সানি রায়, সময় কলকাতা , ৯ অগাস্ট : ক্রস বর্ডার ক্রাইমে বাধা দেওয়ার বদলা হিসেবে ভারত থেকে চা চাষিকে বাংলাদেশে তুলে নিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা। বিরাট অভিযোগের উপরে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিয়ে, প্রশ্ন সীমান্তরক্ষীদের ভূমিকা নিয়েও।
সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়ার জেরে এক ভারতীয় চা চাষিকে অপহরণ করে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কুকুরজান এলাকায়। অপহৃত চা চাষির নাম দীপঙ্কর গোপ (৩৫)। পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি সীমান্তে চোরাচালানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ‘বদলা’ নিতেই তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ৬ তারিখ চাউলহাটি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল এক বাংলাদেশি নাগরিক। বিএসএফের জওয়ানরা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরিবারের দাবি, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি চোরাচালানকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার গ্রেফতারের পর থেকেই সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এরপর শনিবার সকালে নিজের ছোট্ট চা বাগানে কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়েছিলেন চাউলহাটি সীমান্ত গ্রামের তসর পাড়ার বাসিন্দা দীপঙ্কর গোপ। তাঁর প্রায় ছয় বিঘা চা বাগান কাঁটাতারের ওপারে সীমান্তবর্তী এলাকায় রয়েছে। অভিযোগ, তিনি একাই বাগানে কাজ করার সময় আচমকা বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের একটি দল সেখানে ঢুকে পড়ে। তাঁকে জোর করে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিতে গেলে দীপঙ্করের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের ধস্তাধস্তি হয় বলেও অভিযোগ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিএসএফ। তবে ততক্ষণে দীপঙ্করকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরই অপহৃত ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধারের জন্য তৎপর হয় বিএসএফ। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিংও করা হয়। তবে রাত পর্যন্ত দীপঙ্করকে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যে দীপঙ্করের একটি ভিডিয়োও সামনে এসেছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশি ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হলে তাঁকেও ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে ভিডিয়োটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দীপঙ্করের বাবা মিছরিলাল গোপ বলেন, “ও সকালে বাগানে গিয়েছিল। সেখান থেকেই বাংলাদেশিরা ওকে ধরে নিয়ে গিয়েছে। প্রায় ২০ জনের মতো লোক এসেছিল। এখন দুই পক্ষের ফ্ল্যাগ মিটিং চলছে। কয়েক দিন আগে ওদের একজন কাঁটাতার কাটতে গিয়ে বিএসএফের হাতে ধরা পড়েছিল। তার বদলা নিতেই হয়তো পঞ্চগড়ের লোকেরা আমার ছেলেকে নিয়ে গিয়েছে। আমি আমার ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।”
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, “আমরা দীর্ঘক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি। কিন্তু এখনও দীপঙ্করকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। সীমান্ত এলাকায় আমাদের গ্রামের বহু মহিলা কাজ করতে যান। আজ একজন পুরুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আগামী দিনে মহিলারাও নিরাপদ থাকবেন কি না, তা নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”
ঘটনার পর সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অপহৃত চা চাষিকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিএসএফের তরফে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী এবং অপহরণের সঙ্গে সীমান্তপারের কোনও অপরাধচক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বিজিবি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।।


More Stories
বিজেপি আসতেই ধূপগুড়ির ছয় পরিবারে আশার আলো
ইসলামপুরে দুষ্কৃতীর গুলিতে নিহত প্রধান শিক্ষক
দেবরাজকে ১৫০ পাতার চার্জশিট, খারিজ জামিনের আবেদন