সময় কলকাতা, ১৮ জানুয়ারি : রবিবার সিঙ্গুরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন বঙ্গের শিল্প সম্ভাবনার কথা আর বললেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘এক জেলা এক পণ্য’ (One District One Product – ODOP) নীতি রাজ্যে কার্যকর করবে। এই নীতি আদতে কী? এই নীতির লক্ষ্যই বা কী? এই নীতির লক্ষ্য এককথায় জেলা ভিত্তিক শিল্পে জোয়ার এনে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রচেষ্টা। এক-জেলা এক-পণ্য (One District One Product – ODOP) ভারত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ যার লক্ষ্য প্রতিটি জেলার নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী এবং অনন্য পণ্যগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলিকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া। রবিবার পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে রাজ্যজুড়ে এই নীতি কার্যকর করা হবে। তবে এই নীতি দেশে প্রথম কার্যকর করা হয় উত্তর প্রদেশে।উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথমবার এই প্রকল্পের সূচনা করেন। উত্তর প্রদেশের ৭৫টি জেলার প্রতিটিতে একটি করে বিশেষ স্থানীয় পণ্য চিহ্নিত করা হয় এবং সেটির উৎপাদন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই উদ্যোগের সাফল্যের পর ভারত সরকার এটিকে দেশজুড়ে গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের (যেমন- PMFME) অধীনে এটি সারা ভারতে ছড়িয়ে দেওয়ার নীতি গৃহীত হয়।
এই প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য ও পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব কী? স্থানীয় শিল্পের বিকাশকে মাথায় রেখে প্রতিটি জেলার বিশেষ দক্ষতা ও মেধার ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যর পাশাপাশি রয়েছে
রপ্তানি বৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ। প্রতিটি জেলাকে একটি রপ্তানি কেন্দ্রে (Export Hub) পরিণত করা এবং স্থানীয় স্তরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্য রয়েছে এক-জেলা এক-পণ্য নীতিতে।প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে পশ্চিমবঙ্গের জেলাভিত্তিক কিছু সম্ভাবনাময় পণ্যের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে হুগলির ধনেখালি শাড়ি, পাটজাত পণ্য, হস্তশিল্প রয়েছে।
ইতিমধ্যেই বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলা থেকে প্রায় ৫৮টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে জেলা পণ্য হিসেবেকোচবিহার শীতল পাটি, দার্জিলিংয়ের চা, বাঁকুড়ার পোড়ামাটির কাজ উল্লেখযোগ্য।এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা মূলধন বিনিয়োগ, ব্র্যান্ডিং এবং বিপণনে সরকারি সহায়তা পেতে পারেন। সবমিলিয়ে, এই তত্ত্ব বা নীতি বিজেপি সরকারের উদ্ভাবনী নীতি যা বিভিন্ন রাজ্যের শিল্প অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।।
আরও পড়ুন ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী
গান্ধীজির নীতি ও মোদির “আত্মনির্ভর ভারত “- মিল ও অমিল