সানি রায়,সময় কলকাতা : আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের রাইমাটাং বনাঞ্চলের অন্তর্গত পানবাড়ি গ্রামের ডুক্পা সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার আজও মৌলিক নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের দাবি, ‘ফরেস্ট ভিলেজ’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
দুর্গম বনপথ পেরিয়ে গ্রামে পৌঁছাতে হয়। এখনও সেখানে পাকা রাস্তা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাথমিক বিদ্যালয়, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। বর্ষাকালে গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং অসুস্থদের খাটিয়ায় করে কয়েক কিলোমিটার পথ পেরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় বা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র না থাকায় শিশুদের দূরের স্কুলে যেতে হয়, ফলে অনেকেই নিয়মিত পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাবে প্রসব, সাপের কামড় বা জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, ফরেস্ট ট্যাগের কারণে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, শৌচাগার, বার্ধক্য ভাতা, ১০০ দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও অনেক ক্ষেত্রে মিলছে না। বনাধিকার আইন, ২০০৬ অনুযায়ী জমির অধিকার পাওয়ার প্রক্রিয়াও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলে দাবি তাঁদের।vস্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা ফরেস্ট ট্যাগ প্রত্যাহার ও জমির পাট্টার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয় না। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার আবেদন জানিয়েও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাঁদের।
ডুক্পা সম্প্রদায়ের দাবি, ফরেস্ট ট্যাগ পুনর্বিবেচনা, গ্রাম পর্যন্ত পাকা রাস্তা, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ, বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি উন্নয়নের অধিকারও সমানভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।।


More Stories
বিরিয়ানির দোকানে ভাঙচুর, উত্তেজনা শিলিগুড়িতে
ব্যাঙ্ক গিয়ে নিখোঁজ, ক্লাব থেকে উদ্ধার গৃহবধূর দেহ
শীতলকুচিতে আক্রান্ত মীনাক্ষীর প্রশ্ন আইনের শাসন কোথায়!