ডিএ মামলায় জোরদার টানাপড়েন ! সুপ্রিম কোর্টে লিখিত মত জানাল রাজ্য। ফলে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে চলা দীর্ঘ মামলায় একধাপ এগোল সুপ্রিম কোর্টের প্রক্রিয়া। ডিএ নিয়ে রাজ্য বনাম কর্মীদের এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। ফলে সকলের নজর শীর্ষ আদালতের রায়ের দিকে।
হেডারঃ ডিএ মামলায় জোরদার টানাপড়েন !
সুপ্রিম কোর্টে লিখিত মত জানাল রাজ্যবকেয়া ডিএ নিয়ে হওয়া মামলায় সুপ্রিম কোর্টে লিখিত বক্তব্য জমা দিল রাজ্য। রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, শুনানিতে আদালত জানতে চেয়েছিল কোন কোন রাজ্যে কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স মেনে ডিএ দেওয়া হয় না। লিখিত বক্তব্যে সেটিরও উল্লেখ রয়েছে। প্রায় ১০টি রাজ্যে ওই সূচক মেনে ডিএ দেওয়া হয় না বলে আদালতে লিখিত ভাবে জানিয়েছে রাজ্য। ফলে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে চলা দীর্ঘ মামলায় একধাপ এগোল সুপ্রিম কোর্টের প্রক্রিয়া। রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, আদালতের আগ্রহ ছিল—কোন কোন রাজ্য ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোক্তা মূল্য সূচক মানে না। সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই রাজ্য লিখিতভাবে জানিয়েছে, প্রায় ১০টি রাজ্য এই সূচক না মেনে ডিএ দেয়। পাল্টা হিসেবে মামলাকারী সরকারি কর্মচারীদের আইনজীবী করুণা নন্দী আদালতের কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশের অনুমতি চেয়েছেন। যদিও সুপ্রিম কোর্ট আগেই এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। এখন সেই সময়সীমার মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জমা দিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ। গত ৮ সেপ্টেম্বর ডিএ মামলার শুনানি শেষ হয় সুপ্রিম কোর্টে। রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত। তবে জানিয়েছিল, কোনও পক্ষের যদি অতিরিক্ত কিছু বলার থাকে, তা লিখিত আকারে জমা দেওয়া যাবে। রাজ্যকে আগেই ডিএ-র ২৫% মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। এ জন্য ছ’সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে পারেনি। আদালতের কাছ থেকে আরও ছ’মাস সময় চাওয়া হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে গত ৪ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট প্রতি দিনই শুনানি চলেছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কারোল এবং বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চে। এর পরে গত ১২ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছিল। এই মামলার মূল বিষয়— কেন্দ্রীয় হারে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না। এই মামলায় ২০২২ সালে হাইকোর্ট কর্মীদের পক্ষে রায় দিয়ে জানায়, ডিএ কোনও দয়ার দান নয়, এটি রাজ্য সরকারি কর্মীদের অধিকার। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে আসে রাজ্য। রাজ্যের বক্তব্য—মহার্ঘ ভাতা বাধ্যতামূলক নয়, এটি মৌলিক অধিকার নয় কর্মীদের। উপরন্তু, কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামো এক নয়, তাই কেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা চলে না। রাজ্য আর্থিক সঙ্কট রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত কোনও বরাদ্দ ছিল না। তারা সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ পুনর্বিবেচনারও আর্জি জানায়। অন্য দিকে, কর্মচারীদের দাবি— ডিএ দেওয়া সরকারের নীতিগত দায়িত্ব। নির্দিষ্ট সময় অন্তর, বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে ডিএ দিতে হবে। প্রয়োজনে বকেয়া কিস্তিতে দিলেও চলবে। সুপ্রিম কোর্টে সেই মামলার শুনানি শেষ হয় গত ৮ সেপ্টেম্বর। রায়দান স্থগিত রাখে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। সব মিলিয়ে, ডিএ নিয়ে রাজ্য বনাম কর্মীদের এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। ফলে সকলের নজর শীর্ষ আদালতের রায়ের দিকে।
ডিএ মামলায় জোরদার টানাপড়েন ! সুপ্রিম কোর্টে লিখিত মত জানাল রাজ্য
একই সঙ্গে ছুটিতে প্রধান বিচারপতি-সহ সুপ্রিম কোর্টের ২৫ বিচারপতি!


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী