Home » সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙ্গুল, উত্তরবঙ্গে সক্রিয় বালি মাফিয়ারাজ

সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙ্গুল, উত্তরবঙ্গে সক্রিয় বালি মাফিয়ারাজ

Oplus_131072

সানি রায়, সময় কলকাতা : নদীকে প্রতিনিয়ত  খুন করে চলেছে বালি মাফিয়ারা। সরকারি নির্দেশকে পরোয়া না করেই উত্তরবঙ্গে সক্রিয় বালি মাফিয়ারাজ।

সরকার বদলেছে,সময় বদলায়নি সরকারি নিয়ম ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে। অনেকক্ষেত্রেই সরকারি করা নিয়মকে প্রকাশ্যে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতেও ছাড়ছে না মাফিয়ারাজ।সরকারি নির্দেশ অমান্য করেই উত্তরবঙ্গের ডুডুয়া নদীতে বালি-মাফিয়াদের অবৈধ বালি উত্তোলন চলছেই। দেখা নেই প্রশাসনের।

বালি-মাফিয়াদের রমরমা কমার নাম গন্ধ নেই। সরকারের কড়া নির্দেশিকার পরেও বন্ধ হচ্ছে না নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ডুডুয়া নদী থেকে বালি তুলে তা বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ যে সত্যি তার প্রমাণও মিলছে হাতেনাতে।ভোরবেলা থেকেই নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার এমনই ছবি ধরা পড়ল সময় কলকাতার ক্যামেরায়।

অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি থানার অন্তর্গত মল্লিকসভা এলাকার সাধুরঘাটে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে বালি উত্তোলন চলছে। ভোরের আলো ফুটতেই নদী থেকে বালি তোলার কাজ শুরু হয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরে সেই বালি বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি নিয়ম মেনে রয়্যালটি জমা না পড়ায় রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে নদীর স্বাভাবিক চরিত্র ও পরিবেশের উপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে তিন মাস হল।রাজ্যে নবগঠিত বিজেপি  সরকার অবৈধ বালি উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছে সরকার। অবৈধ বালি খনন বন্ধে প্রশাসনের তরফেও একাধিকবার কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই ধূপগুড়ির মল্লিকসভা সাধুরঘাটে কীভাবে প্রকাশ্যে নদী থেকে বালি তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আশঙ্কা বেড়ে চলেছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও আশঙ্কা, নদীর পাড় ঘেঁষে যেভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে, তাতে আগামী দিনে নদী ভাঙনের প্রবণতা বাড়তে পারে। নদীর কাছেই রয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। বর্তমানে সেখানে ধান চাষ হচ্ছে। অতিরিক্ত বালি তোলার কারণে নদীর গতিপথে পরিবর্তন হলে কিংবা পাড় ভাঙন শুরু হলে চাষের জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই কাজ চলছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হোক। একইসঙ্গে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালি উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি এবং কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বালি মাফিয়াদের ভয়াবহ ট্রাডিশন ভাঙতে প্রশাসনের মুখাপেক্ষী স্থানীয় মানুষ।।

আরও পড়ুন প্রকৃতির প্রতিশোধ, বালি-মাফিয়াদের ট্রাক্টরকে গিলে ফেলল নদী

উত্তরবঙ্গে সক্রিয় বালি মাফিয়ারাজ #

About Post Author