Home » খেলায় রাজনীতি, রাজনীতির খেলা

খেলায় রাজনীতি, রাজনীতির খেলা

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ ডিসেম্বর : মর্নিং শোস দ্য ডে এবং অল ইস ওয়েল দ্যাট এন্ডস ওয়েল। দুটি ইংরেজি প্রবাদের একটি কাজ করে নি,  অপর প্রবাদটি খেটে গেছে মেসির ভারত-পর্ব ঘিরে। প্রভাত খারাপ কাটলে ও দিন যে ভালো কাটতেই পারে তা দেখা গেল আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ভারত সফরে। বিশৃঙ্খলা দিয়ে শুরু হলেও G. O. A. T INDIA TOUR 2025 সম্পাপ্ত হয়েছে উজ্জ্বল ও বর্ণময়ভাবে। তবে এই আয়োজনে সাফল্য ও ব্যর্থতায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। আর প্রশ্ন সেখানেই। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করাই কি ভারতীয় ফুটবলের শেষ কথা?

কলকাতা, হায়দ্রাবাদ, মুম্বাই শেষে দিল্লিতে এসে এবারের মেসির ভারত সফর সমাপ্তি ঘটেছে। শেষ ভালো যার সব ভালো তার। মেসি ভারতে আবার ফিরে আসার কথা বলে গেলেন। তিনি বেশ কিছু কথা বললেন, সুন্দর অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের কথাও বললেন, পরিশেষে বললেন, “আমরা এই সমস্ত ভালবাসা আমাদের সাথে বয়ে নিয়ে যাব এবং আমরা অবশ্যই ফিরে আসব, আশা করি একদিন একটি ম্যাচ খেলতে বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে তা হবে, তবে আমরা অবশ্যই ভারত সফরে ফিরে যাব।
আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ।” শেষ পর্যন্ত, বহুল প্রচারিত এবং প্রত্যাশিত ইভেন্টটি সুসম্পন্ন হল যেমনটা আশা ছিল। অতএব, শনিবার সফরের প্রথম পর্বে কলকাতায় বিশৃঙ্খল সূচনা হলেও মেসির ভারত সফর শেষ হল গৌরবোজ্জ্বলভাবে। এখান থেকেই শুরু হল রাজনৈতিক বিতর্ক। কলকাতা যা পারল না তা কেন অন্য রাজ্যগুলি পারল? শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিকভাবে বিজেপি- তৃণমূল তর্জা। ঢাকা পড়ে গেল ফুটবল।

বলা বাহুল্য, কলকাতা কলঙ্কিত হয়েছে অব্যবস্থা ও ভিআইপি সংস্কৃতিতে। কলকাতায় শতদ্রু দত্ত পুলিশের হাতে পাকড়াও হলেন। ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন অরূপ বিশ্বাস। আবার, অন্য তিনটি কেন্দ্রে মেসিকে চোখ ভরে দেখেছেন দর্শকরা। কিন্তু ফুটবলের প্রাপ্তি নিয়ে কে কথা বলছেন বলা মুশকিল। নিশ্চিতভাবে মেসির আগমন ভারতীয় ফুটবল প্রেমীদের কাছে গৌরবের বিষয়। তবুও দিনের শেষে প্রশ্ন থাকছে।

কিন্তু গল্পের শেষে, দিনের শেষে ফুটবল কি পেল? কলকাতার ক্রীড়া অনুরাগীরা মন খারাপ করেছেন মেসিকে না দেখতে পাওয়ার জন্য কিন্তু মেসিকে বাকি ভারত চোখ ভরে দেখেছে। প্রশ্ন থাকবেই যে, মেসি উন্মাদনার পাশাপাশি কেন ভারতীয় ফুটবল কে নিয়ে উন্মাদনা দেখানো হবে না?  ফুটবল পরিকাঠামোকে কি আদৌ কিছু সদর্থক দিশা কবে দেখবে ? সাম্প্রতিক অতীতে বা সম্প্রতি  মেসি আসার আগেও বা ফিরে যাওয়ার পরেও ভারতীয় ফুটবলের কোনো প্রাপ্তিযোগ কি হয়েছে? বেশ কিছুদিন ধরেই ময়দানের মন ভালো নেই। ভারতীয় ফুটবল প্রতিদিন আরও বেশি করে মুখ থুবড়ে পড়ছে । মেসির আগমন ঘিরে উন্মাদনা এক জিনিস, ভারতীয় ফুটবলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন আরেক জিনিস। মেসিকে ঘিরে উন্মাদনার পাশাপাশি ভারতের ফুটবলকে অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা কি আদৌ করছেন সর্বভারতীয় ফুটবল প্রশাসকরা?  রাজনীতির ঊর্ধ্বে, সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কতটা উঠতে পারছেন ভারতের ফুটবলের সর্বময় কর্তারা?

ফুটবল প্রশাসক কল্যান চৌবের আমলকে বলা হচ্ছে ভারতের সবচেয়ে অন্ধকারতম যুগ। প্রশ্নের অবকাশ নেই যে, কল্যাণ চৌবেরা ভারতের ফুটবল মানচিত্রকে ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড় করিয়েছেন। আইএসএল অনিশ্চিত, এদিকে ফুটবলে বছর খানেক আগে ১০০ র মধ্যে ফিফা ৱ্যাঙ্কিং এ থাকা ভারত পঞ্চাশ ধাপ পিছিয়ে গিয়েছে, বাংলাদেশ বা ফিফা র‍্যাংকিং- এ ভারতের চেয়ে পিছিয়ে থাকা অনেক দেশ ভারতকে হারিয়ে দিচ্ছে অনায়াসে। মেসি উন্মাদনা, মেসি জ্বরের শেষেও ভারতীয় ফুটবলের আঁধার আরও গভীরতর হচ্ছে। ফুটবল নিয়ে যারা মাথা ঘামান এবং যারা ভারতীয় ফুটবলে আসক্ত তাঁরা কী বলছেন?

ফুটবলপ্রেমীরা এ কথা বলছেন যে,মেসি আসুন, রোনাল্ডো আসুন – নতুন প্রজন্ম ফুটবলে উদ্বুদ্ধ হোক। পাশাপাশি ভারতীয় ফুটবলের কথাও ভুলে যাওয়া উচিত না। ভারতীয় ফুটবলের গুণগত মান উন্নয়নের কথা ভোলা উচিত নয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের।  পথ হারিয়েছে ভারতের ফুটবল। রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে ভারতের ফুটবলকে কারা পথ ও  আলো দেখাবেন সেটাই জানা নেই। বিশবাঁও জলে ভারতের ফুটবল। খেলায় রাজনীতি, রাজনীতির খেলা বন্ধ হয়ে ফুটবলের উন্নতি ভারতে আর কবে হবে?

About Post Author