Home » জলপাইগুড়ির মেয়ে খালেদা জিয়া

জলপাইগুড়ির মেয়ে খালেদা জিয়া

সানি রায়, সময় কলকাতা, ৩০ ডিসেম্বর : দীর্ঘশ্বাস ভাসছে জলপাইগুড়ির বাতাসে। তাদের পুতুল ঘুমিয়ে পড়েছে। যখন আপামর জলপাইগুড়িবাসী জেনেছে যে  দশ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে থাকা তাঁদের ঘরের মেয়ে পুতুল তারার দেশে পাড়ি দিয়েছে তখন তাদের বুকের গভীরে কষ্ট জমাট বাঁধছে।  জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তিতে ইস্কন্দর-তায়েবার কোল আলো করে যার জন্ম আর জন্মের পরে আদুরে পুতুল পুতুল চেহারার জন্য যে মেয়েটিকে প্রতিবেশীরা  পুতুল বলেই চিনত, সে পরবর্তীতে বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে খালেদা জিয়া নামে। ৯১ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন শাসক দল বিএনপির আমলে রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে উঠেছিলেন খালেদা। জলপাইগুড়ির মেয়ে খালেদা জিয়া নেই, তাঁর প্রয়াণে ব্যথিত জলপাইগুড়ি।

যে মহল্লায় যে বাড়িতে খালেদা জন্মেছিলেন -সেই মহল্লা, সেই গলি, সেই বাড়ি আজও আছে। খালি হাতবদল হয়েছে বাড়ির মালিকানার। দেশভাগের পরে মজুমদারের পরিবারের বাড়ি হয়েছে গোপ ও চক্রবর্তী পরিবারের। পুরনো ইটকাঠে আজও লুকিয়ে আছে মজুমদার পরিবারের স্পর্শ, এখন এবাড়ির মালিকরাও এখানে থাকেন না। এই সব তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা নেই। শুধু একটি বিষয়ে তথ্য অস্পষ্ট। নয়া বস্তির পুরনো মানুষরা বলছেন , দেশবিভাগের ঠিক পর মুহূর্তেই দেশ ছাড়েননি মজুমদার পরিবার। যদিও প্রচলিত তথ্য বলে, খালেদা জিয়া পরিবারের সঙ্গে মাত্র ২ বছর বয়সেই ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে যান। সেই তথ্য খারিজ করে স্থানীয় মানুষরা বলেছেন তারা বংশ পরম্পরায় শুনে এসেছেন, খালেদা বা পুতুল এখানের সদর গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করেছেন শৈশবের  কিছুদিন। স্কুলের বর্তমান শিক্ষকরাও বলেন তারা এমনটাই শুনেছেন। সত্যি মিথ্যের আলো-আঁধারিতে খালেদাকে নিয়ে কিছু মন কেমন করা কথা আজও জলপাইগুড়ির বাতাসে ভেসে বেড়ায়, স্বাধীনতার পরে তাদের ভারতে থাকা নিয়েও কিছু কাহিনী ব্যাকুল করে শহরকে। তবে চরম সত্য এই যে, ৮০ বছর বয়সে নয়াবস্তির পুতুল দূরের এক শহরে শেষ ঘুমে  ঘুমিয়ে পড়েছেন। জলপাইগুড়ির মেয়ে খালেদা জিয়া ঘুমোচ্ছেন – জলপাইগুড়ির দীর্ঘশ্বাস পড়ে, দীর্ঘশ্বাস ভেসে যায় নয়াবস্তি থেকে ঢাকায়।।

আরও পড়ুনফিরে দেখা ২০২৫ : সেলিব্রিটিদের রহস্যময় মৃত্যুর বছর

About Post Author