বিশ্বজিৎ হীরা, সময় কলকাতা: নভেম্বর মাসেই হবে পুরসভার ভোট। তবে প্রথম দফায় সাত পুরসভার ভোটের ইঙ্গিত মিলল শুক্রবার, নভেম্বরে রাজ্যে পুরসভার ভোট হওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত গতকালের ইলেকশন কমিশনের বৈঠকে ।
আগামী নভেম্বর মাসেই রাজ্যে হতে চলেছে পুরসভার ভোট। পূজোর ঢাকের বাদ্যি শেষ হলেই বেজে উঠবে পুরসভার ভোটের বাদ্যি। আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করে দিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার জেলাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট জেলা মিউনিসিপাল ইলেকশন অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার। বৈঠকে পুরসভা নির্বাচনের সমস্ত প্রস্তুতির একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।। প্রশাসনিক প্রধানদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠকের পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্তা জানান, প্রথম দফায় কলকাতা ,হাওড়া, বালি, কালিম্পং, কার্শিয়াং ধুপগুড়ি এবং হলদিয়া এই ৭ টি পুরসভার নির্বাচন নভেম্বর মাসেই হতে পারে । যদিও ভোটে চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ভোটের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কারা দেখবে সে বিষয় নিয়েও এদিন ব্যাখ্যা করেন নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্তা।
পুরসভা গুলির সীমানা পুনবিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণের কাজ নিয়েও এদিন বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কলকাতা ও হাওড়া পুরো নিগমের ক্ষেত্রে আসন সংরক্ষণের জন্য ফরম বি প্রকাশ হবে ৭ ই অক্টোবর, অন্যান্য পুরসভার ক্ষেত্রে ৬ ই অক্টোবর প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার কাছ থেকে পাওয়া ইভিএম সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে বরাদ্দ করা হয়েছে। ২৯ শে সেপ্টেম্বর থেকে ৬ ই অক্টোবর পর্যন্ত ইভিএম এর ফার্স্ট লেভেল চেকিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর ইভিএম ব্যবস্থাপনার কাজে ইএমএমএস অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত আপডেট হওয়া ভোটার তালিকা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে গ্রহণ করা পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে খসড়া ভোটার তালিকা এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর প্রায় ৬৩০০ কি ভোট কেন্দ্রের জন্য ৩৭ হাজারে বেশি ভোট কর্মী প্রয়োজন। প্রতিটি বুথে একজনের সঙ্গে তিনজন অনুপাতে ভোট কর্মী মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা ও স্পর্শকাতর বুথ নিয়োগ আলোচনা হয়েছে এই দিনের বৈঠকে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সেক্টর এরেঞ্জমেন্ট সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেক্টর অফিসারদের নিজস্ব ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতেও বলা হয়েছে। অল পার্টি মিটিং ইউ এদিন নির্বাচন কমিশনার কমিশনের মতামত প্রকাশ করেছে।
কমিশনের প্রেস রিলিজ প্রকাশের দিন থেকেই মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর হবে বলেই জানিয়েছে। পাশাপাশি যে সকল পুরসভা এলাকায় ভোট নেই, সেই এলাকায় মডেল কোর্ট অফ কন্ডাক্ট প্রযোজ্য নয় বলেই জানানো হয়েছে কমিশনের তরফ থেকে। অর্থাৎ আসন্ন পৌরসভার সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে কোনরকম গাফিলতি রাখতে চাইছে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা, ইভিএম, ভোট কর্মী, আইনশৃঙ্খলা, প্রযুক্তি সমস্ত কিছুর প্রস্তুতি নির্দিষ্ট সময়সীবার মধ্যেই শেষ করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন।।
নভেম্বরে রাজ্যে পুরসভার ভোট #পুরসভাভোট


More Stories
“স্বেচ্ছাচারিতার” কাহিনী ফাঁস! জ্ঞানেশ কুমার কি চাপা পড়বেন গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে?
ফের রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেন মমতা, প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করলেন মমতার নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে
দেগঙ্গায় জিতবেন কে? বিদেশ নাকি মিন্টু সাহাজি?