাকম্যান ও তাঁর স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়ার মৃতদেহ খুঁজে পান। সঙ্গে মেলে তাদের পোষা কুকুরের মৃত দেহ।কার্বন মনোক্সাইডের কারণে মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল, তবে পরে তা বাতিল করা হয়।পরে বলা হয়, বেটসি আরাকাওয়ার হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায়। রহস্য উদঘাটনে জিন হ্যাকম্যানের মৃত্যু হয়েছিল মূলত হৃদ্রোগ (অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ) এবং অ্যালজাইমার্স রোগের কারণে, যা তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটিয়েছিল। তার পেসমেকার থেকে জানা গেছে, তিনি ১৮ ফেব্রুয়ারি নাগাদ মারা গিয়েছিলেন। বেটসি আরাকাওয়া আবার হ্যাকম্যানের মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে মারা যান। সর্বশেষে পোষা কুকুরটি সম্ভবত অনাহারে মারা গিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত বলা হয়েছিল যে, একসঙ্গে পাওয়া তিনটি মৃতদেহ রহস্যজনক বা অপরাধমূলক ঘটনার ফলশ্রুতি ছিল না, বরং বার্ধক্যজনিত বা রোগ বা অনাহারজনিত কারণে ঘটেছিল,তবুও প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে। হ্যাকম্যানের মৃত্যুর আগে তার স্ত্রীর মৃত্যু বা পরে কুকুরটির মৃত্যু অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল।
অ্যান বারেলের মৃত্যু রহস্যে ঢাকা ছিল। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত মার্কিন শেফ এবং ফুড নেটওয়ার্কের তারকা ছিলেন, ২০২৫ সালের ১৭ জুন ৫৫ বছর বয়সে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে নিজের বাড়িতে রহস্যজনকভাবে তাঁর মৃত্যু হয়। তীব্র বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিউ ইয়র্ক পুলিশের তথ্য অনুসারে, তাঁকে তাঁর বাড়ির বাথরুমে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে রহস্য থাকলেও,জুলাই মাসে বিভিন্ন পরীক্ষা ও তদন্ত থেকে আত্মহত্যাকে তার মৃত্যুর কারণ হিসাবে দর্শানো হয়েছিল।
এবছর সেপ্টেম্বর মাসে উল্লেখযোগ্য এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যু হয় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে যা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দেয় । ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ আমেরিকান ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী এবং ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’ (Turning Point USA)-এর প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্ক (Charlie Kirk) ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একটি আততায়ী হামলায় নিহত হন। তাঁর মৃত্যু ঘিরে অনেক জল্পনা ও রহস্য থেকেছে। চার্লি কার্ক সেদিন উটা ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কে বক্তব্য রাখছিলেন। এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় হঠাৎ পাশের একটি ভবনের ছাদ থেকে স্নাইপার রাইফেল দিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।গুলিটি সরাসরি তাঁর ঘাড়ে লাগে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনার পরের দিন টাইলার জেমস রবিনসন (Tyler James Robinson) নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবক পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তদন্তকারীদের মতে, রবিনসন একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। এফবিআই-এর তথ্যমতে, আততায়ী একটি স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করেছিলেন এবং ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন।চার্লি কার্কের মৃত্যু নিয়ে ইন্টারনেটে বেশ কিছু অমূলক তথ্য ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছিল ও ইসরায়েলের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ উঠে আসে। অনেকে দাবি করেছিলেন যে ইসরায়েল এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে, তবে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী একে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীকে ভুলভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তথাপি এই রহস্য মৃত্যু ঘিরে আজও অনেক মানুষের মনে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।
