পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ৭ নভেম্বর : ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও এবং পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সাফল্য এলেও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন অশনি সংকেত হয়ে দেখা দিয়েছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। ২০২৪ সালের ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, তৃণমূল ২০১৯ সালের চেয়ে ভালো ফোন করলেও শহর তথা পুরএলাকা তৃণমূলের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছিল। ২০২৪ সালের ভোটে দেখা গিয়েছে, গ্রামবাংলায় একপেশে জয়ের রাস্তায় হাঁটা তৃণমূল পুরসভা এলাকায় কার্যত ভালো ফল করতে ব্যর্থ। ৫১ পুরসভায় এগিয়ে ছিল তৃণমূল, ২’টিতে এগিয়ে ছিল কংগ্রেস আর ৬৯ পুরসভায় এগিয়ে ছিল বিজেপি। যার সুদূরপ্রসারী ফল হিসেবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিজয়ী তৃণমূল সাংসদকে তার আসন ধরে রাখতে হয়েছে গ্রাম বাংলার ভোটের ভিত্তিতে। গত কয়েকমাস ধরে পুরস্তরে নানা রকম সমীক্ষা চালিয়েছে শাসক দল। তার ভিত্তিতেই যোগ্যতম ব্যক্তির খোঁজ করছে শাসক দল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পুর এলাকায় কেন তৃণমূলের এই ভরাডুবি?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। ২০২৪ সালের ভোটের রিপিট টেলিকাস্ট হলে শিয়রে সমন।তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব খতিয়ে দেখেছেন, কেন ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পুরঅঞ্চলে ভরাডুবি।জনসংযোগ, নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতা ও দলের অন্দরে পুরসভার শীর্ষ ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়। পুরএলাকায় বিভিন্ন শীর্ষ নেতার পারফরমেন্স এর গ্রাফ দেখে এবং রাজনৈতিকভাবে তার প্রভাব পর্যালোচনা করে অনেক পুরনেতার কাজেই খুশি হতে পারেনি শীর্ষ নেতৃত্ব। জনসংযোগ ও নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান যে কার্যত ব্যর্থ হচ্ছেন এবং দু বছরের মধ্যেই মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ হারাচ্ছেন এমনটাই টের পায় তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশদে ময়নাতদন্ত করে তা নিয়ে সুনিশ্চিত হয় শীর্ষ নেতৃত্ব।
তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের একটি সূত্র অনুযায়ী,এরকম অবস্থায় অন্তত ৪২ টি পুরসভায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল নেতৃত্ব যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জনমানসে শাসক দলের ক্ষতিগ্রস্ত ইমেজ কে সংশোধন করতে পারে। নাগরিক পরিষেবা ও জনসংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত লোকের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়া প্রয়োজন। তবে পাশাপাশি একথাও বলা প্রয়োজন, বিভিন্ন শহরকেন্দ্রিক এলাকার সম্ভাব্য তৃণমূল প্রার্থীরা চাইছেন এলাকায় তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও গভীর হোক। তাঁরা ভোটের আগে ভোট টানার মত তাঁদের পছন্দসই মুখেদের নিয়ে আসতে চাইছেন। শীর্ষ নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই জল মেপে চলেছে। এখন দলের বিভিন্ন স্তর থেকে পুরবোর্ডের বিকল্প নেতৃত্বের নাম সুপারিশ করা হচ্ছে। দলের চোখে যাদের নাগরিক পরিষেবা দানে ব্যর্থতা আছে ও এবং জনসংযোগ ক্রমেই ক্ষয় পেয়েছে তাদেরকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। লক্ষ্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। ২০২৪ এর মত বেহাল না হয়ে শহর অঞ্চলে ভোট ব্যাংক ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য। সেজন্যই শুরু হয়েছে বিভিন্ন পুরসভায় চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান বদলের পালা।
ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি ও পূর্ব বর্ধমানে চেয়ারম্যান বা ভাই চেয়ারম্যান সরানোর বিষয়ে সিলমোহর পড়েছে। কাটোয়া, কালনা,দাইহাট বা উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়িতে পরিবর্তন হয়েছে বৃহস্পতিবার একাধিক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঝাড়াই বাছাই সম্পন্ন পূর্ব মেদিনীপুর বা উত্তর ২৪ পরগনার মত জেলাগুলির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায়। উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাত ও বনগাঁ পুরসভায় নজর দিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। বারাসাত পুরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায় পদত্যাগ করেছেন।সূত্রের খবর ফিরিয়ে আনা হয়েছে, ২০২২ পর্যন্ত বারো বছর চেয়ারম্যান থাকা সুনীল মুখোপাধ্যায়কে। উল্লেখ্য, মানুষের কাছে নাগরিক পরিষেবা যে চেয়ারম্যানরা পৌঁছে দিতে পেরেছেন , সর্বোপরি ভালো জনসংযোগ যাদের তাঁদের পারফরমেন্স কে বিবেচনা করা হয়েছে। দরকারে পুরবোর্ডের পুরনো নেতাদের ফিরিয়ে আনতে আর কাল বিলম্ব করতে চায় না তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। এককথায়,ভোট বড় বালাই,২০২৪ সালের ভোট মাথায় রেখে, ২০২৬ সালের ভোটকে পাখির চোখ করে বড় চেয়ার বদলাচ্ছে তৃণমূল শাসিত বিভিন্ন পুরসভায়।।
More Stories
নারদা কাণ্ডে “৫ লাখ টাকা ঘুষ “-এর উল্লেখ সুখেন্দু শেখরের সাংসদকে আক্রমণে
জেলে জায়গা হবে তো? কৃষ্ণ ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের মাফিয়া নন্দন গ্রেফতার
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির