নদিয়ায় বসে পাকিস্তানে যোগাযোগ? জাল পাসপোর্ট মামলায় সপ্তাহের শুরুতেই ফের অ্যাকশনে নামে ইডি। এবার স্ক্যানারে এক কাঠমিস্ত্রি এবং তাঁর ভাই রাজমিস্ত্রি। সন্দেহের বাইরে নেই তাঁদের বাবাও। সোমবার সাতসকালে নদিয়ার চাকদহের দুবড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পড়ারি গ্রামে হানা দেন তদন্তকারীরা। ১২ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে ওই গ্রামে যান তাঁরা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাঠমিস্ত্রি বিপ্লব সরকার, তাঁর ভাই পেশায় রাজমিস্ত্রী বিপুল সরকার এবং তাদের বাবাকে আটক করে ইডি।
সূত্রের খবর, বিপ্লব ও বিপুলের বাড়িতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। খতিয়ে দেখা হয় তাঁদের পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক নথি ও মোবাইল ফোন। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই ভাইয়ের নাম ভুয়ো নথি দিয়ে তৈরি পাসপোর্টের তালিকায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুয়ো নথি দাখিল করে পাসপোর্ট তৈরির চক্রটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত বছরের শেষে। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল ওই মামলায় পাকিস্তানি নাগরিক আজাদ মল্লিককে জাল পাসপোর্ট মামলায় গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। পরে জানা যায়, আজাদ মল্লিক ছদ্মনাম, আদতে ধৃতের নাম আহমেদ হোসেন! আন্তর্জাতিক হাওয়ালা চক্রে টাকা লেনদেনে জড়িত ছিলেন এই আজাদ। বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন তিনি।
পরে তাঁর কাছ থেকে পাকিস্তানের নথিও উদ্ধার হয়। জানা যায়, তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। কাঁচরাপাড়ার একটি ক্যাফে থেকে হাজার হাজার টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট-সহ অন্যান্য ভুয়ো নথি বানানোর কাজ করতেন তিনি। আজাদের জেরা চলাকালীন উঠে আসে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার গেদে সীমান্তের একাধিক সংযোগের তথ্য। এরপর নদিয়ার শিবপুর থেকে ইন্দুভূষণ হালদার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর চাকদহে একটি সাইবার ক্যাফে ছিল, যেখান থেকেই একের পর এক জাল পাসপোর্ট তৈরি হত বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং ভারতীয় নাগরিকত্বের নানা জাল নথি তৈরি করে দিতেন ইন্দু ভূষণ। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত তিনশোরও বেশি জাল পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে। আজাদের পাসপোর্টও নাকি ইন্দুভূষণই রিনিউ করে দিয়েছিলেন।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ইন্দুভূষণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল চাকদহের বিপ্লব সরকারের। সেই সূত্রেই এবার কাঠমিস্ত্রি বিপ্লব, তাঁর রাজমিস্ত্রি ভাই এবং বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে ইডি। বিপ্লবের পাসপোর্ট এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মোবাইলের কললিস্টও পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে ইডি। বলে রাখা ভালো, এর আগেও জাল পাসপোর্ট কাণ্ডে চাকদহে তিনবার হানা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
তদন্তকারীরা বিপ্লবের পাসপোর্ট ও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য ছাড়াও তাঁর মোবাইল কললিস্ট খতিয়ে দেখছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, এর আগেও অন্তত তিনবার চাকদহে অভিযান চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ফলে এ ঘটনায় পাকিস্তানি যোগ এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের দিকেও নজর দিচ্ছেন আধিকারিকরা। ইডির এই অভিযান SIR আবহে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পাসপোর্ট জালিয়াতি ও সীমান্ত চোরাপথে তথ্য পাচারের মধ্যে সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলছে। তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


More Stories
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!