সেলিব্রিটিদের রহস্যময় মৃত্যুর বছর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই একের পর এক রহস্য মৃত্যু ও হত্যা লীলা সংগঠিত হয়েছে যার পরিণতিতে একাধিক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটি মৃত্যুর ঘটনাস্থল আমেরিকা। প্রথম উল্লেখযোগ্য মৃত্যু গায়ক জুবিলেন্ট সাইকসের।বিখ্যাত অপেরা এবং গসপেল গায়ক জুবিলেন্ট সাইকস (Jubilant Sykes) ৮ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় তাঁর নিজ বাড়িতে ছুরিকাঘাতে নিহত হন। পারিবারিক বিবাদ থেকেই খুন বলে পুলিশ জানিয়েছে। জুবিলেন্ট সাইকস এবং তাঁর ৩১ বছর বয়সী ছেলে মাইকাহ সাইকস (Micah Sykes)-এর মধ্যে বিবাদের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।রাতে সূত্র মারফত বিবাদের কথা জানতে পেরে পুলিশ তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে ৭১ বছর বয়সী গ্র্যামি মনোনীত গায়ক জুবিলেন্টকে মারাত্মক জখম অবস্থায় উদ্ধার করে। অতঃপর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর তাঁর ছেলে মাইকাহ সাইকসকে খুনের সন্দেহে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী দলের মতে, মাইকাহর মানসিক সমস্যার ইতিহাস রয়েছে।
পরবর্তী মৃত্যু রহস্যটি উপন্যাসের মতো। দ্য মাস্ক’ ও ‘পাল্প ফিকশন’-এর অভিনেতা পিটার গ্রিনের মৃত্যু রহস্যময়, কারণ তাঁর শরীরে আঘাত ছিল এবং একটি হাতে রহস্যঘন একটি লেখা পাওয়া যায়। নিউইয়র্কের লোয়ার ইস্ট সাইডের তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর শরীরে কিছু আঘাত ছিল এবং তিনি মুখ থুবড়ে পড়ে ছিলেন, মেঝেতে রক্ত জমাট বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।অকুস্থলে একটি হাতে লেখা নোটও পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল, “I’m still a Westie,” যা একটি আইরিশ গ্যাংয়ের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। পুলিশ অপরাধের নিশ্চিত প্রমাণ না পেলেও, আঘাতের কারণ এবং ডেথ নোটের জটিলতা মৃত্যুটিকে একটি রহস্যে পরিণত করেছে। তাঁর ম্যানেজার এবং বন্ধুরা এখনো রহস্যের সমাধান খুঁজছেন, নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং বর্ষ শেষেও চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্ট এখনও আসেনি।
বছর প্রায় শেষ হওয়ার মুখে আমেরিকান অভিনেত্রী ইমানি ডায়া স্মিথ (Imani Dia Smith) ছুরিকাঘাতে নিহত হন, এই ঘটনায় তার প্রেমিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি মূলত ‘দ্য লায়ন কিং’-এ শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।ডিসেম্বরের ২১ তারিখে নিউ জার্সির এডিসনে ছুরিকাঘাতে খুন হন। তার প্রেমিক জর্ডান ডি. জ্যাকসন-স্মলকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে বর্ষশেষে সবচেয়ে হইচই ফেলে দেয় বিখ্যাত হলিউড পরিচালক ও অভিনেতা রব রেইনার এবং তার স্ত্রী মিশেল সিঙ্গার রেইনারের হত্যাকাণ্ড। রব রেইনার ‘অল ইন দ্য ফ্যামিলি’ শো এবং ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’, ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’-এর মতো বিখ্যাত সিনেমা নির্মাণের জন্য পরিচিত ছিলেন।সাইকসের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডেরও মিল ছিল। পারিবারিক বিভাগের জোরেই পুত্রের হাতে খুন হতে হয় পিতা ও মাতাকে।১৪ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউড-এ তাদের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়; দুজনেরই ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয় এবং তাদের ছেলে নিক রেইনারকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি মাদকাসক্তি এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাদের পুত্র বর্তমানে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন, যা তার বাবা-মায়ের জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টার ঘটনাকে ঘিরে রহস্য তৈরি করেছে।পরিচালক ও অভিনেতা রব রেইনার (৭৮) এবং তার স্ত্রী মিশেল সিঙ্গার রেইনার (৭০) – দুজনের শরীরেই ছুরির একাধিক আঘাত ছিল। তাঁদের মেয়ে রোমি রেইনার বাড়িতে এসে মৃতদেহ দুটি আবিষ্কার করেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পরই তাদের ৩২ বছর বয়সে পুত্র নিক রেইনারকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে রক্তমাখা প্রমাণ পাওয়া যায়। ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের কথা বলা হলেও নিক রেইনার সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত এবং তাঁর মাদকাসক্তির ইতিহাস রয়েছে বলে জানা গেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। একটি পার্টিতে পারিবারিক বিবাদ কি এই ঘটনার পেছনে দায়ী নাকি রয়েছে অন্য আরো কোনও রহস্য – প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে।
২০২৫ সালে ইন্দ্রপতনের তালিকায় একাধিক রহস্য। বাস্তবেই, সেলিব্রিটিদের রহস্যময় মৃত্যুর বছর ২০২৫।
সেলিব্রিটিদের রহস্যময় মৃত্যুর বছর #সেলিব্রিটিদের রহস্যময় মৃত্যুর বছর


More Stories
কেন পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস?
মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ : মার্কিন -ইজরায়েল হানায় খামেনির আহত স্ত্রীর মৃত্যু
দোল উৎসব : রাঙিয়ে দিয়ে যাও