Home » সুনীল মুখার্জীর মাস্টারস্ট্রোক : বারাসাত পুরসভায় শপথ নিয়ে চোখের জলে মিশিয়ে দিলেন বাঙালি অস্মিতা আর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা

সুনীল মুখার্জীর মাস্টারস্ট্রোক : বারাসাত পুরসভায় শপথ নিয়ে চোখের জলে মিশিয়ে দিলেন বাঙালি অস্মিতা আর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা

দীপ সেন ও পুরন্দর চক্রবর্তী : ১২ বছর পরে বারাসাত পুরসভার পুনরায় দায়িত্ব নিয়েই তাঁর ভাষণে আবেগকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সঙ্গে মিশিয়ে বাজিমাত করলেন বারাসতের পুরপ্রধান সুনীল মুখার্জী। সোমবার পেশায় শিক্ষক সুনীল মুখার্জী সকাল সকাল শপথ নিলেন বাংলায়। অতঃপর বক্তব্য রাখতে উঠেই  মাস্টারমশাই মাস্টারস্ট্রোক নিলেন। বললেন, ইংরেজিতে শপথ নেবেন না বাঙালি অস্মিতা থেকে প্রতিবাদ হিসেবে। তিনি বাঙালি, বাংলাদেশী নন – বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন। আবার সঙ্গে সঙ্গে ঋজু হয়ে দীপ্ত কণ্ঠে বুঝিয়ে দিলেন,ভেঙে পড়তে তিনি আসেন নি, এসেছেন তৃণমূলের বিজেপি বিরোধী তত্ত্বকে মান্যতা দিতে, বিজেপির বাঙালি বিরোধিতার তত্ত্বকে বারাসাতে নতুন দিশা দিতে। সবকিছুকে টেক্কা দিয়ে কালীপুজোর শহর বারাসাতের পুজো মণ্ডপের বাঙালি অস্মিতার  থিম অন্য ও অনন্য মাত্রা পেল সোমবার পুরসভায় সুনীল মুখার্জীর গলায় । তাঁর কামব্যকে মাস্টার স্ট্রোক হয়তো এখানেই, ভাষণে তুরূপের শেষ তাস চোখে পড়ার মত।

 শপথ গ্রহণের পরে বারবার তিনি তাঁর ভাষণে মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কেন প্ৰিয় শহর বারাসাত, কেনই বা মুখ্যমন্ত্রীর চোখ পড়ে থাকে বারাসাতে। পুনরায় নিযুক্ত চেয়ারম্যান বারবার বোঝালেন -স্বপ্ন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, তিনি আবার ফিরে এসেছেন, তাই বাকি কাজ অসমাপ্ত থাকবে না। অভিষেকের কথা বললেন,  মুখ্যমন্ত্রীর বারাসাতের উন্নয়নের জন্য স্টেডিয়াম সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি পূরণ করতে নগরের প্রধান হিসেবে  তিনি সচেষ্ট থাকবেন। বারাসাত শহরে তৃণমূলের কাণ্ডারি হিসেবে  “মানুষের কাছে,মানুষের পাশে” থাকার বার্তা নিয়ে  জনসংযোগ বাড়াবেন আর নাগরিক পরিষেবা দেবেন, প্রতিশ্রুতি তাঁর। আবেগকে কূটনীতির সঙ্গে মিশিয়ে নতুন করে আরেকবার পুরনো সহকর্মীদের পাশে নিয়ে পুরনো রাস্তায় পথ চলতে শুরু করলেন সুনীল মুখার্জী।।

 

About Post Author