সানি রায়, সময় কলকাতা,২৫ সেপ্টেম্বর : ভূমিধসে বিপর্যস্ত সিকিমের রিম্বি ।
আতঙ্ক ছিলই সিকিমে।আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সিকিমের বিভিন্ন প্রান্তে ধস নামছিল। আগস্ট মাসের পরে সেপ্টেম্বর মাসেও লাগাতার ভূমিধসের খবর আসছিল।৬, ১০ ও ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর সিকিম ও দক্ষিণ সিকিমের লোয়ার সাংমো, গ্যাংলা গ্রাম এবং পশ্চিম সিকিমের রিম্বি-খেচুপরি ও ইউকসোম এলাকায় দফায় দফায় ভূমিধস ও কাদার স্রোত নামার ঘটনা সামনে এসেছিলো। এইবার ফের ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে সিকিম। সিকিমের গ্যালশিং জেলার রিম্বি এলাকা বিপর্যস্ত ।
গত ১৩ আগস্ট থেকে সক্রিয় থাকা ভূমিধস গতরাতে নতুন দিকে মোড় নিয়ে সরাসরি জনপদে তথা গ্রামে ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। ধসের জেরে ইতিমধ্যেই দুটি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা মানুষের মৃত্যুর খবর নেই।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এখনও দুর্গত এলাকায় পুরোপুরি পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। ফলে বাড়িঘর, গবাদি পশু-সহ সম্পত্তির মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা শুরু হবে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শুক্রবার রিম্বির দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক শেরিং টি. ভুটিয়া। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের রাজস্ব ও বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দফতরের সচিব তথা রিলিফ কমিশনার রিনজিং চেওয়াং ভুটিয়া, IAS, গ্যালশিংয়ের জেলা কালেক্টর তেনজিং ডি. ডেনজংপা, ADC (Development) সুরত গুরুং, ADC (HQ) সুরেশ রাই, Roads and Bridges-এর DE সন্তোষ সিং-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা।এছাড়াও ইয়ুকসোমের SDM, গ্যালশিংয়ের DPO, BDO, DIO, বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং তিব্রুং GPU ও ওয়ার্ড পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এদিন প্রশাসনিক আধিকারিকরা দুর্গত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন এবং সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। ধসের কারণে ঠিক কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং এই মুহূর্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের কী কী প্রয়োজন, তা জানার চেষ্টা করেন তাঁরা।রাজ্যের রিলিফ কমিশনার জানিয়েছেন, প্রযোজ্য সরকারি নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। স্বল্পমেয়াদি ত্রাণের পাশাপাশি দুর্গতদের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ত্রাণ শিবিরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
মন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক শেরিং টি. ভুটিয়া দুর্গতদের আশ্বস্ত করে বলেন, রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। রিম্বির পরিস্থিতির কথা সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী। বিশেষ করে রাতে অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর আবেদন জানানো হয়েছে। সক্রিয় ভূমিধসের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে যে কোনও সময় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।
দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকরা নির্ধারিত রিলিফ ক্যাম্পেও যান। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির থাকার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। পরে সাংবাদিকদের নিয়ে একটি প্রেস কনফারেন্স করেন রিলিফ কমিশনার। সেখানে রিম্বির বর্তমান পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র এবং প্রশাসনের তরফে নেওয়া ত্রাণ ও উদ্ধারমূলক পদক্ষেপগুলি তুলে ধরা হয়।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন করা হয়েছে। তবুও আতঙ্ক কাটছে না। আরও বিপদ আসে কিনা সেই আতঙ্কে এখন বিনিদ্র রজনী কাটছে রিম্বির বাসিন্দাদের।।
ভূমিধসে বিপর্যস্ত সিকিমের রিম্বি #সিকিম


More Stories
“স্বেচ্ছাচারিতার” কাহিনী ফাঁস! জ্ঞানেশ কুমার কি চাপা পড়বেন গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে?
ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীকে মমতা, খামে বন্দি ঋত শিবির
জয়পুরে আক্রান্ত ককরোচ