রাত পোহালেই বাঙালির ঘরে ঘরে ধন-সম্পদের দেবী কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা। তবে উৎসবের এই আবহেও চিন্তার ভাঁজ সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীদের মুখে। এ বছর প্রতিমার চাহিদা আগের তুলনায় অনেকটাই কম, ফলে বিক্রি না হওয়া প্রতিমা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। একদিকে প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে — মাটি, খড়, রং ও সাজসজ্জার উপকরণের দাম আকাশছোঁয়া, অন্যদিকে ক্রেতার টান কম। ফলে হাতে তৈরি প্রতিমা বিক্রি না হলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তাঁরা।
উমার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার প্রস্তুতি। কিন্তু হিঙ্গলগঞ্জ ও সংলগ্ন এলাকায় ঘনঘন বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কাজেও ব্যাঘাত ঘটেছে। তবুও শেষ মুহূর্তে তুলির টানে ব্যস্ত শিল্পীরা, আশা করছেন অন্তত শেষ কয়েক দিনে কিছু বিক্রি হবে। হিঙ্গলগঞ্জের এক প্রতিমাশিল্পী বলেন, “আগে লক্ষ্মীপূজোর আগে অন্তত ২৫–৩০টা প্রতিমা বিক্রি হত, এ বছর এখনো অর্ধেকও যায়নি। খরচ উঠবে কিনা, সেটাই বড় চিন্তা।”
সব মিলিয়ে উৎসবের আনন্দের মাঝেও টানাপোড়েন চলছে প্রতিমা শিল্পীদের জীবনে। হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, হাসনাবাদ থেকে শুরু করে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে একই ছবি— মাটি, ঘাম, আর আশা নিয়ে কোজাগরী রাত্রির অপেক্ষায় শিল্পীরা।


More Stories
সর্প আতঙ্ক গ্রাস করছে ধূপগুড়িকে
আয়ুষ-দীপককে বুক দিয়ে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি আইসি সুবলের
জলে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু