Home » ভরসা দিচ্ছে বারাসাত থানা, কী এমন করেছে পুলিশ!

ভরসা দিচ্ছে বারাসাত থানা, কী এমন করেছে পুলিশ!

পুরন্দর চক্রবর্তী ও দীপ সেন, সময় কলকাতা, ১২ ফেব্রুয়ারি:  পুলিশের নামে হাজার রকম সমালোচনা হামেশাই শোনা যায়।রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তাঁদেরকে প্রায়ই চটিচাটা বলে থাকেন। কেউ কেউ আবার দলদাস বলেন। কেউ বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দমনপীড়ন হাতিয়ার তাঁরা। অথচ অধিকাংশ মানুষ বুঝতে চান না পুলিশদের কাজ শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, একটি গুরুদায়িত্ব।ভাবেন না  এত সমালোচনার এবং হাজার প্রতিবন্ধকতার মাঝে মাঝে তাঁরা কিভাবে হাসিমুখে মানুষের সেবায় নিজেদের ব্যস্ত রাখে।পুলিশের ইউনিফর্ম যে মানুষের আস্থার প্রতীক তাও বিপদে না পড়লে সাধারণ মানুষ বোঝে না। তখনই আমজনতা পুলিশের গুরুত্ব আর উপকারী দিক টের পায় যখন তারা চরম সমস্যার অকুলপাথারে হাবুডুবু খায়, আর খড়কুটো হিসেবে আঁকড়ে ধরে পুলিশকে। যেমনটা বারাসাতে এসে টের পেলেন বসিরহাট মুন্সেফ পাড়ার শঙ্কর ঘোষ ও শ্রীলেখা ঘোষ। তাঁরা এখন বারাসাত থানার পুলিশকে দরাজ সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। এমন কী হয়েছে যে, হঠাৎ পুলিশের প্রশংসা পঞ্চমুখ হলেন এক দম্পতি?

বসিরহাট থেকে অত্যন্ত দরকারে টাকা নিয়ে বারাসাতে এসেছিলেন ঘোষ দম্পতি। বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেটের কাছে ব্যাগে রাখা এক লাখ দশ হাজার টাকা নামার সময় নিতে ভুলে যান তাঁরা।টোটোতে  বিশাল অঙ্কের টাকা খুইয়ে চোখে সর্ষে ফুল দেখছিলেন ঘোষ দম্পতি। অগত্যা বারাসাত থানার শরণাপন্ন হন তাঁরা। বারাসাত থানার ইন্সপেক্টর ইন চার্জ অভিজিৎ দাস যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্যোগ নেন হারানো টাকা উদ্ধারের। তিনি বারাসাত থানার পিসি পার্টি বা প্লেনক্লথস পার্টি যারা থানা এলাকার শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত তাঁদের তলব করেন। দুপুরে কাজের ফাঁকে একটু সময় পেয়ে খেতে বসেছিলেন প্রদীপ মাঝি। জরুরি অফিসিয়াল কাজে ছিলেন পৃথ্বীশ দত্ত। খাওয়া -কাজ বন্ধ রেখে উদ্বিগ্ন ঘোষ দম্পতির হারানো টাকা উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরা। তাঁরা এবং পিসি পার্টির অন্য সদস্যরা ছুটতে শুরু করেন , খোঁজ মিলছিল না নিরুদ্দিষ্ট টোটোর। টোটোর সূত্র ধরে কার্যত গরু খোঁজা করে পুলিশি দক্ষতায় শেষপর্যন্ত রাতে টাকা উদ্ধার করেন  পিসি পার্টির পুলিশ বাহিনী।

  যে কেউ বলতেই পারে পুলিশের এরকম হওয়াই স্বাভাবিক, এটাই তো তাঁদের কাজ। কিন্তু বাস্তব হচ্ছে যে,  উপকারী ভূমিকায় এরকম হাজার হাজার কাজ পুলিশ করে। প্রচারের আলোয় না থেকে মুখ বুজে দিনরাত তাঁরা বহু উদ্যোগ নিয়ে থাকেন যা সাধারণ মানুষ জানতেও পারে না, অন্যদিকে তাঁদের ইমেজ খারাপ করার যাবতীয় প্রচার চলতে থাকে। খ্যাতি যাদের প্রাপ্য তাঁদের জোটে সমালোচনা।  পুলিশের সাহায্য পেয়ে, টাকা ফেরত পেয়ে এখন খুশিতে ডগমগ ঘোষ দম্পতি, পুলিশের প্রশংসার পাহাড় তাদের ঠোঁটে। অথচ তাঁদের মত মানুষদের কে বোঝায় যে -প্রশংসা পাওয়ার বাসনায় পুলিশ কাজ করে না, প্রতিটি গলি-মহল্লাতে মানুষকে শান্তিতে এবং স্বাভাবিক ছন্দে রাখাই তাঁদের এক ও অভিন্ন লক্ষ্য। বারাসাত থানা আরেকবার বোঝালো, অহেতুক কটু কথা মানুষের আস্থার প্রতীক পুলিশের প্রাপ্য নয় ।।

About Post Author